২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রহনপুরে পৌর ভবন ও সেতু নির্মাণে বাধা অতিক্রম

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জেলার অন্যতম রহনপুর পৌরসভার দুটি উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের জট খুলে যাবার কারণে এলাকাবাসী দারুণভাবে উপকৃত হয়েছে। প্রথমটি ছিল একেবারে শহরের মধ্যে এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র পুরান বাজার যাবার মুখে বরেন্দ্র এলাকা থেকে নেমে আসা একটি খাড়ি বা রহনপুর শহরের পুনর্ভবাতে মিলিত হয়েছে তার ওপর ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ। অবস্থানগত কারণে সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ, বগুড়া, বৃহত্তম রংপুর ও দিনাজপুরের সঙ্গে সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে সংযোগ সাধন করবে সেতুটি। বিশেষ করে কোন আপদকালীন সময়ে পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কানসাট হয়ে রাজশাহী মুখী সড়কের বিকল্প হিসাবে কাজ করবে এই সেতু সড়কটি। তাই এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। যা দীর্ঘ দিন ধরে ভূমি সমস্যার কারণে নির্মাণকাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অপরটি ছিল রহনপুরে স্থায়ীভাবে পৌর ভবন নির্মাণ। কয়েক কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে গত একযুগের বেশি সময় ধরে অর্থাৎ ১৬ বছর ধরে ঝুলে ছিল সমস্যাটি। জমি সমস্যার কারণে রহনপুর পৌভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এখানে উন্নয়ন প্রকল্প দু’টি নিয়ে যে জটিলতা ছিল তার মালিকানা ছিল এই অঞ্চলের কৃতী সন্তান, রাজশাহী সিটি আওয়ামী লীগের নেতা ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকারের। তিনি নিজ উদ্যোগে জনদুর্ভোগ হতে অব্যাহতি দিতে এগিয়ে আসেন। তার একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি দান করেন সেতু ও পৌরভবন নির্মাণে। পূরণ করে রহনপুরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। ২০০০ সালে রহনপুর পৌরভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও স্থানটি মাটি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় কাজ। একই ভাবে পৌর এলাকার বরেন্দ্র খাড়ির ওপর ব্রিজ নির্মাণে দেখা দেয় বড় ধরনের জটিলতা। দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের জমি জটিলতার কারণ ছিল মোহাম্মদ আলী সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি হবার কারণে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরো রহনপুরবাসী আন্দোলন করে আসলেও জট খোলা সম্ভবপর ছিল না আইনগত বাধা থাকায়। রহনপুরবাসী এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসেন মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি পৌর ভবন ও ব্রিজ নির্মাণের জন্য মূল্যবান সম্পত্তি জোত ভূমি দান করে। তাঁর ভূমিদানের মধ্য দিয়ে পৌর ভবন ও ব্রিজ নির্মাণের সব বাধা দূরীভূত হয়। অর্জিত হয় রহনপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা তুলে নিয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দালিলিক দলিল তুলে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।