১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিপিএলে কুলাসেকারার লঙ্কাকাণ্ড

  • উইকেট শিকারির তালিকায়;###;দুইয়ে এ লঙ্কান পেসার

মোঃ মামুন রশীদ ॥ গত মার্চে বিশ্বকাপ খেলার পর থেকে আর ওয়ানডে দলে নেই নুয়ান কুলাসেকারা। তবে চলতি মাসে ঘরের মাঠে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজে দলে ফিরেছেন তিনি। তবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি শ্রীলঙ্কান এ পেসার। এবারই তিনি প্রথমবার দল পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ আসরে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে দুই ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন, দেখিয়েছেন নিজের দাপট। প্রথম ম্যাচে দারুণ মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়ে দলকে জেতার পথ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আরও দাপট দেখিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এ বাঁহাতি পেসার। এবার নিয়েছেন মাত্র ১২ রানে ৪ উইকেট। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণেই স্বল্প রানে গুটিয়ে যাওয়া রংপুর রাইডার্সকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে তার দল ভিক্টোরিয়ান্স। দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এখন চলমান বিপিএলে তিনি উইকেট শিকারির তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এসেছেন।

প্রথম দুই বিপিএলে খেলা হয়নি কুলাসেকারার। তবে এবার সবারই মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন কুলাসেকারা। অভিজ্ঞ এ লঙ্কান পেসারকে দলে নেয়া ভিক্টোরিয়ান্স অবশ্য খেলাতে পেরেছে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে। আর প্রথম সুযোগেই নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন তিনি। বরিশাল বুলসের বিরুদ্ধে বিপিএল অভিষেকেই দারুণ লাইন-লেন্থে বল ফেলে ব্যাটসম্যানদের ভড়কে দিয়েছেন কুলাসেকারা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে জুটি বেঁধে বোলিং করেছেন। ৩ ওভারে ১টি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট দখল করেন। নিজের প্রথম ওভারেই এদিন ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস ও ব্রেন্ডন টেইলরের উইকেট তুলে নেন। ফিরতি স্পেলে ফিরে এসে কেভন কুপারের উইকেটও তুলে নেন তিনি। তার এমন মারাত্মক বোলিংয়ের মুখে মাত্র ৮৯ রানেই গুটিয়ে যায় বুলস। ফলে সহজ জয় পায় ভিক্টোরিয়ান্স। প্রতিটি জয়ই দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর জয়টা যখন প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে আসে তখন তো আর কথাই নেই।

উদ্বোধনী ম্যাচে হার দিয়ে শুরুর পর এখন দারুণ উজ্জীবিত ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথম ম্যাচে কুলাসেকারা ছিলেন না। তবে তাকে ছাড়াই দ্বিতীয় ম্যাচটায় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ফিরে পায় ভিক্টোরিয়ান্স। আর ভিক্টোরিয়ান্সের তৃতীয় ম্যাচ থেকে একাদশে কুলাসেকারা আসার পর ভিক্টোরিয়ান্সের বোলিং বিভাগ যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে আরও। তিনি দলে আসার পর বদলে গেছে দলটির চেহারা। তাছাড়া দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক মাশরাফি। তাই যেন আরও উজ্জীবিত একটি দল ভিক্টোরিয়ান্স। সেই অনুপ্রেরণার রেশ দেখা গেল তাদের চতুর্থ ম্যাচেও। রাইডার্স শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে কুলাসেকারার দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে। একপ্রান্তে মাশরাফি মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন আর অন্যপ্রান্ত থেকে একের পর এক উইকেট শিকারে উল্লাসে ভেসেছেন কুলাসেকারা। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার, লেন্ডল সিমন্সকে সাজঘরে পাঠিয়ে প্রথমেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিলেন রাইডার্সকে। ফিরতি স্পেলে ফিরে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন (২৮) ও স্বদেশী সচিত্র সেনানায়েকের উইকেট তুলে নিয়ে রংপুর রাইডার্সের শেষ প্রতিরোধটাও ভেঙ্গে দিয়েছেন কুলাসেকারা।

প্রথম ম্যাচের চেয়ে যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন এদিন। ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে নিলেন ৪ উইকেট। তার গতিঝড়ে এবার প্রতিপক্ষ গুটিয়ে গেছে মাত্র ৮২ রানে। সহজ জয়ের টার্গেট পেয়েছে ভিক্টোরিয়ান্স এবং বিজয়ী হয়েই ফিরেছে দল বিশাল ব্যবধানে জিতে। ২ ম্যাচে মাত্র ২০ রানে নিয়ে ফেলেছেন ৭ উইকেট। ইকোনমি মাত্র ২.৮৫। আর বোলিং গড়ের দিক থেকেও (২.৮৫) তিনি দ্বিতীয় সেরা চলতি আসরে। রাইডার্স অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ৪ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে চলতি আসরে উইকেট শিকারির তালিকায় এক নম্বরে। এরপরই কুলাসেকারা। অবশ্য রাইডার্সের আরেক লঙ্কান পেসার থিসারা পেরেরাও ৭ উইকেট নিয়ে তার সঙ্গেই অবস্থান করছেন। তবে থিসারা খেলেছেন ৫ ম্যাচ।