২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশনের

  • বিএনপিসহ কয়েকটি দলের দাবির প্রেক্ষিতে ইসি

শাহীন রহমান ॥ বিএনপিসহ কয়েকটি দল পৌরসভা নির্বাচন পেছানোর দাবি জানালেও নির্বাচন পেছানোর কোন সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশনের। ইসি জানিয়েছে, সঠিক সময়ে নির্বাচনের জন্য কম সময় হাতে নিয়েই পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেতে হয়েছে। সাধারণত কোন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৪০ থেকে ৪৫ দিন হাতে সময় নিয়ে থাকে ইসি। পৌরসভা নির্বাচনে মাত্র ৩৬ দিন সময় হাতে রেখেই নির্বাচনের তফসিল দিতে হয়েছে। এ কারণে প্রার্থীরা মনোনয়পত্র জমা থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই সময় কম দেয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়া হলে আগামী জুনের আগে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও অবশেষে পৌরসভা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে জোটের শরীকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, ভেতরে ভেতরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এ অবস্থায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পৌরসভা নির্বাচন ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। পৌরসভা নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে আগামী জুনের আগে পৌরসভা নির্বাচন করা ইসির পক্ষে সম্ভব হবে না।

শুধু বিএনপি নয় ক্ষমতাশীন জোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকেও তফসিল আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিলও আর কিছুদিন পিছিয়ে দেয়া দরকার। প্রয়োজনে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। দলের সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এক বিবৃতিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন। আইনী বাধ্যবাধকতার কথা বলে তাড়াহুড়োর মাধ্যমে এ নির্বাচন করা হলে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সময় খুব কম। তাই খুব তাড়াতাড়ি কাজ করতে হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে, জুনে নির্বাচন করতে হবে।

ইসি জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসজুড়ে হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি নতুন ভোটারদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। এ কারণে জানুয়ারি মাসে ইসির পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। ফেব্রয়ারি থেকে দেশজুড়ে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এ কারণে ভোট গ্রহণের জন্য কোন কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাও ইসির পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। এসএসসি পরীক্ষার পরেই আবার শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান এ দুই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পৌরসভা নির্বাচনের জন্য কোন কেন্দ্র পাওয়া যাবে না। এর পরেই আবার দেশজুড়ে শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। জানা গেছে, ডিসেম্বরের যেসব পৌরসভা মেয়াদ শেষ হচ্ছে এগুলোর নির্বাচন সঠিক সময়ের মধ্যে করতে না পারলে প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালাতে হবে। এ অবস্থায় বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের আবেদন আমলে নেয়া হলে পৌরসভা নির্বাচন ছয় মাস নির্বাচন স্থগিত রাখতে হবে। ফলে পৌরসভার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করাও সঠিক সময়ে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

পৌরসভা নির্বাচনে এবারই প্রথম মেয়র পদে দলীয় ভিক্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ইসির নিবন্ধিত দলগুলোকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। দলের নিবন্ধিত প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও এ নির্বাচনকে পেস্টিজিয়াস ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন। কোন কোন নেতার অভিমত হলো এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া নতুন প্রজন্মের অনেক ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ অবস্থায় যদি বিএনপির প্রতীক ধানে শীষ নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় না থাকে তাহলে বিএনপি নতুন প্রজন্মের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। তাদের মত হলো এ অবস্থায় রাজনীতির মাঠে ঠিকে থাকলে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। নিজের অস্তিত্বের স্বার্থে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

বিএনপি হাইকমান্ড থেকেও নির্বাচনের যাওয়ার প্রস্তুতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় শুক্র দলের মুখপাত্র এক সংসবাদ সম্মেলনে পৌরসভা নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান পিরন। তিনি বলেন, দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনে সংক্ষিপ্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত কম সময়ের মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া বা বাছাই করা দলের পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তিনি ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু ইসির কর্মকর্তার জানিয়েছেন বিএনপির কথামতো নির্বাচন পেছানো হলে জুনের আগে পৌরসভা নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে ২৩৬টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসির ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করবেন। ইসির জানিয়েছে নতুন এ আইনের কারণেই পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে। গত ২৪ নবেম্বর এ নির্বাচনের তফসিল দেয়া না হলে ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনই করা সম্ভব হতো না। এ অবস্থায় নির্বাচন পেছানোর কোন সুযোগই নেই।

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের জন্য আইনের সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এরপর ৩ নবেম্বর রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশে মাধ্যমের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সংসদের পুনরায় এ আইনের সংশোধনীয় আনায় আইন পাসের অপেক্ষায় তফসিল ঘোষণা অনেক পিছিয়ে যায়। এ অবস্থায় মাত্র ৩৫ দিন সময় হাতে নিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হয়েছে ইসিকে। এ অবস্থায় নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলে জুনের আগে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।