২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝিন্দেই ‘বন্দি’ প্রেম রতন ধন

ঝিন্দেই ‘বন্দি’ প্রেম রতন ধন

অনলাইন ডেস্ক॥ ঝিন্দের বন্দি দেখেছেন? তপন সিংহের সেই বিখ্যাত ছবি! উত্তম কুমার, সৌমিত্র...। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি হয়তো অনেকেই দেখেছেন। আমি সম্প্রতি দেখে এলাম ঝিন্দের বন্দি। থুড়ি, প্রেম রতন ধন পায়ো।

আসলে, আমার মতো যাঁরা ঝিন্দের বন্দি দেখেছেন এবং সলমন খান-সোনম কপূরের নতুন ছবিটিও দেখেছেন তাঁরা হয়তো আমার সঙ্গে একমত হবেন। এই দু’টি ছবির মধ্যে একটি ব্যপারে অদ্ভুত মিল। ছবিদু’টির গল্প প্রায় এক। পঞ্চাশ বছরেরও আগে মুক্তি পাওয়া ঝিন্দের বন্দি-র গল্পটা কী মনে আছে? কলকাতার গৌরি শঙ্কর রায়ের (উত্তম কুমার) সঙ্গে আলাপ হয় মধ্যপ্রদেশের ঝিন্দ নামের একটি ছোট প্রদেশের দেওয়ানের। ঝিন্দের দেওয়ান (রাধামোহন ভট্টাচার্য) গৌরি শঙ্করকে জানান যে তাঁদের রাজা শঙ্কর সিংহ নিখোঁজ। কিন্তু এ খবর রাজ্যের কেউ জানে না। জানলে চাঞ্চল্য ছড়াবে তাই। তবে রাজার খোঁজ চলছে, গোপনে। এবং এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যে বা যাঁরা রয়েছে তাঁদেরও খোজ চলছে। এরই মধ্যে রাজার আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেকের দিন এগিয়ে আসছে। আর রাজ্যাভিষেকে রাজাই নেই, তা কখনও হয়! তাই যতদিন না রাজাকে পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন কলকাতার গৌরি শঙ্করকে রাজা শঙ্কর সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। প্রস্তাব শুনে গৌরি শঙ্কর তো অবাক! দু’টো মানুষ আলাদা। তাছাড়া, রাজ্যের মানুষ রাজাকে কে না চেনে! তার ভূমিকায় অন্য কেউ কী করে অভিনয় করবে? ঝিন্দের দেওয়ান সহজ গলায় উত্তর দেন, “আপনাদের দু’জনের চেহারাই যে হুবহু এক।” অর্থাত্ ছবিতে উত্তম কুমারের ‘ডবল রোল’। এর পর ঝিন্দের রাজার ভূমিকায় কলকাতার গৌরি শঙ্কর বেশ দক্ষ ভাবেই অভিনয় করেন। শুধু তাই নয় রাজাকে গুম করার পেছনে যাঁদের হাত, সেই উদিত সিংহ (তরুণ কুমার), গল্পে যিনি রাজার ভাই এবং রাজ্যের সেরা তলোয়ারবাজ, ষড়যন্ত্রের মূল চক্রি ময়ূরবাহনকে (সৌমিত্র চট্টপাধায়) উচিত শিক্ষা দিয়ে আসল রাজাকে সিংহাসনে বসিয়ে তবেই কলকাতায় ফেরেন গৌরি শঙ্কর।

১২ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবির গল্পও তো সেই একই পথেই হেঁটেছে। আমার জানা নেই প্রেম রতন-এর গল্পকার, পরিচালক সূর্য বর্জাতিয়া তপন সিংহের ঝিন্দের বন্দি দেখেছেন কিনা! তবে এ ছবির গল্প যে ভাবে এগিয়েছে তাতে এ ছবিকে ঝিন্দের বন্দির ‘রিমিক্স’ বলা যেতেই পারে। বা কোনও অলৌকিক ঘটনাচক্রে দু’টি গল্পের আকস্মিক মিল।

তাহলে কী ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতে দেখার মতো নতুন কিছুই নেই? তা কিন্তু নয়। এ ছবির সেট এবং তার রাজকীয় জমক অসাধারণ। প্রেম রতনের সঙ্গীত পরিচালক হিমেশ রেশমিয়া। ছবির আবহসঙ্গীত ও গানগুলি মন্দ নয়। এছাড়া, প্রিতমপুরের দেওয়ানের চরিত্রে অনুপম খেরের দৃপ্ত অভিনয়, ভাবি যুবরানির ভূমিকায় সোনমের স্নিগ্ধ অভিনয় নজর কাড়ে। তবে রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ভাইয়ের ভূমিকায় নিল নিতিন মুকেশ এবং তাঁর ম্যানেজার এ গল্পের প্রধান খলনায়ক চিরাগ সিংহে ভূমিকায় আর্মান কোহলির অভিনয় প্রশংসার দাবি রাখে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে এই ছবির মূল আকর্ষণ সেই সলমন খান। ঝিন্দের বন্দির উত্তম কুমারের মতো এ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে (যুবরাজ বিজয় সিংহ এবং প্রেম) রয়েছেন সলমন। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। বাণিজ্যিকভাবেও বেশ সফল সলমন-সোনমের এই ছবি। বক্স অফিসের হিসেবে এর মধ্যেই ২০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করে ফেলেছে সূর্য বর্জাতিয়ার এই ছবিটি। তাই প্রেম রতন যে প্রচুর ধন (টাকা) কামাচ্ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই ছবি দু’টির গল্পটা প্রায় এক হলেও নতুন অনেক কিছুই দেখার আছে। তাই যাঁরা এখনও ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ দেখেননি তাঁরা অবশ্যই দেখুন ছবিটা। আর সূর্য বর্জাতিয়াকে ধন্যবাদ চুয়ান্ন বছর আগে মুক্তি পাওয়া সেই অনবদ্য কাহিনিকে আর এক বার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা