২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

কাওসার রহমান ॥ বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্যের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এই মুক্ত বাণিজ্যের যুগে প্রবেশ করছে। ভুটানের পর পরই বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এতে দেশ দুটির সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। মূলত তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ ভুটানের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দেশ দিয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই ভিত্তিতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। আগামী ১ ও ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকেই দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। পরবর্তীতে দুই সরকারের অনুমোদনের পর দেশ দুটির মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

বর্তমান যুগে বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে মুক্ত বাণিজ্য। পৃথিবীর বহু দেশই এখন দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা ও আলোচনা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন দেশের সঙ্গেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি। এবার সেই চক্রব্যুহ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে বাংলাদেশ।

ইতোমধ্যে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের তিনটি বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে মার্কেট এক্সেস, হাইড্রোপাওয়ার, ট্রানজিট, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র প্রক্রিয়া সহজীকরণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ প্রভৃতি বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এসব বৈঠকের আলোকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভুটানকে ১৮ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। ভুটান বাংলাদেশের কাছে আরও পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে। এগুলোও আসন্ন সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে।

দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর করবে। এ বিষয়ে ভুটানও আগ্রহ প্রকাশ করে। ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ট্যারিফ কমিশন একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় পিটিএ বা মুক্ত বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বলে উঠে এসেছে। এর ফলেই বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে পিটিএ করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এবারের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভায় অভ্যন্তরীণ নৌরুট ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ট্রানজিট হিসেবে অভ্যন্তরীণ নৌরুট ব্যবহারে আগ্রহী ভুটান ও বাংলাদেশ। এ জন্য ইতোমধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর, আরিচা, সিরাজগঞ্জ ও দইখাওয়া এবং মংলা থেকে কাওয়াখালী, বরিশাল, চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা, চিলমারী ও দইখাওয়া পর্যন্ত দুটি রুট নির্ধারণ করেছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় ড্রেজিং করা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আইডিএ ঋণ চাওয়া হলে তারা জানায়, ভারতকে অন্তর্ভুক্ত না করলে এ ঋণ পাওয়া যাবে না। তাই আসন্ন বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভায় আগামীতে ভারতকে অন্তর্ভুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভুটান ব্যবসায়িক ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সচিব পর্যায়ের সভায় আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ১৫ দিনের পরিবর্তে মাল্টিভিসার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে মাত্র দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই বাণিজ্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে।