২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাত খুনের আসামি নূর হোসেন দুদকে সম্পদের হিসাব দিতে ২ মাস সময় চেয়েছেন

মশিউর রহমান খান ॥ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন তার সম্পদের সঠিক হিসাব দাখিলের জন্য ২ মাসের সময় চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন। দুদকের দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার সম্পদের সঠিক হিসাব দাখিল করা সম্ভব নয় বিধায় এ সময় চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে তার কাছে সম্পদের কোন দলিলাদি না থাকায় উক্ত সময়ের মধ্যে সঠিক সম্পদের হিসাব প্রদান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নূর হোসেন। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট ২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত চিঠিটি দুদক সচিব বরাবরে পাঠিয়েছে নূর হোসেন। বর্তমানে তিনি এ কারাগারে আটক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য দেয়া চিঠিটি কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দুদক সচিবের কাছে পাঠান। গত ১৭ অক্টোবর কারাগারে আটক নূর হোসেনের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠায় দুদক। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার বরাবর পাঠানো উক্ত নোটিসে পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নূর হোসেনের সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে দুদক নারায়ণগঞ্জে নূর হোসেনের বাড়িতে তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়েও নোটিস পাঠায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জনকণ্ঠকে বলেন, কারাগারে বন্দী নূর হোসেনের কাছে গত ১৭ নবেম্বর দুদক কর্তৃপক্ষ আমাদের মাধ্যমে পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠায়। বৃহস্পতিবার ছিল এ নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন। ফলে নূর হোসেন আমাদের মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য অতিরিক্ত ২ মাস সময় চেয়ে দুদক বরাবরে চিঠি লেখেন। কারা কর্তৃপক্ষ উক্ত চিঠিটি কারা বিশেষ ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিবের কাছে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪-এর এপ্রিলের নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার পর নূর হোসেন পালিয়ে গেলে ২৯ মে তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সামান্য ট্রাক হেলপার থেকে কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন নূর হোসেন এমন অভিযোগ রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্ত এই কাউন্সিলরের প্রায় আট কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।