২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের টার্গেট সরকারী কর্মকর্তারা

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা এবার টার্গেট করেছে সরকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের হুমকি, তথ্য ও গোপনীয়তা ফাঁস করাসহ নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে খুলশী থানায় তিনটি ও কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি দফতরগুলো। এদিকে, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নাম ব্যবহার করেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনায়ও কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদাবাজদের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা উল্টো হুমকি পাওয়া একটি পরিবারকে শাসিয়েছে।

জানা গেছে, চাঁদাবাজরা নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের মোবাইলে কল দিচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী তথ্য উপাত্তের গোপনীয়তা ফাঁস করাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। এমন ঘটনায় গত ২২ নবেম্বর খুলশী থানায় জিডি করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেছেন, গত শুক্রবার বন্ধের দিনে তার সরকারী মোবাইল ফোনে এক সন্ত্রাসী পরিচয় গোপন রেখে (০১৭৫১৮২০৫৪৬) কল দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। এমনকি নানা ধরনের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেছে। পর পর কয়েকদিন ওই নাম্বার থেকে কল পাওয়ার পর থানায় জিডি হয়েছে। এদিকে, একই ধরনের কল পেয়েছেন জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পরিদর্শন) এর মোবাইল নম্বরেও। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী মোঃ সেলিম মোহাম্মদ জানান, বেশ কয়েকবার ওই নাম্বার থেকে চাঁদা দাবিসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছিল। জিডি করার পর ওই সন্ত্রাসী আবারও জানিয়েছে, ‘কাজটি ভাল করেননি।’

গত ২১ নবেম্বর কোতোয়ালি থানার সিআরবি এলাকার রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনিতে বসবাসরত সেলিনা আক্তার ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয়ে। ওই মিডিয়ার গাড়িতে জোরপূর্বক সেলিনা আক্তারের স্বামী রেল কর্মচারী জিয়াউল আলমকে তুলে নেয়ার অপচেষ্টা চালায় টেলিভিশন মিডিয়ার পরিচয়দানকারী জাহাঙ্গীর আলম শুভ। চাঁদা না দিলে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে হয়রানিসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়েছে ওই পরিবারটিকে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এ চাঁদাবাজের পক্ষ নিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই সঞ্জয়। কারণ, ওইদিন সন্ধ্যায় কোতোয়ালির সিআরবি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই সঞ্জয় পরিবারটিকে অপসাংবাদিকের পক্ষ নিয়ে উল্টো শাসিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই অপসাংবাদিক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬০ পিস ইয়াবাসহ আকবর শাহ থানা পুলিশের এসআই রাজু আহমেদের হাতে ধরা পড়ে। এমনকি দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসেছে।

এ ব্যাপারে সেলিনা আক্তার জানান, আমার ঘরের পাশেই কোতোয়ালি থানা পুলিশের ফাঁড়ি। ধান্ধাবাজ ও ভুয়া সাংবাদিকের পক্ষ নিয়ে পুলিশ কিভাবে সাধারণ মানুষকে শাসাতে পারে তা প্রশ্নবিদ্ধ। থানায় জিডি করার বিষয়ে ও অপসাংবাদিকের বিরুদ্ধে লড়তে নিষেধ করেছে পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে, গত ১৯ নবেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে রেলের পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় ভূসম্পত্তি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আখতার হোসেনের মোবাইলে (০১৯১৯১৭৩২২৬) নম্বর থেকে একটি কল করা হয়। প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে পরবর্তীতে নিজেকে স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দাফতরিক তথ্যের বিষয়ে সমঝোতার কথা বলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। অথচ, এই কর্মচারী বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। এ বিষয়ে খুলশী থানায় গত ১৯ নবেম্বর সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে রেল কর্মচারী আখতার হোসেন জানিয়েছেন, অবসর গ্রহণের পরও সাংবাদিক পরিচয়ে ফায়দা লুটতে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।