১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন বিচারপতিকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানি গ্রহণকারী হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতিরা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই বেঞ্চেই পিলখানা হত্যা মামলায় দায়ের করা সকল ডেথ রেফারেন্স ও আপীলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। পিলখানা হত্যা মামলার বিচারপতিরা হলেন- মোঃ শওকত হোসেনের নেতৃত্বে বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন এ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি এ্যার্টনি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল। তাদের সঙ্গে আছেন সহকারী এ্যার্টনি জেনারেল গাজী মোঃ মামুনুর রশীদ ও মোঃ আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রয়েছেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আমিনুল ইসলাম ও শামীম সরদার।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত ৫৭ জন সেনা সদস্যসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ বিডিআর সদস্যকে মৃত্যুদ- দিয়ে রায় দেয় বিচারিক আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে খালাসপ্রাপ্ত ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ আসামির সাজা চেয়ে আপীল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে দ-প্রাপ্ত ৪১০ আসামির সাজা বাতিল চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করেন তাদের আইনজীবীরা। গত ৪ জানুয়ারি রাতে সকল ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপীলের শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চটি গঠন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন। প্রথমবারের মতো এ বেঞ্চ বসে ৫ জানুয়ারি। ওইদিন এ মামলার বিরতহীন শুনানির জন্য ১৮ জানুয়ারি শুনানি শুরুর দিন ধার্য করে দেন বিশেষ বেঞ্চ। এরপর ১৮ জানুয়ারি থেকে শুনানি শুরু হয়।

পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে মোট সাজাপ্রাপ্ত ৫৭৫ আসামির মধ্যে মৃত্যুদ-ে দ-িত হন তৎকালীন ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ বিডিআর সদস্য। তাদের মধ্যে ১৪ জন পলাতক। বিশ্বের ইতিহাসে একটি মামলায় সবচেয়ে বেশি আসামির ফাঁসির আদেশের রেকর্ড গড়েছে এ রায়টি। এছাড়া বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু (মারা গেছেন) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ২৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।