২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টানা তিন জয় পেল কুমিল্লা

টানা তিন জয় পেল কুমিল্লা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল টি২০) খেলছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের তৃতীয় আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল দলটি। শুক্রবার সাকিবহীন রংপুর রাইডার্সকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় জয়টি পেল কুমিল্লা। উইকেটের দিক দিয়ে এবার বিপিএলে সবচেয়ে বড় জয়টিই পেল কুমিল্লা।

ম্যাচে টস জিতে কুমিল্লা। আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তই নেয়। রংপুর ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপত্তির মধ্যে পড়ে। যা দলকে বিপদেই ফেলে দেয়। শেষে ২০ ওভারে ৮০ রানের বেশি করতে পারেনি রংপুর। অলআউটও হয়ে যায়। দলের পক্ষে মোঃ মিঠুন সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন। বিপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনি¤œ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। নুয়ান কুলাসেকারা দুর্দান্ত বোলিং করেন। একাই ৪ উইকেট তুলে নেন। জবাবে ১১.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান করে জিতে যায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল কুমিল্লা। মারলন স্যামুয়েলস অপরাজিত ৪২ ও ইমরুল কায়েস অপরাজিত ২৪ রান করেন।

ম্যাচে নামার আগেই অবশ্য বিপদে থাকে রংপুর। দলের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকায় খেলতে পারেননি। সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়ারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সাকিবকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞায় মিসবাহ উল হক রংপুরের নেতৃত্ব দেন। তাতে রংপুরের বারোটা বাজে।

সমালোচনার জন্ম দেয়া কোনভাবেই ছাড়ছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিপিএলে। বৃহস্পতিবার সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয় সাকিবকে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে শুক্রবার খেলতে পারেননি। বৃহস্পতিবার ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সিলেট ব্যাটসম্যান দিলশান মুনারাভিরাকে আউট করার পর সাকিব বাজে ভাষায় কথা বলেন। ম্যাচ শেষে এটা জানিয়ে টিভি আম্পায়ার র‌্যানমোর মার্টিনেজ ও অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন। সাকিব নিষেধাজ্ঞা পান ১৩তম ওভারের ঘটনায়। ১৩তম ওভারের শেষ বলে শ্রীলংকান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা কট বিহাইন্ডের আবেদন করেছিলেন আম্পায়ারের কাছে। নিশ্চিত উইকেট পাওয়ার আনন্দে উল্লাসও শুরু করেছিলেন বোলার এবং উইকেটরক্ষক। কিন্তু আম্পায়ার তানভির আহমেদ আউট তো দিলেনই না। এমনকি থার্ড আম্পায়ারও কল করেননি। বিষয়টা মোটেও পছন্দ হয়নি রংপুরের অধিনায়ক সাকিবের। আম্পায়ারের কাছে এসে এ বিষয়ে জানতে চান। এমনকি এক পর্যায়ে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কও করেন তিনি। শুধু তাই নয়, এ সময় সাকিবকে খুব রাগান্বিত দেখাচ্ছিল। এমনকি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় বিড় বিড় করে কিছু বলতেও দেখা গেছে। এ সময় যাতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা মাঝে এসে দাঁড়িয়ে যান। তবে আম্পায়ার তানভির আহমেদ বিষয়টাতে খুব অবাক হয়েছেন তা তার চেহারা দেখেই বোঝা গিয়েছিল। বিসিবি রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাকিবের শাস্তির বিষয়টি জানিয়েছে।

এ শাস্তি রংপুর দলের বিপদ টেনে আনে। এর প্রভাব খেলাতেও পড়ে। ইনিংসে বলার মত কোন জুটি কিংবা পারফর্মেন্সই নেই। দু’জন ব্যাটসম্যান মিঠুন ও সাকলায়েন সজিব (১১) মাত্র দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেন। কী বেহাল দশা হয় রংপুরের। বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয় ২০১৩ সালে খুলনা। চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ৬৭ রানে। ৭ ফেব্রুয়ারি সেই ঘটনা ঘটে। পরের দিনই চিটাগাংয়ের কাছেই সিলেট রয়্যালস ৭৪ রানে গুটিয়ে যায়। দ্বিতীয় সর্বনি¤œ রান এটি। এবার রংপুর কম রানে অলআউট হল।

এরপর কুমিল্লার ম্যাচ জেতা যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ২৯ রানে মাহমুদুল হাসান (১১) আউট হন। এরপর ইমরুল ও স্যামুয়েলস মিলেই ম্যাচ জিতিয়ে দেন। কুমিল্লার স্কোরবোর্ডে যখন ৯ ওভারে ৪৮ রান তখন ইমরুলকে আউট করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে রংপুর। দশম ওভারের প্রথম বলে আবু জায়েদের বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। কিন্তু সিমন্স তা ধরতে পারেননি। সেই ওভারে স্যামুয়েলস ২২ রান নিয়ে নেন! প্রথম বলে এক রান হয়। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান স্যামুয়েলস। এরপর টানা চার বলে চারটি বাউন্ডারি মারেন স্যামুয়েলস। মুহূর্তেই ৭১ রান হয়ে যায় কুমিল্লার। শেষে আরাম আয়েশেই ম্যাচ জিতে কুমিল্লা। ৪৯ বল বাকি থাকতে হেসে খেলে জয় পায়। এ জয়ে ৪ ম্যাচে ৩ জয় পেল কুমিল্লা। সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা তিন জয়ই তুলে নিল।

স্কোর ॥ রংপুর রাইডার্স ৮২/১০ ২০ ওভার (সিমন্স ৩, সৌম্য ৫, মিঠুন ২৮, জহুরুল ৪, মিসবাহ ৬, আল আমিন ০, থিসারা ৯, আরাফাত ২, সাকলায়েন ১১, জায়েদ ০*; কুলাসেকারা ৪/১২, হায়দার ২/১৫)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৮৪/১ ১১.৫ ওভার (ইমরুল ২৪*, মাহমুদুল ১১, স্যামুয়েলস ৪২*)।

ফল ॥ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা ॥ মারলন স্যামুয়েলস (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)।