২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’শর্ত সাপেক্ষে’ পৌর নির্বাচনে যেতে রাজি বিএনপি

’শর্ত সাপেক্ষে’ পৌর নির্বাচনে যেতে রাজি বিএনপি

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ’শর্ত সাপেক্ষে’ অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে নির্বাচন ১৫ দিন পেছানোসহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে দলটি।

বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন শুক্রবার রাজধানীর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।

নির্বাচনের তারিখ ১৫ দিন পিছিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘গণগ্রেপ্তার’ বন্ধ করা এবং কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

রিপন বলেন, ‘তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এমনিতেও জনগণের ভোটাধিকার সরকার হরণ করেছে। অপরদিকে জনগণ যখন কিছুটা ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তখনো সেই ভোটের মর্যাদাকে সরকার ভূলুণ্ঠিত ও পদদলিত করে। তারপরেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিদ্যমান প্রেক্ষাপটকে আমলে নিয়ে শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য এই নির্বাচনে শর্তসাপেক্ষে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

রিপন বলেন, ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় ৫০ লাখ নতুন ভোটার যোগ হবার কথা। ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ নির্বাচন হলে এসব নতুন ভোটাররা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না। ভোটগ্রহণ ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হলে এরা (নতুনরা) ভোট দিতে পারবে। এ ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে মনোনয়ন দেওয়া পর্যন্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়কে অপ্রতুল মনে করে বিএনপি। যৌক্তিক কারণে এ সময় বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠাবে বলেও জানান রিপন।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো ভুঁইফোড় সংগঠনকে কার্ড না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে এক জায়গা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সরকারদলীয় ক্যাডাররা হুমকি দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় পাহারা বসানো হয়েছে। তাই একাধিক জায়গা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রাখার শর্ত দিয়েছে দলটি। জনমত গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম খুলে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন আছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

দলটির পক্ষ থেকে আসাদুজ্জামান বলেন, কমিশনের জনবল থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। পৌর এলাকায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের অনুরোধে ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব এলাকায় ওসি ও ইউএনওদের রদবদল করতে হবে।