২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোর পৌরসভার অবহেলিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ দখলে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা, পরিণত হচ্ছে যেন গলি পথে। এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেন থাকলেও নিয়মিত সাফ করা হয় না। পুরো ওয়ার্ড এলাকায় নেই ডাস্টবিন। বাসাবাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা ময়লা রাস্তার পাশে পড়ে থাকলেও দিনের পর দিন অপসারণ হয় না। এখানেই শেষ নয়। রয়েছে আরও মর্মান্তিক ঘটনা। আবর্জনায় বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে কয়েকদিন আগে মারাব গেছেন মৃন্ময় বিশ্বাস কুটি নামের এক ব্যক্তি। এ ‘ট্র্যাজেডি’র পর পৌরসভার প্রতি ক্ষোভে পুড়ছে এলাকাবাসী।

যশোর পৌরসভার আয়তনে সবচেয়ে ছোট ৮ নং ওয়ার্ড। এখানকার আজিমাবাদ কলোনি, বেজপাড়া, নিউ বেজপাড়া (পশ্চিম), নিউ বেজপাড়া (পূর্ব), বনানী রোড (পশ্চিমপাড়া), আরএন রোড মহল্লা, কোতোয়ালি মসজিদপাড়া, পূজার মাঠ, গয়ারাম রোড ও নলডাঙ্গা নিয়ে বিস্তৃত পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের বেজপাড়া মেইন রোড দখলের কারণে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি এখানে রাস্তার একপাশে নতুন ড্রেন নির্মাণ শুরু হয়েছে। রাস্তার আরেক পাশেও ড্রেন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। এলাকাবাসীর অভিযোগ রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা দখলদারিত্ব বজায় রেখেই চলছে নির্মাণ কাজ। এ কারণে তারা আশঙ্কা করছেন রাস্তার আরেক পাশেও ড্রেন নির্মাণ হলে এ রাস্তা পরিণত হবে গলিপথে। এছাড়া এ সড়কে কোন ডাস্টবিন নেই। যে যার মতো রাস্তা ও ড্রেনের মধ্যে ময়লা ফেলে। আর নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় যেখানের ময়লা সেখানেই পড়ে থাকে। ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় আবর্জনা ভাসে। এলাকার বাসিন্দা ডা. সমীর কুমার বিশ্বাস জানান, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। ডাস্টবিন না থাকায় লোকজন ড্রেনে ময়লা ফেলে।

আলাপকালে এ রোডের মোল্লাবাড়ির আশরাফুল ইসলাম রিপন ও অপর বাসিন্দা শাহজাহান ফকির বলেন, রাস্তার জায়গা দখল করে অনেকে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে ড্রেনের নির্মাণ কাজ সেই দখলদারিত্ব বজায় রেখেই চলছে। তারা আরও জানান, এলাকায় কোন ডাস্টবিন নেই। সবাই ড্রেনে ময়লা ফেলে। কখনো ড্রেন পরিষ্কার হয় না। মেইন রোড বাইলেনের ড্রেনের অবস্থাও বেহাল। নিয়মিত সাফ হয় না। এ রোডের ড্রেনের অর্ধেক মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। ঘাস জন্মেছে ভরাট হওয়া অংশে। এ বাইলেনের রাস্তায় এখনও পিচ পড়েনি। এদিকে, নূর মহলের পাশ দিয়ে এগুলে গুলশানমোড় এলাকা। এ সড়কের বেহাল দশা। পিচ উঠে খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা ডাস্টবিনের অভাবে দিপুর মাঠে ময়লা ফেলেন।

বনানী রোড পশ্চিমরোড, পশ্চিমপাড়া এলাকায় রাস্তার সমস্যা না থাকলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না। ইমরান ও আশরাফুল ইসলাম পাকা ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান। এদিকে, নলডাঙ্গা এলাকায় প্রধান সমস্যা এখানে কোন ডাস্টবিন নেই। তাই বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী রাস্তার পাশে ময়লা ফেলেন। যা আবার দিনের পর দিন পড়ে থাকে। ভরাট হয় ড্রেন। সেই ময়লায় ভরাট ড্রেন থেকে যেমন ছড়ায় দুর্গন্ধ, তেমনি জন্মায় মশা। তাই বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই পরিষ্কারে নামে। তাদেরই একজন মৃন্ময় বিশ্বাস কুটি। যিনি নিয়মিত স্থানীয় যুবকদের সাথে নিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করতেন। সেই কাজ করতে করতেই ১৩ নবেম্বর শুক্রবার মারা যান তিনি।

নলডাঙ্গা রোডের আরেক অংশে নতুন বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত আসাদ স্মৃতি পাঠাগার। এর পাশেই জমে রয়েছে ময়লার স্তূপ। মানুষজন নাক চেপে চলাচল করে। রাস্তার বেহাল দশা, কোথাও কোথাও পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই এ সড়কে। এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকিল আহম্মেদ ও মোহাম্মদ মিরাজ এলাকায় ডাস্টবিন ও ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এর পাশেই নলডাঙ্গা নতুন বাজার এলাকা। এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যবসায়ী এলাকায় একটি ডাস্টবিনের অভাবে জমে থাকা ময়লার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর নতুন বাজার বাইলেনের বাসিন্দাদের যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তারা রাস্তার ড্রেনের স্লাবে উপর দিয়ে চলাচল করেন। এদিকে শহীদ সুধীর ঘোষ সড়কের অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ। পিচ খোয়া উঠে গেছে বেশ আগেই। রাস্তার পাশে একটি অপ্রশস্ত ড্রেন থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। এ রাস্তা ধরে এগিয়ে ডানে ঘুরলেই গয়ারাম রোড। এ সড়কের দুই পাশ দখল করে নির্মিত হয়েছে বাড়িঘর। ফলে রাস্তাটি পরিণত হয়েছে গলিপথে। এই গলিপথে নেই কোন ড্রেন।