১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংকিং মেলায় সেবা সম্পর্কিত তথ্য জানছেন দর্শনার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকিং মেলা-২০১৫’র চতুর্থ দিন শুক্রবার সকাল থেকেই বাংলা একাডেমির খোলা প্রাঙ্গণ ছিল নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর। দুপুরের পর থেকে প্রতিটি স্টলে উপচে পড়া ভিড়। দর্শনার্থীরা আগ্রহভরে জেনে নিচ্ছেন বিভিন্ন ব্যাংকের সেবা সম্পর্কিত নানা তথ্য।

শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণের ৭১টি স্টলেই ব্যাংকের কর্মকর্তারা দর্শনার্থীদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জানাতে মহাব্যস্ত। এ্যাকাউন্ট ওপেনিং, স্কুল ব্যাংকিং, কৃষি ও পল্লী ঋণ, ডিপিএস, এফডিআর, কার লোন, হাউস লোন সম্পর্কিত তথ্য জেনে নিচ্ছেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। প্রায় সকলের আগ্রহ ছিল কম সুদে উচ্চমাত্রার ব্যাংক ঋণ। এ ছাড়াও আয়োজন ছিল সেমিনার ও প্রশ্নত্তোর পর্বের। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ হলে আয়োজিত ‘ব্যাংকার-গ্রাহক প্রশ্নোত্তর পর্ব’- এ ওঠে আসে ব্যাংকের নিয়ম-নীতি, সুদের হার, বিনিয়োগ, সঞ্চয় সম্পৃক্ত নানা প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরুপাক্ষ পালের সঞ্চালনায় প্রশ্নের উত্তর দেন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যাংকারগণ।

দেশ গড়ার ক্ষুদ্র কারিগর হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের অনেক ব্যাংক ছাত্রদের স্কলারশিপ দিচ্ছে। কিন্তু বিদেশ থেকে তারা আর ফিরে আসছে না। ছাত্রদের দেশে ফিরে আসতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংকাররা বলেন, দেশ উন্নত হলে দেশে আবারও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ফিরে আসতে বাধ্য। মেধাশক্তি পাচার রোধে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

মৎস্য উদ্যোক্তা মোরশেদ আলী খানের প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংকাররা বলেন, বাংলাদেশে মৎস্য শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিটি ব্যাংকই মৎস্য খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সুদের হার হ্রাস প্রসঙ্গে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা হায়দার বলেন, খুব বেশি দিন লাগবে না দেশে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যাংক এ লক্ষ্যে নিজস্ব কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এইচএসবিসির সাব্বির আহমেদ বলেন, গত এক বছরে আমাদের ব্যাংকের সুদের হার অনেক কমে এসেছে। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, বিনিয়োগকারীরা চায় স্বল্প সুদ আর সঞ্চয়কারীরা চায় উচ্চ সুদ। অর্থনৈতিক নানা কারণে এ দ্বৈত নীতির সমন্বয় গ্রাহক ও সঞ্চয়কারীর ইচ্ছানুযায়ী ঘটে না। তবে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। সঞ্চয়পত্রের পুরো বিষয়টি মূলত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে সুদের হার বৃদ্ধি নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনতে পারে। দুজন নারী উদ্যোক্তার প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংকাররা বলেন, নারী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি ব্যাংক গভীর মনোযোগের সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি ব্যাংকে নারী উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের সেবা দিতে আলাদা ডেস্ক করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের, সঞ্চয়পত্রে কোনক্রমেই লাভের অংশ যেন কমানো না হয়। অন্যদিকে কবি শামসুর রহমান মিলনায়তনে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, এসএমই ও ক্ষুদ্রঋণ’ শীর্ষক সেমিনারে মোট ৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবু হেনা রেজা হাসানের সভাপতিত্বে প্যানেলিস্ট হিসেবে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেবেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) ডিরেক্টর জেনারেল ড. খান আহমেদ সাঈদ মোরশেদ, বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ড. মোঃ হাবিবুর রহমান।

বিভিন্ন প্রবন্ধ ও বক্তাদের আলোচনায় অর্থনৈতিক নিয়ম-নীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের প্রতিবন্ধকতা এবং ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কিত নানা দিকনির্দেশনার কথা ওঠে আসে। বক্তারা বলেন, ব্যাংকের সেবার আওতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কথাটিও ভাবতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, গ্রাহক শ্রেণীর একটি গোষ্ঠীর মধ্যে এখনও ইসলামিক ও নন-ইসলামিক বির্তক রয়ে গেছে। ভ্রান্ত এ ধারণা দূর করতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সুদের হার হ্রাস ও তরুণ প্রজন্মের ভাল উদ্যোগে বিনোয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।

সবমিলিয়ে, শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ব্যাংকারসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসুক চোখে খোঁজতে থাকেন কাক্সিক্ষত সেবা। ‘এক আয়োজন সকল ব্যাংকিং সেবা’ সেøাগানে পাঁচ দিনব্যাপী চলমান এ মেলা শেষ হবে আজ।

নির্বাচিত সংবাদ