২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন খ্যাতিমান বিচারকরা ॥ প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) বলেছেন, একক প্রচেষ্টায় বিদেশী সহায়তা ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়টি বিশ্বের বুকে অনন্য নজির। বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর দেশের খ্যাতিমান বিচারকরাও এ বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় আশ্চর্য হয়েছেন। এমনকি বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত একাধিক দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা বাংলাদেশে একক প্রচেষ্টায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অচিরেই সিলেটের সঙ্গে হাইকোর্টের অনলাইন সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। সিলেট থেকেই বিচার বিভাগের ডিজিটালাই-জেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এটি করা হলে, ঢাকায় বসে প্রতিদিন সিলেট আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ডিজিটালাইজেশনের দ্বিতীয় ধাপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি সংযোজন প্রক্রিয়াধীন আছে। এর ফলে বিদেশে বসেও বাদী কিংবা সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। সিলেটের প্রবাসীদের মামলার কাজে দেশে আসতে হবে না। তারা লন্ডনে বসেই মামলায় সাক্ষ্য বা বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট আদালত চত্বরে জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশভোজ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, নবীন আইনজীবীদের বরণ ও সিলেট বারের সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাঁর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান বিচারপতিদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একাধিক উন্নত দেশের বিচারপতি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হতে বাংলাদেশ সফরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। আগামী মাসেই রাশিয়ার প্রধান বিচারপতির বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের শাসন বলতে লোকজন মনে করে শুধু যথাযথ বিচার করা। প্রকৃতপক্ষে আইনজীবীদের যথাযথ অংশগ্রহণ ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

দেশের বিরাজমান মামলা জট নিরসনের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩১ লাখ মামলা বিচারাধীন আছে। এর সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন মামলা। এই মামলা জট কমিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমরা চাই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম দুটি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যুরোক্রেসি (আমলাতন্ত্র) ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। একজন বিদেশী বিনিয়োগকারী চায়, কোন কারণে তাদের বিনিয়োগ আটকা পড়লে বিচারের মাধ্যমে সে যেন দ্রুত সেটি ফিরে পাবার নিশ্চয়তা পায়। এ কারণে বিচার বিভাগ যত গতিশীল হবে, এ দেশে বিদেশী বিনিয়োগ তত বাড়বে।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তেই ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন সম্ভব নয়। তবে, সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টি আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভাগীয় শহরগুলোতে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহী। এ কারণে সিলেটসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থা ও আইন নিয়ে সেভাবে গবেষণা হচ্ছে না। আমাদের দেশে চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষিসহ নানা বিষয়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাহলে, আইন বিশ্ববিদ্যালয় কেন থাকবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভারতের গুজরাটে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট একেএম শমিউল আলমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোস্তফা দিলওয়ার আল আজহারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সদস্য এ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারী ও সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট অশোক পুরকায়স্থ।