২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধরাছোঁয়ার বাইরে রংপুর অধিনায়ক সাকিব

মোঃ মামুন রশীদ ॥ তাকে নেয়ার জন্য নজরটা সবারই ছিল। কারণ শুধু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অপরিহার্য এবং বিরল এক সম্পদই শুধু নয়, বিশ্বের যে কোন প্রান্তের ঘরোয়া ক্রিকেট আসরে তিনি সবারই আগ্রহের কারণ। যদি সেটা ক্ষুদ্রতম ফরমেটের টি২০ ক্রিকেট হয় তাহলে তো কথাই নেই। কারণ একাধারে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ এই তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে যেমন দুরন্ত, বল হাতেও তিনি প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। ভারতের আইপিএল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিপিএল এবং ইংল্যান্ডের ফ্রেন্ডস লাইফ টি২০ খেলেছেন। টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও তার। সে কারণে এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) সবাই তাকে দলে নিতে উন্মুখ ছিল। রংপুর রাইডার্স ভুল করেনি। শুধু নেতৃত্ব গুণ দিয়েই নয় বল হাতে ধারাবাহিকভাবেই ম্যাজিক দেখিয়ে চলেছেন এ বাঁহাতি স্পিনার। এবার বিপিএলের তৃতীয় আসরে ৪ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে শীর্ষে তার দল রংপুর। আগেরদিন ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেয়া সাকিব এদিনও সিলেট সুপার স্টারসের বিরুদ্ধে ৩১ রানে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। ক্রমেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন তিনি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ১০ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে সাকিব। আর বিপিএলের রেকর্ডে শীর্ষ উইকেট শিকারি ৪০ উইকেট নিয়ে।

উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার আগেরদিন রাতেই দেশে ফিরেছেন সাকিব সুদূর আমেরিকা থেকে। সেখানে তার স্ত্রী প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাই অনুশীলনের সুযোগ পাননি। পরদিনই খেলতে নেমে নিজে ব্যাট কিংবা বল কোনটি হাতে নিয়েই ভাল করতে পারেননি, তবে দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই বল হাতে ঝলসে উঠেছেন। বরিশাল বুলসের বিরুদ্ধে ব্যাটে এদিনও রান পাননি, মাত্র ৬ রান করেছিলেন। তবে বল হাতে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বিপিএলের সেরা হয়ে যান। এ আসরের ইতিহাসে সর্বাধিক উইকেট শিকারির স্থান দখল করে নিজের বিশ্বসেরা তকমাটা আরেকবার প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দেন। যদিও সে ম্যাচে দল হেরে যায়। তবে বিপিএলের শীর্ষ উইকেট শিকারি হওয়ার পরই যেন নিজেকে আরও ভালভাবে মেলে ধরা শুরু করলেন। তাছাড়া ঢাকা ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে একদিন বিশ্রামও পেয়েছিলেন। পরদিন নেমেই বল হাতে নিজের ভয়ঙ্কর মূর্তিটা দেখিয়েছেন। বিপিএলে নিজের সেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখান ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। বিশাল জয় পায় রাইডার্স। ব্যাট হাতেও ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।

সাকিব যে বড় পার্থক্য গড়ে দেবেন সেটা জানাই ছিল। তা প্রমাণ হয়ে যায় ডায়নামাইটস-রাইডার্স ম্যাচে। ক্রমেই দুর্ধর্ষ আর বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে প্রতিপক্ষের জন্য বড় শত্রুতে পরিণত হচ্ছেন সাকিব। ওয়ানডে-টেস্টের চেয়েও টি২০ ক্রিকেটে যেন আরও কঠিন সাকিব বিপক্ষ দলের ওপর। ২০১৩ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল) টি২০ আসরে মাত্র ৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দেন সাকিব। সেটি টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিং নৈপুণ্য কোন বোলারের। ৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে মালয়েশিয়ান অর্থোডক্স স্পিনার অরুল সাপিয়াহ। তিনি ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের ফ্রেন্ডস লাইফ টি২০ আসরে ওই কীর্তি গড়েছিলেন। অল্পের জন্য তাকে ধরতে পারেননি সাকিব। সেই সাকিব বল হাতে তার ম্যাজিক ধরে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার ৩১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছেন সিলেট সুপার স্টারসের বিরুদ্ধে। এ আসরে ৪ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে সাকিব। ৭ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছেন তারই সতীর্থ শ্রীলঙ্কান পেস অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।

এদিন ব্যাট হাতেও ৩৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। সবমিলিয়ে বিপিএলে তার সংগ্রহ ২৭ ম্যাচে ৪০ উইকেট। কেভন কুপার ২৩ ম্যাচে ৩৩ উইকেট নিয়ে দুই নম্বরে। ক্রমেই বিপিএল রেকর্ডে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে বিপিএলে ৬৭৩ রান করে তৃতীয় অবস্থানে তিনি। অর্থাৎ এখানেও অলরাউন্ডার হিসেবে এক নম্বর তিনি।