১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যোগ্য প্রার্থীদের ছিটকে পড়ার আশঙ্কা

ময়মনসিংহ

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা মুক্তাগাছায় মেয়রপদে মনোনয়ন পেতে দলের হাইকমান্ডসহ নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তফসিল ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। এলাকায় গণসংযোগ ও শোডাউনের পাশাপাশি জোর লবিংও করছেন মেয়র পদের প্রার্থীরা। বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে যোগদানের সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবেও যোগ দিয়ে কৌশলে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন অনেকে। এর বাইরে পৌর এলাকায় ডিজিটাল ব্যানার, ছবিসহ পোস্টার, ফেস্টুনের মাধ্যমেও আগাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন অনেকে। কে পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন? ভোটারদের মধ্যেও চলছে এমন আলোচনা-পর্যালোচনা। এলাকার উন্নয়নসহ মুক্তাগাছাকে মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হবেনÑ এমন প্রার্থীকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চান পৌরবাসী। নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তাগাছা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সরব থাকলেও নীরব বিএনপি আর জামায়াত। আর যোগ্য প্রার্থী খুঁঁজে বেড়াচ্ছে জাতীয় পার্টি।

দেশের অন্যতম প্রাচীন মুক্তাগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে। ১১ দশমিক ৯৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভার মোট ভোটারের সংখ্যা এখন ৩৩ হাজার ৭০৫। মনোনয়নের আশায় নানা মহলে দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডের আশীর্বাদ পেতে লবিং চালাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গত নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত বর্তমান পৌর মেয়র আব্দুল হাই আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম জহিরুল হক জহির। শহর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মানছুরুর রহমান খান রেজুন বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রার্থী সঙ্কটে ভুগছে বিএনপি। শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আক্রাম আলী ভুলু মাঠে থাকলেও নির্বাচন নিয়ে অনেকটাই নীরব। বিএনপির আরেক নেতা অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম রতন মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্যানা, পোস্টার দিয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মামলায় পড়ে এখন মাঠ ছেড়ে নীরব হয়ে গেছেন। সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মরহুম তালেব আলীর ছেলে আতাউর রহমান লেলিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন। দীর্ঘদিন পর দলীয় এমপি প্রাপ্ত জাতীয় পার্টিতে রয়েছে যোগ্যপ্রার্থী সঙ্কট। শেষপর্যন্ত জাপার পক্ষ থেকে মেয়রপ্রার্থী দেয়া সম্ভব না হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষেই তাদের দলীয় সমর্থন থাকবে বলে জানা গেছে। এদিকে মোটা অঙ্কের মনোনয়ন বাণিজ্যের কবলে পড়ে যোগ্যপ্রার্থীদের ছিটকে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ

নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়রপদে দলের মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী গণসংযোগের পাশাপাশি লবিং করছেন। তবে নাশকতার মামলাসহ নানা মামলায় আসামি হওয়ার কারণে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী সঙ্কটে ভুগছে। এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পর নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের গণসংযোগ নির্বাচনী আমেজকে জমজমাট করে তুলেছে। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। চায়ের স্টল থেকে হোটেল রেস্তরাঁ ও হাট-বাজারে একই আলোচনা মেয়রপদে কে পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন?

বিগত ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৯শ’ ৫৫ ও নারী ভোটার ৯ হাজার ৬শ’ ৭৫ জন। গত ২০১১ সালে পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও উন্নয়নের কোন আঁচড় পড়েনি। এ নিয়ে ভোটাররা হতাশ। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় সচেতন মহলের। ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলেই রয়েছে নেতৃত্বের চরম কোন্দল। এমতাবস্থায় পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়রপদে একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

বর্তমান মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সোলজার অব বঙ্গবন্ধু (এসবি) প্রতিষ্ঠাতা সাবেক উপজেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য আবুল খায়ের, উপজেলা তাঁতী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন রিপন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ সাত্তার মনোনয়নের আশায় নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে বর্তমান কাউন্সিলর পৌর বিএনপির সহসভাপতি শামসুল হাকিম বকুল মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়রপদে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ থেকে রফিক উদ্দিন ভুইয়া, আব্দুস সাত্তার ভুইয়া, বিএনপি থেকে এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকলু ও এম আলমগীর সরকার এবং জাতীয় পার্টি থেকে শরীফুজ্জামান জুয়েল নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। প্রার্থীদের ডিজিটাল ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে গেছে নান্দাইল। একই অবস্থা দেখা গেছে ফুলপুর, গৌরীপুর, ভালকুা, ত্রিশাল ও গফরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনেও।