১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াত বিএনপিকে দেশের মানুষ আর ভোট দেবে না ॥ নাসিম

 জামায়াত বিএনপিকে  দেশের মানুষ  আর ভোট দেবে না ॥  নাসিম
  • শহীদ ডাঃ মিলন দিবস পালন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে শুক্রবার পালিত হয়েছে শহীদ ডাঃ মিলন দিবস। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ডাঃ মিলন নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি গণতন্ত্রের শক্তি। তার আত্মত্যাগেই চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সুগম হয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা। ফলে আজ আমরা অবাধ গণতন্ত্র ভোগ করছি। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষ চিরদিন ডাঃ মিলনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শুক্রবার শহীদ ডাঃ মিলনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে মিলনের সমাধিস্থলে স্মরণ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। স্মরণ সভার আগে সকাল আটটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ বেদীতে এবং সকাল সাড়ে আটটায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শহীদ মিলনের মা সেলিনা আক্তার, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইনামুল হক, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ হাসান, মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সলানসহ সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আব্দুর রউফ সর্দার, যুগ্মমহামচিব অধ্যাপক ডাঃ এমএ আজিজ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নুরুল হক প্রমুখ। ১৯৯০ সালের ২৭ নবেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের অগ্নিঝরা উত্তাল সময়ে স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেয়া ঘাতকদের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে নিহত হন শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না ভোটাররা। দেশে জ্বালাও পোড়াও সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা ও জঙ্গীদের লালন পালনকারী জামায়াত-বিএনপিকে দেশের মানুষ আর ভোট দেবে না। নানা ধ্বংসাত্মক কর্মকা- ঘটিয়ে দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে জামায়াত-বিএনপি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অতীতের সকল হত্যাকা-ের বিচার করছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কোন সরকার কোন হত্যাকা-ের বিচার করেনি। বরং হত্যাকারীদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেছেন। আমরা বিচার না করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছি।

হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াত-বিএনপি দেশকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে ফেলে দিয়েছিল। স্থবির হয়ে গিয়েছিল দেশের উন্নয়ন, কতিপয় মানুষের বাহুবন্দী হয়ে পড়েছিল দেশের গণতন্ত্র। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে অন্ধকারের অটল গহ্বর থেকে টেনে তুলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। সামরিক স্বৈরতন্ত্র সৃষ্ট জঞ্জাল জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদের আবর্জনা জাতি আজীবন বয়ে নিতে পারে না। চিরদিনের জন্য আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে। জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ-মৌলবাদকে আশ্রয় দিয়ে বিএনপি ও বেগম জিয়াকে গণতন্ত্রের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনার অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার মিলন, শাহজাহান সিরাজসহ সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ওই সকল শহীদের ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখাতে স্বৈরতন্ত্রের রেখে যাওয়া গণতন্ত্রে নাজায়েজ ও হারাম শক্তি বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত-খালেদা জিয়া চক্রকে শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে।

অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সলান বলেন, শহীদ ডাঃ মিলন ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী এক সৈনিক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। মিলন গণতন্ত্রের শক্তি। তার আত্মত্যাগে সুগম হয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা। ফলে আজ আমরা অবাধ গণতন্ত্র ভোগ করছি।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এমএ আজিজ বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ডাঃ মিলন নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি গণতন্ত্রের শক্তি। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষ চিরদিন ডাঃ মিলনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ডাঃ মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে। কিন্তু মিলন যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়ে গেছে, তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। স্বৈরাচারের বিচার না হলে মিলনের আত্মা শান্তি পাবে না। দীর্ঘ বছরেও ছেলে হত্যার বিচার পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেলিনা আখতার।

এদিকে, ফুলেফুলে ভরে ওঠে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ ডাঃ মিলনের সমাধি সৌধ। শুক্রবার সকালে থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ডাঃ শামসুল আলম খান মিলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।