২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি

রাশিয়া তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে। মস্কো আঙ্কারার কাছ থেকে রুশ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পেতে এখনও অপেক্ষা করছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। কিন্তু তুরস্ক এরূপ হুমকিকে ‘আবেগতাড়িত‘ ও ‘অশোভন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দু’দিন আগে এর বিমান তুরস্কের হাতে ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় যোগসাজশ করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, বিমানটি ঠিক কখন কোন্ পথে চলাচল করবে, তা আমেরিকানরা জানত। খবর ডেইলি মেইল ও ইয়াহু নিউজের।

রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ তুরস্কের বিরুদ্ধে কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে তার সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প স্থগিত রাখা এবং তুরস্ক থেকে খাদ্য আমদানির ওপর বাধানিষেধ আরোপ করা।

অর্থমন্ত্রী আলেক্সি উলাইউকায়েভ বলেন, মস্কো তুরস্ক অভিমুখী বিমান চলাচল সীমিত করবে, কোন যৌথ অবাধ বাণিজ্য এলাকা গঠনের প্রস্তুতি বন্ধ রাখবে এবং ট্রার্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন এবং ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয় সাপেক্ষ পরমাণু বিদ্যুত প্ল্যান্টসহ বড় বড় প্রকল্পের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করবে। রাশিয়া তুরস্কে ঐ প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে।

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তুর্কী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সব সহযোগিতা স্থগিত রেখেছে। সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলা সম্পর্কে তথ্য বিনিময়ের জন্য স্থাপিত হটলাইনও বন্ধ থাকবে। বার্তা সংস্থা ‘তাস’ এ খবর জানায়।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া তুরস্ক কেন জঙ্গী জেটটি ভূপাতিত করেছিল সেই সম্পর্কে আঙ্কারার কাছ থেকে যুক্তিসঙ্গত জবাব পেতে এখনও অপেক্ষা করছে। বিমানটি কখনও সিরীয় আকাশসীমা ছেড়ে যায়নি বলে মস্কো জোর দিয়ে জানাচ্ছে। কিন্তু আঙ্কারা বলছে, বার বার সতর্কবাণী দেয়া সত্ত্বেও সেটি সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিল।

তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ায় তুর্কী কূটনৈতিক মিশন ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। এর প্রতিবাদে আঙ্কারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হচ্ছে।

এরদোগান বলেন, তুর্কী আকাশ সীমা লঙ্ঘন করার এক ‘স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া’ হিসাবেই রুশ জেটটিকে নামানো হয়েছিল। সেনাবাহিনীকে দেয়া স্থায়ী নির্দেশ অনুযায়ীই সেটি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আঙ্কারা সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপন্থী বিদ্রোহী ও তুর্কমেন যোদ্ধাদের সমর্থন দিয়ে যাবে। এরদোগান সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ঐ ঘটনার জন্য তুরস্কের নয়, রাশিয়ারই ক্ষমা চাওয়া উচিত।

পুতিন বৃহস্পতিবার রাতে ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রুশরা বিমানটির গতিপথ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে আগেভাগেই তথ্য দিয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই তথ্য তুরস্কের কাছে ফাঁস করে দেয়। পুতিন সমবেত সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্ককে নিয়ে গঠিত কোয়ালিশনের নেতা আমেরিকান পক্ষ আমাদের বিমানগুলোর অবস্থান ও সময় সম্পর্কে জানত। আমাদের বিমানের ঠিক সেখানে ও ওই সময়ে আঘাত আনা হয়।

তিনি বলেন, আমরা কেন সেই তথ্য আমেরিকানদের দিয়েছিলাম? হয় তারা তাদের মিত্ররা যা করছে তা নিয়ন্ত্রণ করছে না, নয়ত তারা সেই তথ্য সবখানে ফাঁস করে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে পুতিন রুশ তুরস্কের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান। এরদোগান এরূপ কোন সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

রুশ বাহিনী পিছু হটার কোন লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তারা বুধবার লাতাকিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর আকাশ থেকে ভারি বোমা বর্ষণ করে। সেখানেই রুশ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। সীমান্তের তুর্কী অংশে অবস্থানরত এক সাংবাদিক সরকারনিয়ন্ত্রিত পশ্চিম লাতাকিয়া থেকে পূর্বদিকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর রকেট ও ট্যাঙ্কের গোলা বর্ষিত হতে দেখেন। এতে পাহাড়ী বনভূমি থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে। রুশ পর্যটন সংস্থার প্রধান রসট্যুরিজমের প্রধান বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা স্পষ্টতই বন্ধ হয়ে যাবে। রাশিয়ার অন্তত দুটি বড় ট্যুর অপারেটর তুরস্ক ভ্রমণের প্যাকেজ বিক্রি করা বন্ধ করে দেবে বলে জানায়। এর আগে রুশ কর্মকর্তারা পর্যটকদের তুর্কী অবকাশ কেন্দ্রগুলোতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। মস্কো বলছে, সিরিয়াতে এর সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য হলো ইসলামিক স্টেটসহ সন্ত্রাসী দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা। যে কোন বাধা সত্ত্বেও এ লক্ষ্য অবশ্যই অর্জন করতে হবে। তুরস্ক ও এর মিত্ররা বলছে, রাশিয়ার আসল লক্ষ্য হলো এর মিত্র আসাদের হাতকে শক্তিশালী করা এবং রাশিয়া মধ্যপন্থী বিরোধী পক্ষগুলোর ওপর বোমাবর্ষণ করছে।