২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে যানবাহন ॥ চলে হাতের ইশারায়

  • স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালে জ¦লে না বাতি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীতে এক সময় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হতো যানবাহন চলাচল। তবে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালগুলোর আর কোন কার্যকারিতা নেই। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেগুলো আর জ¦লে না। ফলে ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে যানবাহনের সিগন্যালিং সিস্টেম।

রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেম থাকালেও তার সবই এখন অকেজো। দীর্ঘদিন ধরে এসব সিগন্যাল বাতি অকেজো থাকলেও সেগুলো সংস্কারের দায়িত্ব নেয়নি সিটি কর্পোরেশন। ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চলছে এনাগল সিস্টেমে পুলিশের হাতের ইশারায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর সিগন্যাল বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। কোন কোনটিতে বেঁধেছে পাখির বাসা। আবার কিছু সিগন্যাল পোস্ট বসানো হয়েছে গাছ বা দোকানের আঁড়ালে। কোনটির বাতিও নেই, শুধু পোল দাঁড়িয়ে আছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৪ সালে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথমে নগরীর সিএ্যান্ডবি, লক্ষ্মীপুর, বিন্দুর মোড়, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর ও তালাইমারী মোড় এবং ২০০২ সালে ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ বন্ধগেট, বহরমপুর বাইপাস রোড, কোর্ট স্টেশন মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা নতুন বাইপাস মোড় ও কাশিয়াডাঙ্গা পুরাতন সড়ক মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে আরও ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধ্য শহরের উৎসব সিনেমা হলের মোড়, সাগরপাড়া, শিরোইল স্টেশন মোড়, জিয়া শিশুপার্কের সামনের মোড় ও নওদাপাড়ার আমচত্বর মোড়ে স্থাপন করা হয় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম স্থাপন করা হলেও এখন তা কোন কাজে আসছে না।

এগুলোর মধ্যে কয়েকটি মোড়ে এখনো সিগন্যাল বাতি মাঝেমধ্যে জ্বলতে দেখা গেলেও তা মেনে যানবাহন চলে না। কোথাও কোথাও বাতিগুলো অনিয়মিতভাবে (টাইমিং ছাড়াই) জ্বলে-নেভে। কয়েকটি মোড়ে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে গাছের আড়ালে। ফলে তা চালকের চোখেই পড়ে না। এখন সবই বন্ধ। বিভিন্ন পোলে বাতি থাকলেও তা আর জ্বলে না। সারাক্ষণ জলে থাকে কোথাও কোথাও। সেগুলো আর স্বয়ংক্রিয় হয় না।

রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, সিটি কর্পোরেশন তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছভাবে সিগন্যাল বাতিগুলো স্থাপন করেছে। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো এখন সবই অকেজো। ফলে এখন ট্রাফিক পুলিশও হাতের ইশারায় সিগন্যাল দিয়ে থাকেন। তবে পর্যাপ্ত জনবল থাকা সত্ত্বেও সহসাই যানজট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।

অটোরিক্সা চালকরা জানান, সিগন্যাল বাতি ঠিক না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশ হাত দিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করলেও অনেকে তা মানছে না। এছাড়া সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে চার রাস্তাকে দুইমুখী রাস্তা করে দেয়ায় রাস্তার অপর প্রান্তে যাত্রীদের নামাতে অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে চালকদের।

নগরীর সাহেব বাজার এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, সিগন্যাল বাতি অকেজো হওয়ায় রাস্তা পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ট্রাফিক পুলিশ একটু আনমনা হলেই রাস্তা পার হওয়ার সময় পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তাই ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করার দাবি জানান তিনি।

রিক্সাচালক সোলায়মান মিয়া অভিযোগ করেন, সিগন্যাল ঠিক না থাকায় অটোরিক্সাচালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা জিরো পয়েন্টের মতো ব্যস্ততম রাস্তায় যথেচ্ছভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনভাবেই এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজশাহী নগর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, সিগন্যাল বাতি সচল না থাকায় ট্রাফিক আইন যথাযথ প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে এখন কৌশলে যানজট নিরসন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জিরো পয়েন্টের যানজট নিরসনের জন্য চতুর্মুখী রাস্তাকে দ্বিমুখী করা হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে মনি চত্বর মোড়ের যানজটও সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

মহানগর পুলিশ জানায়, নগরীতে ক্রমেই বাড়ছে রিক্সা, অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা। দীর্ঘদিন ধরে অটোসিগন্যালিংগুলো অকেজো থাকায় নগরীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে সিগন্যাল লাইটগুলো সংস্কার করা হলে ট্রাফিক ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। এ জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সদিচ্ছা জরুরী। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, নগরীর সিগন্যাল লাইটের অধিকাংশই অকেজো রয়েছে সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রায়হান ইবনে রহমান জানান, রাজশাহী নগরীর প্রায় অধিকাংশ সিগন্যাল বাতি বন্ধ। আর যেগুলো সচল আছে তার টাইমিং ঠিক নেই। অধিকাংশ সিগন্যাল পোস্টগুলো অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগ চাইলেও সেগুলো কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই হাতের ইশারায় চলছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম।