২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাদুঘরে হুমায়ূন ‍আহমেদ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ব্যাংক এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিকেলে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, মেহের আফরোজ শাওন। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। এছাড়া জাদুঘরের ২৩নং গ্যালারিতে হুমায়ূন আহমেদ রচিত বই-পুস্তক, পেইন্টিং, আলোকচিত্র ও স্মৃতিস্মারক নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার সৃজনশীল কর্মে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাঙালীর স্বপ্ন দেখা, জাগরণ ও জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন বহুমাত্রিক হুমায়ূন আহমেদ। তার ব্যক্তিগত স্মৃতি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। অতি সাধারণ ঘটনা তার দক্ষ জাদুঘকরী বর্ণনায় হৃদয় স্পর্শী হয়ে ধরা দেয়। তিনি আমাদের স্মরণে ও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

আনিসুল হক বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার গল্প, নাটক, উপন্যাসে বাস্তব ঘটনার বর্ণনার পাশাপাশি হাস্যরস তুলে ধরেছেন। বাঙালীর রসবোধ তীব্র। হুমায়ূন আহমেদ যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ দক্ষতায় তার সাহিত্যের উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আবার গুরুগম্ভীর বক্তব্যের পাশে তার হাস্য, রসাত্বক বক্তব্যে পাঠক, দর্শক আনন্দিত হয়েছে।

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জাতীয় জাদুঘর প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য, বাঙালীর সংগ্রাম, গৌরবের স্মারক যেমন সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে থাকে তেমন সমকালীন সাহিত্য, সংস্কৃতির নানা উপাদান সংরক্ষণ করে। হুমায়ূন আহমেদ রচিত গ্রন্থ ও অঙ্কিত চিত্রমালায় বাংলার রূপ বৈচিত্র্য ও বাঙালীর অর্জনের নান্দনিক দিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নন্দিতনরক ও শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মিসির আলী, হিমু, শুভ্র ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে সব শ্রেণীর পাঠকের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে পৌঁছেন। তার অসাধারণ বর্ণনা, কাহিনী বিস্তৃতি পাঠককে সহজে কাছে টানে। হুমায়ূন হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় মানুষ। হুমায়ূন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই। তার লেখনী ও গান আমাদের মাঝে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ।