২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিবাসী সঙ্কট ধ্বংস করতে পারে ইউরোকে ॥ জাঙ্কার

  • ইউরোপের আর সামর্থ্য নেই ॥ ম্যানুয়েল ভালস

অভিবাসী সঙ্কট একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ২৬ সদস্যবিশিষ্ট জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অভিবাসী নিয়ে এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কঠিন সময়ের মোকাবেলা করছে। যুদ্ধ ও দারিদ্র্য থেকে রক্ষা পেতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে এখন ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে। খবর ডেইল মেল অনলাইনের।

শরণার্থীদের সবচেয়ে চাপ নিতে হচ্ছে গ্রীসকে। দক্ষিণে হাঙ্গেরি থেকে উত্তরে ডেনমার্ক পর্যন্ত সব দেশকেই এই চাপ কমবেশি সামলাতে হচ্ছে। অভিবাসী আগমন বন্ধ করতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। শেনজেন চুক্তির আওতায় ইউরোপে পাসপোর্ট ছাড়া ভ্রমণের যে নিয়ম তিন দশক আগে চালু করা হয়েছিল সেটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরোপের দেশগুলো সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা শুরু করেছে। বিষয়টি এখন ইউরোপের রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান জাঙ্কার অবশ্য মনে করেন শেনজেন চুক্তির কার্যকারিতা বজায় রাখা দরকার। তিনি মনে করেন তা করা না হলে একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো টিকিয়ে রাখা দায় হবে। স্ট্রসবার্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, শেনজেন চুক্তি ভৌগোলিক ও মানসিকভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। এটি কার্যকারিতা হারালে একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো টিকবে না। এটি অভিন্ন ইউরোপীয় কাঠামোর ভিত্তি। তিনি বলেন, শেনজেন চুক্তির আংশিক এখন কার্যত অকার্যকর। ‘ইউরোপ এর মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও নীতিমালায় যারা বিশ্বাস করে তাদের অতি অবশ্য শেনজেনের চেতনা ধরে রাখতে কাজ করা উচিত।

জাঙ্কারের বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে বলে অনেকে মনে করেন। ২২টি দেশ নিয়ে শেনজেন গঠিত। এদের ৪টি দেশ ইইউর বাইরে। আইনগত দিক থেকে দেখলে একক মুদ্রা ইউরো ব্যবহারকারী দেশগুলোর জোট ইউরোজোনের চেয়ে শিনজেন জোটের এক পৃথক কাঠামো রয়েছে। ইউরোজোনে ১৯টি দেশ অন্তর্ভুক্ত। অভিবাসী সঙ্কট মোকাবেলা নিয়ে ইইউ দেশগুলোর ভেতর যে মতভেদ রয়েছে জাঙ্কারের বক্তব্য থেকে তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল শেনজেন ও ইউরো ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শেনজেন রক্ষা করার জন্য ইউরোপের দেশগুলোকে শরণার্থী গ্রহণের বিষয়ে কোটা ঠিক করে দেয়া প্রয়োজন। মেরকেল আরও বলেন, ইইউ দেশগুলো নিজ নিজ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য দিক বিবেচনায় রেখে শরণার্থী গ্রহণ করবে। জার্মানির একটি পত্রিকাতে দেয়া সাক্ষাতকারে ফরাসী প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেছেন, ধারণ ক্ষমতা অনুপাতে ইউরোপ অভিবাসী গ্রহণ করে ফেলেছে। নতুন কোন অভিবাসীকে জায়গা দেয়ার মতো অবস্থা মহাদেশটিতে আর নেই। প্যারিসে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে মেরকেলের বৈঠকের আগ দিয়ে জার্মানির জাইডয়েশ সাইটুং দৈনিকে ভালসের ওই বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়। প্যারিসে এ মাসের আরও আগের দিকে সংঘটিত বন্দুক হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি বেগবান হয়েছে। বেশির ভাগ দেশই এখন অভিবাসী গ্রহণ সীমিত করার পক্ষে। অভিবাসীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত রাখার নীতি গ্রহণকারী মেরকেলও এখন নিজ দেশে বেশ চাপের মুখে রয়েছেন।