২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরগুনায় ফার্মেসির ছড়াছড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা ॥ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বরগুনায় চলছে ওষুধের ব্যবসা। জেলা সদর ও আশপাশে প্রায় আড়াই থেকে তিন শতাধিক ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। এসব ফার্মেসির অধিকাংশেরই নেই ফার্মাসিস্ট সনদ। অনেকের ড্রাগ লাইসেন্সটি পর্যন্তও নেই। ওষুধ প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব ফার্মেসিতে যেমন মিলছে অবৈধ ওষুধ, অপরদিকে সেলফ প্রেসক্রিপশনে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করছে বিক্রেতারা। ফলে একদিকে যেমন ওষুধ ব্যবসায়ীদের পৌষ মাস, অপরদিকে প্রতারিত সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে অহরহ ঘটছে মৃত্যুসহ সর্বনাশের অনেক ঘটনা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বরগুনায় মোট কত ফার্মেসি রয়েছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে ওষুধ বিক্রেতা সমিতির তালিকায় বরগুনা সদরে মোট ফার্মেসির সংখ্যা আড়াই শ’।

ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪০ অনুসারে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি দেয়ার জন্য প্রথমেই ওই ব্যক্তিকে কমপক্ষে ছয় মাসের ফার্মাসিস্ট কোর্স করে সনদ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ড্রাগ সুপারের কার্যলয়ে ফার্মাসিস্ট সনদ জমা দিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। ড্রাগ সুপার আবেদন যাচাইয়ের পর ড্রাগ লাইসেন্স দিলেই কেবল ওষুধের ব্যবসা বা ফার্মেসি দেয়া যাবে।

সরেজমিন বরগুনার ফার্মেসি পট্টি ঘুরে দেখা গেছে, হাতেগোনা মাত্র ১০-১২ জন ব্যবসায়ীর কেবল ফার্মসিস্ট সনদ রয়েছে। বাকিদের মূলত ওই সনদটি নেই। তবে প্রায় প্রত্যেকেরই ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। আর এসব ড্রাগ লাইসেন্সে উল্লিখিত ফার্মসিস্টের কেবল ডকুমেন্ট, বাস্তবে ওই ব্যক্তিকে অনেকেই দেখাতে পারেননি। বরগুনার ফার্মেসি পট্টির এফ রহমান মেডিক্যাল হলের ড্রাগ ও ফার্মাসিস্ট উভয় সনদ ফজলুর রহমান নামে। অথচ দোকান পরিচালনা করছেন সাইদুল ইসলাম নামের একজন। সাইদুল বলেন, ফজলুর রহমান আমার মামা, তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে আমতলী উপজেলায় চাকরি করেন। আমিই এই দোকান পরিচালনা করছি। একই চিত্র সরকার মেডিক্যাল হলের। বিপ্লব কুমার সরকারের নামে ফার্মাসিস্ট সনদ ও ড্রাগ লাইসেন্স। কিন্তু সবুজ নামের সেলসম্যান ওই দোকানের দায়িত্বে।

সবুজ জানান, দোকানের মালিক বিপ্লব ইউনিমেড ইউনিহেলথ নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এছাড়া ফারুক মেডিক্যাল হল নামের ফার্মেসিতে ইউনুস নামের একজনের অনুকূলে ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট সনদ। বাস্তবে ইউনুস নামের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই দোকানটি ফারুক হোসেন পরিচালনা করছেন। শেফা মেডিক্যাল হলের মালিক মাওলানা কাওসার হোসেন ড্রাগ লাইসেন্সটি কিনে আদালতের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করেছেন।

এভাবে ড্রাগ লাইসেন্স কিনে নাম পরিবর্তন করে ফার্মেসি চালাচ্ছেন এমন সংখ্যাও কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। কিছু কিছু ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট সনদ তো দূরের কথা, ড্রাগ লাইসেন্সটি পর্যন্ত নেই। নিশা ও সুজন মেডিক্যাল হল নামের দুটো ফার্মেসিতে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আর কোন ডকুমেন্ট নেই। এ অবস্থায় সাধারণ ক্রেতারা নিয়মিত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

২০১৪ সালের শুরুর দিকে অবৈধ উপায়ে প্যাথেড্রিন বিক্রির অপরাধে খান মেডিক্যাল হলের মালিক জাকির হোসেন খান ও জাকারিয়া মেডিক্যাল হলের মালিক জাকারিয়াকে প্রশাসন জেল ও জরিমানা উভয় দ-ে দ-িত করেন। ছাড়া পেয়ে দু’জন আবারও একই প্রক্রিয়ায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাকির হোসেন খান মনে করেন, ফার্মেসির জন্য নিজের কোন সনদ বা লাইসেন্সের দরকার পড়ে না। আর এ কারণেই তিনি তার বাবার নামের ড্রাগ লাইসেন্স, ভাইয়ের নামে ফার্মাসিস্ট সনদ দিয়ে দিব্যি বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন। অপরদিকে জাকারিয়া মেডিক্যাল হলের মালিক জাকারিয়ার ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও নেই ফার্মাসিস্ট সনদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মাদকসেবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরগুনার বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে প্যাথেড্রিন, ডায়াজিপাম ক্লোবাজমসহ ড্রাগ নেয়ার জন্য বিক্রয় নিষিদ্ধ দেশী বিদেশী নানা জাতীয় ওষুধ পাওয়া যায়। তবে একটু বেশি দামে এসব ওষুধ কিনতে হয়।