২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি-জামায়াতের সব আশায় গুড়েবালি ॥ নীলনক্সা ব্যর্থ

  • যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নতুন করে উজ্জীবিত

মোয়াজ্জেমুল হক ॥ কি আশা ছিল আর কী হয়ে গেল। সব আশায় গুড়েবালি। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে স্বাধীনতার বিপক্ষের সব শক্তিকে এক করেও কোন সফলতা এলো না। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী ধর্মান্ধ, উগ্র, মৌলবাদের আদর্শে দীক্ষিত, সর্বোপরি একাত্তরে যারা এদেশে স্বাধীনতা চায়নি, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, গণহত্যা, নারী ধর্ষণসহ হেন কোন অপকর্ম নেই ঘটেনি। দেশের স্বাধীনতার চার দশক পর আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে দেশের মানুষ জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও প্রগতির বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষে নয়। এ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থেকে যে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত করছে তাতে একের পর এক ইতিবাচক ফলই বয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সকল মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে চিহ্নিতদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে তাদের বিচার কাজ এগিয়ে নেয়া। ইতোমধ্যে অনেকের সাজা হয়েছে। কয়েকজনের ফাঁসির দ-াদেশ কার্যকরও হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপি নেতা সাকাচৌ ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ-াদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এসব ঘটনা দেশের প্রগতিমনা মানুষ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহস ও বুদ্ধিমত্তা এবং রাজনৈতিক ক্যারিশমেটিক চরিত্রের বহির্প্রকাশ ঘটেছে বলে সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।

তবে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গীবাদে জড়িত, মৌলবাদী জামায়াত-শিবিরসহ পবিত্র ইসলাম ধর্ম ব্যবহার করে যারা দেশে সহিংস সন্ত্রাসে লিপ্ত এদের সমূলে নির্মূল করার সময় এসে গেছে। দেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী। রাজনীতি রাজনীতির নিয়মে চলবেÑ এটাই মানুষ আশা করে। কিন্তু গেল সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে এবং নির্বাচন হওয়ার পরে দীর্ঘ সময় বিএনপি-জামায়াত দেশে জ্বালাও-পোড়াও, খুন, দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ আহ্বান করে দেশের সর্বনাশ ঘটানোর যে নীলনক্সা এঁকেছিল সরকারকে তাতে কুপোকাত করা যায়নি। উল্টো জনমনে এখন আলোচিত হচ্ছে বিএনপির মাজা ভেঙ্গে গেছে আর জামায়াত রয়েছে লাইফ সাপোর্টে। তবে জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা ফাঁকফোকরে কিছু অঘটনের জন্ম দিচ্ছে। হত্যা করছে বিদেশী নাগরিক, মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, হুমকি দিচ্ছে দেশের বুদ্ধিজীবীসহ গুণী ব্যক্তিদের। কারণ এরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির পক্ষে, প্রগতির সহায়ক। তাই আইএস নামে, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম নামে হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, হিযবুত তাহরিরসহ বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীর নামে এরা প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি প্রেরণ করছে। হিটলিস্ট করার বিষয় জানান দিচ্ছেÑ সংশ্লিষ্ট বোদ্ধামহলে আলোচিত হচ্ছে এসব প্রগতির কার্যক্রমকে থমকে দেয়ার অপচেষ্টা। বিশেষ করে যুদ্ধপরাধী বিচার বানচাল করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এসবের মাঝেও সরকার ইতোমধ্যে অটল অবস্থানে থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্নের পথে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে সর্বত্র সাধুবাদ মিলছে।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর পক্ষে এসব অপরাধীর জন্য সুপারিশ প্রেরণ করে এরা মূলত অর্থের বিনিময়ে এ পথে নেমেছে। এসব বিষয় ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে লবিস্ট নিয়োগ করা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনীতির জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর হওয়া বড় ধরনের চপেটাঘাত। আর দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে রাজনীতির নামে এই দুই দলের সহিংস কার্যক্রমের ফলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বয়ে এনেছে। হাজার হাজার মানুষ এদের সহিংসতার আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। প্রাণ হারিয়েছে অনেকে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অসংখ্য। স্ত্রী হারিয়েছেন স্বামী আর স্বামী হারিয়েছেন স্ত্রী, পিতা পুত্রকে, পুত্র পিতাকে, ভাই তার আদরের বোনকে, বোন হারিয়েছে তার ভাইকেÑ এভাবে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের ত্রাসের আগুনে স্বজন হারানোর বেদনা দেশজুড়ে এখনও গুমরে কাঁদছে। এর কি জবাব আছে বিএনপি রাজনীতির পরিচালক তথা নেতাদের। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধীরা এদেশকে শ্মশান বানিয়েছিল। এবার বানিয়েছে জ্বলন্ত অগ্নিকু-। কিন্তু যত কিছুই করুক না কেন, যতই নীলনক্সা হোক না কেনÑ সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে।

সূত্রগুলো বলছে, গণতন্ত্র রক্ষার কথিত নামে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা এদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যা চালিয়েছে তা হিংস্র দানবীয় কর্মকা-কেও হার মানিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রতি তারা যেভাবে হামলে পড়ে একের পর এক প্রাণ হরণ করেছে, তা কোনভাবে কোন মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ফলে প্রতিনিয়ত নিন্দিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত তথা তাদের সহযোগী দলগুলোকে নিয়ে গড়া জোটটি। এ জোটের অপর দলগুলো এমনিতে নামমাত্র। তার ওপর বর্তমান সরকারের রাজনীতির মারপ্যাঁচে এরা এমনভাবে কুপোকাত হয়েছে যে, এদের উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আর নেই। তবে বিএনপি এখনও নামসর্বস্বভাবে কিছু প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। আর জামায়াত নামমাত্র হরতাল ডেকে তাদের অবস্থান জানান দিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ফলাফল রয়েছে শূন্যের কোটায়। কারণ বিএনপির এখন নামসর্বস্ব বক্তব্য ও বিবৃতি এবং জামায়াতের অগ্রহণযোগ্য হরতাল জনগণ আর গ্রাহ্য করছে না। সাধারণ মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী। শান্তির মাধ্যমে রাজনীতি এগিয়ে চলুক। বিরোধী দলগুলো সুষ্ঠু রাজনীতির ধারায় অহিংস পদ্ধতিতে সরকারী কর্মকা-ে অপছন্দনীয় দিকগুলোর বিরোধিতা করুকÑ এতে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা যা করে এসেছে তা কারও কাছে সামান্যতমও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই বর্তমান সরকার উন্নয়ন কর্মকা-ের পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার কাজ নির্বিঘœভাবে চালিয়ে যেতে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, বর্তমান সরকারের ইতিবাচক কর্মকা-ের সফলতার শেষ নেই। কিন্তু দল ও অঙ্গ-সংগঠনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ রয়েছে। এদের কঠোরহস্তে দমন করা গেলে এ সরকারের কেশাঘ্র স্পর্শ করার সাহসও আর কারও থাকবে না বলে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে সরকারদলীয় এমপি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি দৃশ্যমান। এতে মানুষ আশান্বিত হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরও জোরালো করা হলে এ সরকারের কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অনাহুতভাবে বিরোধিতা করা, সহিংসতার মাধ্যমে তা দমানোর অপচেষ্টা চালানোর সাধ্য কারও থাকবে না বলে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। সঙ্গতকারণে বলা হচ্ছেÑ দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সমাজবিরোধী ও সরকারী অর্থের লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে সরকার নিজস্ব রাজনীতির আদর্শ উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সাধুবাদ প্রাপ্তির বিষয়টি আরও বিশালতা পাবে নিঃসন্দেহে।

সূত্রগুলো আরও বলছে, বিএনপি নেত্রী এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন তার অতীতের চরম ভুলগুলোর মাসুল তাকে গুনতে হবে। তার প্রিয়পুত্র বিভিন্ন মামলার আসামি, বর্তমানে ফেরারী জীবনে বিদেশে থেকে যেসব নির্দেশনা দিয়ে দলকে পরিচালনা করে গেছে তাতে ফলাফল হয়েছে বুমেরাং। এরপরও বিদেশে বসে তার বর্তমান সরকারবিরোধী মিথ্যা প্রচার ও ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। জামায়াত-জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে যে নীলনক্সার ছক আঁকা হয়েছিলÑ তার সবই একে একে উদ্ঘাটিত হয়ে গেছে। ধরা পড়ে গেছে মাঠে যারা এসব অপকর্ম চালাতে তৎপর হয়েছিল। পুত্রের সঙ্গে বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসে বিএনপি চেয়ারপার্সন তার দল ও সমর্থকদের জন্য কি বার্তা বয়ে এনেছেন, তা এখনও রহস্যাবৃত। খোদ নেতারাই দল কিভাবে চলছে জানে না। কর্মী সমর্থকরা তো যোজন-যোজন দূরে। বিএনপি ও ছাত্রদলের অনেকে বিভিন্ন স্থানে সরকারী দলে যোগ দিতে শুরু করেছে। মূলত এটা আত্মরক্ষার একটি কৌশল মাত্র। সুযোগ এলে ঠিকই বর্তমান সরকারী দলের ওপর ছোবল মারতে এরা বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। এ বিষয়টিও বর্তমান সরকারী দলকে কঠোর মনে ভেবে দেখতে হবে। ইতোমধ্যে সরকারী দলের মধ্যে শত্রুপক্ষ প্রবেশ করেছে বলে সরকারদলীয় নেতারা মতও ব্যক্ত করেছেন। এটা মোটেই অসত্য নয়। সূত্রমতে, বর্তমান সরকারী দল আওয়ামী লীগের গ্রামপর্যায় পর্যন্ত যে সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে এবং যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে তাদের সঙ্গে নতুন করে বিরোধিতাকারীদের দলে আসার সুযোগ দেয়ার অবকাশ থাকতে পারে না। কারণ এরা চিহ্নিত। এরা স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের বীজ। এই বীজ থেকে স্বাধীনতাবিরোধী মনারাই জন্ম নিতে থাকবে। যাদের রক্তে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, প্রগতির বিরোধিতার রক্ত প্রবহমান, তাদের সঙ্গে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির বন্ধুত্ব কখনও হতে পারে না। ইতিহাস তার নির্মম সাক্ষী। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিচারে মৃত্যুদ- পেয়ে দ-িত হওয়ার আগে পর্যন্ত বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরী নিজের পিতা ফকা চৌধুরীকে রাজাকার এবং নিজেকে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পাকিস্তানের পক্ষে থাকার বিষয়টি জোর গলায় বলতে কখনও দ্বিধা করেনি। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি থাকতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অন্যান্য সদস্য সাকার মতো করে না বললেও অন্তরে তাই যে পোষণ করে থাকে, এতে কোন সন্দেহ নেই, থাকতে পারে না।