২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৬ শতকে প্রতিষ্ঠা পায় প্রথাবদ্ধ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মুন্সীগঞ্জ শহরের বাগমাহমুদালী পাড়ায় ‘ধোপা মাস্টারের পাঠশালার’ নাম জানে না এমন প্রবীণ এ এলাকায় নেই। তবে নবীনরা পাঠশালার কিছু বলতে পারবে না। পাঠশালার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিত দাস ববি জানান, ধোপা মাস্টারের পাঠশালায় তিনি দীক্ষা নিয়েছেন। এটিই ছিল তার প্রথম শিক্ষালয়। প্রবীণ ধোপা মাস্টার অনেক যতœ করে আদর করে শিশুদের শিক্ষা দিতেন। নিজের হাতে ছাত্রদের জন্য খাতা তৈরি করে দিতেন। ধোপা মাস্টারের পড়ানোর পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। দৈনিক পাঠ্যক্রমটি উচ্চঃস্বরে পাঠ করতেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পাঠশালার ছাত্রছাত্রীরাও উচ্চঃস্বরে একই সঙ্গে অনুশীলন করেছে। পাঠশালার মেঝের মাঝখানে বসতেন শিক্ষক। তাকে ঘিরে চারদিকে শিক্ষার্থীরা বসতো। এটি ১৯৬৬ সালের কথা। ভোরে সূর্য উঠার মুহুর্ত থেকে ক্লাস শুরু। চলত সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ইংরেজী, বাংলা ও অঙ্কসহ সবই শেখাতেন। শেখাতেন মানুষ হওয়ার গল্প। নৈতিকতা মানব প্রেম মাথায় ঢুকিয়ে দিতেন গল্পের ছলে। যা আজ তার জীবনে চিরভাস্বর হয়ে আছে। ধোপা মাস্টারের মৃত্যুর পর পাঠশালাটি বন্ধ হয়ে যায়। এমনি পাঠশালা ছিল মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মহল্লায় মহল্লায়। এখন আর সেই পাঠশালা নেই, বিলুপ্তপ্রায়। আর মক্তব ছিল কয়েক বছর আগেও। তবে এখন নতুন রূপে মক্তব চলছে। সরকারীভাবে জেলার ৫২০ মসজিদে মক্তব চালু রয়েছে।

বজ্রযোগীনি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন ভূইয়া জানান, মুসলিম শাসনে বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা বলতে মক্তব শিক্ষাকে ধরা হয়, যা ধর্মের অনুসঙ্গ ছিল। বাংলার টোলগুলিও প্রধানত ছিল ধর্ম স¤পর্কিত উচ্চশিক্ষা। মক্তবে শিক্ষার মাধ্যম ছিল আরবি আর টোলের শিক্ষামাধ্যম ছিল সংস্কৃত। বাংলা ভাষায় শিক্ষাদানের প্রথাবদ্ধ প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ষোল শতক থেকে ‘পাঠশালা’ বলে জানা যায়। উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত বাংলার প্রাথমিক শিক্ষালাভের প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিল পাঠশালা। বাংলার কৃষক ও কারিগরদের প্রয়োজনেই এই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভব। আঠারশো পঁয়ত্রিশ সালে ইংরেজ সাংবাদিক উইলিয়াম এ্যাডাম তার প্রতিবেদনে বাংলা-বিহারে এরকম একলাখ পাঠশালার সন্ধান দেন। বাংলার প্রতি তিনটি গ্রামের দু’টিতে পাঠশালা ছিল, যেখানে বাংলা ভাষা লিখতে পড়তে এবং অঙ্ক কষতে শেখানো হতো। আঠারশো পঁয়ষট্টি সালে ইংরেজরা বাংলার শাসনক্ষমতা গ্রহণ করলেও বাংলার শিক্ষাবিস্তারে তখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়নি। ইতিহাসের নানা দিক বর্ণনা করে তিনি বলেন, ইংরেজরা বাংলার শাসন ক্ষমতা লাভ করার পর আঠারো শতকে খ্রিস্টান মিশনারিরা ভিন্ন ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করলেও তা ছিল সীমিত আকারে।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে