২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমআরপি না পাওয়ায় ১০ লাখের বেশি প্রবাসী বেকায়দায়

  • আইকাওয়ের কাছে দু’বছর সময় বাড়ানোর অনুরোধ বাংলাদেশের

ফিরোজ মান্না ॥ দশ লাখের বেশি প্রবাসী এমআরপি পাননি। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইকাও) সিদ্ধান্ত বিগত সরকারগুলো সময় মতো বাস্তবায়ন না করায় বিপুলসংখ্যক নাগরিক এমআরপি পাননি। এমআরপি না থাকায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন। এখন তাদের একটাই পথ খোলা। সেটা হলো হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে শুধু দেশে ফিরতে পারবেন। অন্য কোন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না। অন্য কোন দেশে যেতে হলে তাদের অবশ্যই এমআরপি লাগবে। কারণ ২৪ নবেম্বরের পর থেকে বিশ্বের সব দেশের এয়ারপোর্টে এমআরপিই গ্রহণযোগ্য। অন্য কোন পাসপোর্টে ভ্রমণ করা যাবে না।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সিভিল এ্যাভিয়েশনের (আইকাও) কাছে এমআরপির জন্য আরও দুই বছর সময় বাড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইকাওয়ের পক্ষ থেকে জবাব দেয়া হয়েছে, তারা সদস্য দেশগুলোকে বিষয়টি জানাবে। পরে তারা বিষয়টি সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবে। আইকাওয়ের সদস্য দেশগুলোর এয়ারপোর্টে এমআরপি ছাড়া হাতে লেখা পাসপোর্ট গ্রহণ হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এমআরপি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলো দিয়ে যাবে। এতে প্রবাসীরা খুব একটা অসুবিধার সম্মুখীন হবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জনকণ্ঠকে বলেন, যে সংখ্যক প্রবাসীর হাতে এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) পৌঁছেনি-তাদের এমআরপি দেয়ার কাজ বন্ধ করা হয়নি। এমআরপি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা কখনও বন্ধ হবে না। বিদেশে তো অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও থাকেন। সেখানে তাদের সন্তান জন্ম নিলে কি তারা পাসপোর্ট পাবে না। অবশ্যই পাবে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আইকাওয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি বাকি যে ৫ থেকে ৬ লাখ প্রবাসী এমআরপি পায়নি তাদের জন্য আরও দুই বছর সময় বাড়িয়ে দিতে। আইকাও আমাদের আশ্বস্ত করেছে, সদস্য দেশগুলোকে বিষয়টি অবহিত করবে। এরপর আমাদের অনুরোধ নিয়ে আইকাওয়ের সাধারণ সভায় আলোচনা করে জানাবে। তবে এই মুহূর্তে কেউ দেশ থেকে বিদেশে যেতে চাইলে তাদের অবশ্যই এমআরপি লাগবে। যারা বিদেশে আছেন-তারা যদি দেশে ফিরতে চান তাহলে তারা হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়েই দেশে ফিরতে পারবেন। এ বিষয়টি আইকাও আমাদের নিশ্চিত করেছে। আমাদের প্রতিটি হাইকমিশন ও দূতাবাসে এমআরপি প্রকল্পের কাজ অব্যাহত থাকবে। যদি কোন নাগরিক এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যান তাহলে তো তার এমআরপির কোন প্রয়োজন নেই। যখন যাবেন তখন এমআরপি করে নেবেন। এটা বড় কোন সমস্যা না। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যারা কর্মী রয়েছেন, তারা তো যে দেশে কাজ করছেন সেই দেশে থাকছেন। চাকরিদাতারা তো আর এমআরপি আছে কি নেই সেই প্রশ্ন তুলছে না। যদি এমন প্রশ্ন উঠতো তখন একটা অসুবিধা দেখা দিত। যেহেতু এমন কোন বাধ্য বাধকতা নেই-তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত না।

এমআরপি প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান জনকণ্ঠকে বলেন, এমআরপি দেয়ার বিষয়টি চলমান। আমরা অনেকগুলো দেশেই কাজ করছি। যারা বাকি রয়েছেন, তারা সময় সুযোগ বুঝে পাসপোর্ট নিতে পারবেন। এটাতে খুব একটা জটিলতা তৈরি হবে না। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো হত্যাশাব্যঞ্জক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মানুষের মনে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখানে আতঙ্কের কিছু নেই। এমআরপির প্রয়োজন শুধু বিমান ভ্রমণের জন্য। যদি কেউ বিমান ভ্রমণ না করেন-তাহলে তার তো এমআরপির প্রয়োজন নেই। যারা দেশে ফিরতে চান তারা হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়েই দেশে ফিরতে পারবেন। তবে আবার বিদেশ যেতে চাইলে তাদের এমআরপি করে যেতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে দেশ থেকে এমআরপি করে নিয়ে যাবেন।

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের অনেক ফারাক রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ৯ নবেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, বিদেশে বসবাসরত ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জনকে এখনও যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) দেয়া সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী বলেন, বিদেশে মোট ৩৫ লাখ বাংলাদেশী আছেন।