১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনড় অবস্থানে রাশিয়া ও তুরস্ক

  • সিরিয়ায় মস্কোর বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নীতি বদলাবো না ॥ এরদোগান

তুরস্কের হাতে রাশিয়ার বিমানভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনড় অবস্থানে রয়েছে দুটি দেশ। ওই ঘটনার জবাবে রাশিয়া সিরিয়াতে তৎপর এর জেটগুলোকে রক্ষা করতে অত্যাধুনিক বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং তুরস্কের আকাশসীমার কাছে এর বিমান বাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে। এদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তাইয়িপ এরদোগান ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাননি। তিনি বলেছেন, তার দেশ এর নিজস্ব নিরাপত্তা এবং ‘সিরিয়ার ভাইদের অধিকার রক্ষা করছে মাত্র। তুর্কি নীতির কোন পরিবর্তন হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। খবর ডেইলি মেইল ও ইয়াহু নিউজের।

তুর্কি-রুশ উত্তেজনা হ্রাস করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোর চেষ্টা সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সিরিয়ার লাতাকিয়ায় ভীতিকর বিমানবিধ্বংসী এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপে যথেষ্ট উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান।

এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হলো প্রায় ৪০০ কিলোমিটার (২০০ মাইল)। এর অর্থ হলো সেগুলো তুরস্কের গভীরে প্রবেশ করতে পারবে এবং সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক এমন কি সাইপ্রাসের আকাশে উড্ডয়নমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বিমানগুলোর জন্য সম্ভাব্য এক চরম হুমকি।

রুশ বাহিনী বুধবার লাতাকিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর ভারি বোমা বর্ষণ চালিয়ে যায়। ওই এলাকার কাছেই রুশ বিমানটি ভূপতিত করা হয়েছিল। বিদ্রোহীরা ও মনিটারিং গ্রুপ একথা জানায়। সেখানেই রুশ বিমানের দু’পাইলটের একজন তুর্কমেনদের নিয়ে গঠিত আলওয়েয়া আল-আসহার নামের সিরীয় বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তুরস্কের সঙ্গে তুর্কমেনদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয়েই সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপ চালিয়ে যায়। এটি সাবেক ঠা-া যুদ্ধকালীন বৈরীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দেয়ারই এক আভাস।

মঙ্গলবার রুশ জেটটি গুলি করে ভূপাতিত করা অর্ধশতকের ভিতর কোন ন্যাটো সদস্য ও রাশিয়ার মধ্যে প্রকাশ্যে স্বীকৃত সংঘর্ষের সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা। এটি সিরিয়ার জঙ্গী দল ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক চেষ্টাকে আরও জটিলতার মধ্যে ফেলে দেবে।

ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন, তুরস্ক এরূপ ঘটনা রোধ করতে অনেক চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু এর ধৈর্যের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে রাশিয়াকে বার বার সতর্ক করে দেয়া হয়।

এরদোগান বলেন, আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তা অবরত লঙ্ঘিত হওয়া এবং আমাদের সার্বভৌম অধিকার উপেক্ষিত হওয়ার মুখে আমরা নীরব থাকব, এটি প্রত্যাশা করা কারও জন্য উচিত হবে না। রুশ কর্মকর্তারা তুরস্কের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তারা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এদের মধ্যে রয়েছে রুশ পর্যটকদের তুর্কি অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর বাধা-নিষেধ আরোপ।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তুর্কি পদক্ষেপকে পরিকল্পিত কাজ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি সিরীয় সঙ্কটের এক রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টার ওপর প্রভাব ফেলবে।

দৃশ্যত রুশ জেটগুলো তুর্কি সীমান্তসংলগ্ন বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এক ক্রসিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে অপেক্ষমাণ কয়েকটি ট্রাকের এক ডিপোতে আঘাত হানে। সিরীয় জেটগুলো ইতোপূর্বে ওই এলাকা বাবস আল-সালামে হামলা চালায়, কিন্তু সর্বশেষ হামলাটি রুশরা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে এটি হবে তুর্কি ভূখ-ের সবচেয়ে কাছে মস্কোর পরিচালিত কোন হামলা। রুশ বিমান হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয় বলে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়।