২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এখনও টিকে আছেন শচিরানী, রমণীকান্ত আর বিজয় রায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাঠশালায় পাঠদানের চিন্তা কঠিন হলেও বাস্তবে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রামদেবেরপাড়, রাংতা ও পয়সারহাট গ্রামে নিজ উদ্যোগে তিনটি পাঠশালায় পাঠদান করছেন শচিরানী হালদার, রমণী কান্ত বেপারী ও বিজয় রায়।

এরমধ্যে শচিরানী হালদার ৪০ বছর থেকে একটানা পাঠশালা পরিচালনা করে আসছেন। জোবারপাড় গ্রামের মৃত নরেন্দ্র নাথ হালদারের স্ত্রী শচিরানী হালদার বলেন, তালপাতা আর কয়লার কালিতে আগে শিশুদের হাতেখড়ি দেয়া হলেও এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেøট ও চকের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের হাতেখড়ি দেয়া হয়। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় বাবা-মা তাকে জোর করে বিয়ে দেন। পরবর্তীতে অজপাড়া গাঁয়ের ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে বিয়ের চার বছর পর তিনি প্রথমে স্বামীর বাড়িতে পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। টানা দশবছর পর তিনি পাঠশালার স্থান পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী মজুমদার বাড়িতে আট বছর, বৈরাগী বাড়িতে সাত বছর, বড়মাগরা গ্রামে আট বছর ও বর্তমানে বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের হরিঠাকুরের মন্দিরের সামনে সাতবছর ধরে পাঠশালা পরিচালনা করে আসছেন। আগে তার পাঠশালায় চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হলেও বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন তিনি দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের পাঠদান করছেন। নিজেই প্রশ্ন করে শিশুদের মাসিক মূল্যায়নসহ বাৎসরিক পরীক্ষা গ্রহণ করেন। দুই সন্তানের জননী শচিরানী আক্ষেপ করে বলেন, ইচ্ছে ছিল স্থায়ীভাবে ঘর তুলে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত শিশুদের মাঝেই সময় কাটাব। কিন্তু অর্থাভাবে ঘর তুলতে না পারায় আজও সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে শচিরানীর পাঠশালা প্রশংসিত হলেও এর উন্নয়নে কেউ হাত বাড়ায়নি। এমনকি বয়স্ক ভাতার কার্ডও জোটেনি শচিরানীর ভাগ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন কুমার জানান, ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকেরা মাসে একশ’ টাকা করে শচিরানীকে সম্মানী দিয়ে থাকে। পাঠশালায় হাতেখড়ি নেয়ার পর ছাত্রছাত্রীদের স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের রাখাল রায়ের ছেলে রমণীকান্ত বেপারী। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও সমাজের অসহায় শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য আট বছর ধরে রাংতা দুর্গা মন্দিরের সামনে পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তার পাঠশালায় ৩০ শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রমণীকান্ত শিশুদের পাঠদান করেন। এদিকে পয়সা গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের মধ্যে দশ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন বিজয় রায়। তিনি জানান, বর্তমানে তার পাঠশালায় ২৫ শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। মৃত্যুর পড়েও যেন মানুষ তাকে স্মরণ করে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি পাঠশালা পরিচালনা করছেন।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে