১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাগেশ্বরীতে ভোটের হাওয়া

রাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে পুরোদমে। জমে উঠেছে নির্বাচন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে মিছিল, মিটিং, ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। এক বছর আগে থেকে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সবার নজরে আসতে পোস্টার, ব্যানার টাঙায়। গত ঈদ-উল ফিতর, ঈদ-উল আযহা ও দুর্গাপূজা সম্ভাব্য প্রার্থীদের গতি বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সরকারের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে দোটানায় পড়ে গেছে প্রার্থীরা। তারা ভোটারের কাছে যাওয়ার চেয়ে মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাকর্মীদের দরজায় ধর্ণা দিয়ে জোর তদ্বিরে নেমেছে।

‘ক’ শ্রেণীর এ পৌরসভায় মেয়র পদে আট সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছে। পাড়া-গ্রাম, মহল্লায় বৈঠক করছে। দোয়া ও সমর্থনের ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, লিফলেটে ভরে গেছে পৌর এলাকার দর্শনীয় স্থান। কেউ কেউ আগে থেকেই রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় প্রচার থেকে পিছিয়ে নেই।

জাতীয় পার্টি থেকে টানা চার বার ও মহাজোট থেকে দুই বার জাতীয় পার্টির একেএম মোস্তাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মিয়া মেয়র হওয়ায় তার উপর এমপির বিশেষ নজর থাকায় কিছু উন্নয়ন করেছেন। মেয়রের মতে তার আমলে ‘খ’ থেকে ‘ক’ শ্রেণীতে পৌরসভাকে উন্নীতকরণ সবচেয়ে বড় অর্জন। নাগেশ্বরী পৌরসভায় ২০০২ সালে প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন ফাকু। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তার আমলে পৌরসভা ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়।

জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান মেয়র উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মিয়া প্রচারণায় রয়েছেন। জাতীয় পার্টির পৌর কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল ওহাব এবং উপজেলা কমিটির সদস্য ফজলু মিয়া রয়েছেন মাঠে। বর্তমান মেয়রের পক্ষে প্রায় দিনই মোটরসাইকেল শো-ডাউন দেখা যাচ্ছে। মেয়র আব্দুর রহমান মিয়া বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে তিনি একাই প্রার্থী হয়েছেন। আগে থেকেই তিনি মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমার আমলে এ পৌরসভা ‘খ’ থেকে ‘ক’তে রূপান্তর হয়েছে। উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আ ম প আনিছুর রহমান বলেন, জাতীয়পার্টি থেকে তিন প্রার্থী গণসংযোগ করছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় আছি আমরা। তবে যাতে এখানে জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র নির্বাচিত হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের পৌর শাখার সভাপতি আবুল হোসেন ভেন্ডার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এসএম রওশন আলম প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের গণেশ উল্টে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ পৌরসভার প্রথম মেয়র হোসেন ফাকু আবারও আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে জোর লবিং করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন দৌড়ে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র দাবিও করেছে। তিনি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পরে বিএনপিতে যোগ দেন। জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে হোসেন ফাকু জানান, তিনি আওয়ামী লীগ করে এসেছেন। তার মেয়র আমলে বিএনপি সরকার থাকায় কাজ করতে সে দলের সাথে গিয়েছেন। তবে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন ভেন্ডার বলেন, আশা করছি দলীয় মনোনয়ন পাব। নির্বাচনে জয়ী হলে নাগেশ্বরীকে ডিজিটাল পৌরসভা করার চিন্তা রয়েছে তার। নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছে। দলটির সমর্থকরা এখন অপেক্ষায় রয়েছে মনোনয়নের। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক প্রধান বলেন, পৌর নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নিবে সেভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা কাজ করব। এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পৌর বিএনপির সভাপতি আদম আলী সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে তোড়জোড় বেড়ে গেছে। দলটি প্রাথমিকভাবে প্রার্থী হিসেবে আদম আলীকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে। আদম আলী বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে তবে দলীয় প্রতীকের বিষয়টি কেন্দ্রের নির্দেশনার উপর নির্ভর করবে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রসুল রাজা বলেন, নাগেশ্বরীতে বিএনপি সুসংগঠিত রয়েছে।

কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি সাইফুর রহমান রানা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত নয়। কেন্দ্রের নির্দেশ পেলে নির্বাচন। তবে আমাদের প্রার্থী প্রস্তুত। দলীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে।

নির্বাচনে মাঠে না থাকলেও দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন নিয়ে তৎপর জামায়াত। তাদের প্রার্থী সিলেকশন হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। গত উপজেলা নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভুরুঙ্গমারীতে জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন প্রার্থী থাকার পরও বিএনপি প্রার্থী দিলে নির্বাচনে দু’দলই হেরে যায়।

তারপর থেকে এ জেলায় বিএনপি জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরে। উপজেলা জামায়াতের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মুজিবুল হক বেলাল বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে। যদি জামায়াত তাদের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পায় তাহলে এখানেও দাড়িপাল্লা মার্কায় পৌর প্রার্থী থাকবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রয়েছেন। তিনি পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। প্রচারণায় তিনি রয়েছেন প্রথম। পৌরসভাকে নিয়ে তার চিন্তা সুদূর প্রসারী বলে জানান তিনি।