১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শর্তসাপেক্ষে পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

  • তফসিল ১৫ দিন পেছানোর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার পাশাপাশি গণগ্রেফতার বন্ধ করে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, নির্বাচনের তফসিল ১৫ দিন পেছানো ও নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করাসহ কিছু শর্ত আরোপ করেন।

রিপন বলেন, দলের সিনিয়র নেতা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত বিশ্লেষণ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট হতে যাচ্ছে দলের মনোনয়নে ও দলীয় প্রতীকে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৬টি পৌরসভা

নির্বাচন হওয়ার কথা। এর তিন দিন পর ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি নতুন ৫০ লাখ ভোটার অন্তর্ভুক্ত হবে। এ ভোটাররা প্রথমবারের মতো ভোটদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আমরা ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করার দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৪৫ দিন সময় থাকে। এটা কনভেনশনাল। এবার মাত্র ৩৭দিন রাখা হয়েছে। তাই যৌক্তিক কারণেই সময় বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠাবে।

রিপন বলেন, নির্বাচন কমিশনের জনবল থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। পৌর এলাকায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের অনুরোধে ইউএনও ও ওসি নিয়োগ দেয়া হয়। এসব এলাকায় ওসি ও ইউএনওদের রদবদল করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিএনপি মনে করে সরকার জনগণকে কতটা তোয়াক্কা করে এই নির্বাচনে তার পরীক্ষা হবে।

রিপন বলেন, দেশ ও জনগণের কথা বিবেচনা করে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক রয়েছে। তিনি বলেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এমনিতেই জনগণের ভোটাধিকার সরকার হরণ করেছে। অপরদিকে জনগণ যখন কিছুটা ভোট দেয়ার সুযোগ পায়, তখনও সেই ভোটের মর্যাদাকে সরকার ভূলুণ্ঠিত ও পদদলিত করে। তারপরেও বিএনপি বিদ্যমান প্রেক্ষাপটকে আমলে নিয়ে শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ আকাক্সক্ষা পূরণ করার জন্য এই নির্বাচনে শর্তসাপেক্ষে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সুষ্ঠুভাবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বন্ধ সামাজিক মাধ্যমগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আরও দাবি করছি ভূঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে যে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অনুমতি দেয়া না হয়। তিনি বলেন, ২৩টি পৌর এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছি, বিএনপির প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মনোনয়নপত্র কিনতে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাই আমরা দাবি করছি একাধিক স্থানে মনোয়ন জমা দেয়া ও তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যৌথবাহিনী অভিযানের নামে গণগ্রেফতার করছে। তাতে বিরোধী দলের প্রার্থী-সমর্থকরা এলাকায় থাকতে পারছেন না। এই গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হবে না।

রিপন অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে বিরোধী দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের গণগ্রেফতারে সারা দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান কোন ভূমিকাও বিএনপি দেখতে পাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারপাম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এএসএম আবদুল হালিম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন আর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-আইন বিষয়য়ক সম্পাদক এ্যাভভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নিবার্হী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার, তকদির হোসেন জসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

দেশে গণতন্ত্র না থাকায় ‘জঙ্গী রাষ্ট্রের’ পরিচিতি পাচ্ছে-মাহবুব ॥ দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে এ কারণে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অল কমিউনিটি ফোরাম নামক একটি সংগঠন আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জ অব এক্সিট্রিমিজম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শান্তর দেশ। এদেশে কোন জঙ্গী থাকতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। এজন্য নানা গোষ্ঠী অপতৎপরতার সুযোগ পাচ্ছে। জঙ্গীর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কারণ, বিদেশীসহ সাম্প্রতিক সব হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করছে জঙ্গীগোষ্ঠী আইএস। কিন্তু সরকার বলছে, দেশে কোন আইএস নেই। তাহলে সরকার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে কেন প্রমাণ করছে না দেশে আইএস নেই? তিনি বলেন, আমাদের দেশ বার বার উগ্রবাদের শিকার হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এদের কঠোরভাবে দমন করতে না পারলে দেশ এক সময় সিরিয়া, আফগানিস্তানের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।