২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এথিকস কমিটির নিষেধাজ্ঞা মানেন না ব্লাটার!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফায় গত কয়েক দশক এককভাবেই রাজত্ব করেছেন সেপ ব্লাটার। কিন্তু সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে ৯০ দিনের জন্য ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হন সুইজারল্যান্ডের তুখোড় এই সংগঠক। তবে সেপ ব্লাটারের সামনে এখন আজীবন নিষিদ্ধ হওয়ার হুমকি। তবে তা মানতে নারাজ ফিফার সাবেক এই সভাপতি। বরং তিনি জানান, ফিফার নৈতিকতা কমিটি কখনই তাকে নিষেধাজ্ঞা করতে পারে না। কেবল ফিফার কংগ্রেসেই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে সেপ ব্লাটার বলেন, ‘যদি কেউ চায় নির্বাচিত সভাপতিকে সরাতে তাহলে কেবল ফিফার কংগ্রেসই তা পারে। অন্য কোনভাবে তা হতে পারে না।’

দীর্ঘ ১৭ বছর টানা ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সেপ ব্লাটার। অথচ সেই ব্লাটার এবং উয়েফার প্রধান মিশেল প্লাতিনি আজীবন ফুটবলে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন! গত কয়েকদিন ধরে এটাই বিশ্বফুটবলের মূল আলোচনার বিষয়। মূলত ১ দশমিক ৩ পাউন্ড সমপরিমাণ অর্থের অনৈতিক ব্যবহার বিষয়ে ব্লাটার ও প্লাতিনির বিরুদ্ধে পূর্ণ তদন্তে নামে ফিফার নৈতিকতা সংক্রান্ত কমিটি। এই কমিটিই বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রভাবশালী সংগঠক ব্লাটার ও প্লাতিনিকে নব্বই দিনের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। এখন কমিটির সদস্যরা সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনির আজীবন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আগেই প্রকাশ করা হয়। আর ঘোর সংশয়ে রয়েছে ব্লাটারের ক্যারিয়ারও। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে ফিফার তহবিল থেকে ২ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ব্লাটারের কাছ থেকে ওই অর্থ পান প্লাতিনি। পরে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্লাটারের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে ফিফার কাছ থেকে সম্মানী হিসেবেই ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারা দু’জন এ সংক্রান্ত কোন চুক্তিপত্র পেশ করতে পারেননি। ব্লাটারের পরামর্শক হিসেবে প্লাতিনির কাজ করার বিপরীতে ফিফার কাছ থেকে ১ দশমিক ২ সুইস ফ্র্যাঙ্ক গ্রহণের একটি চুক্তিপত্র দখল করেছে। ওই চুক্তিপত্রের চেয়ে ২ মিলিয়ন বেশি অর্থাৎ ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক ফিফার তহবিল থেকে গ্রহণ করেছেন। বাড়তি ২ মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক গ্রহণের কোন কাগজপত্র এখন পর্যন্ত ব্লাটার-প্লাতিনির কেউ দেখাতে পারেননি। এই অভিযোগই ফুটবল থেকে তাদের দু’জনের আজীবন নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে ফিফার নৈতিকতা কমিটি।