২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়মনসিংহে বেদখল হয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের চারপাশ!

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ সুষ্ঠু নজরদারি ও দায়সাড়া দেখভালের কারণে ক্রমাগত বেদখল হয়ে যাচ্ছে ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের চারপাশ! ইতোমধ্যে স্পর্শকাতর এই স্থাপনার একটি বড় অংশে গড়ে উঠেছে ট্রাক স্ট্যান্ড। এর বাইরে বিভিন্ন গ্যারেজ, পিকআপ স্ট্যান্ড ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনাও গড়ে উঠেছে এর সামনের অংশে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে কোন উদ্যোগ নেই স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের মূল ফাইল ও মাস্টারপ্ল্যান এর কোন হদিস মিলছে না। এ নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও মূল্যবোধকে তুলে ধরতে ময়মনসিংহে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ সরকার, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় জনগণ এতে আর্থিক সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ময়মনসিংহ জেলা ইউনিট কমান্ড ও জেলা প্রশাসন এর উদ্যেক্তা। ঢাকার মেসার্স বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ ছিল নির্মাণ সংস্থা। শিল্পী রশিদ আহমেদ স্মৃতিসৌধের স্থপতি।

ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র লাগোয়া চীনমৈত্রী সেতুর পাশে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ জন্য সরকার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ প্রায় পাঁচ একর জমি দেয়া হয় প্রকল্পের নামে। গত ১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ঝড়ো গতিতে শুরু হয়ে দুই হাজার সালে শেষ হয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ। কিন্তু পরে ২০০১ সালে বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদে প্রকল্পের বাকি কাজ মুখ থুবরে পড়ে। প্রকল্পের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর, অডিটরিয়াম ও একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলার কথা ছিল। ওই সময়ে প্রকল্পের এসব কাজ তদারকি করে আসছিল স্থানীয় জেলা প্রশাসন। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় বিএনপি জামায়াত জোট সরকার মেয়াদে বহুল আলোচিত ময়মনসিংহের তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনুর মিয়া শহরের বড় বাজার থেকে রাতারাতি ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ এলাকায় স্থানান্তর করে সর্বপ্রথম এর চারপাশ জবরদখলের সূচনা করেন। পরবর্তীতে এই স্থাপনা দেখভালের দায়িত্ব বুঝে নেয় স্থানীয় জেলা পরিষদ। এ সময়ে দুইবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেও পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নতুন করে কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের চারপাশ বেদখল ও জবর দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ইতোমধ্যে এর চারপাশে রাতারাতি গড়ে উঠেছে বস্তি আর অসংখ্য ছাপড়া ঘর, দোকানপাট, গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, বাস, পিকআপ ও মিনি ট্রাক স্ট্যান্ড। এসব কারণে স্মৃতিসৌধের চারপাশ নোংরা হচ্ছে।