২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমিক হিরোদের গল্প

  • ইব্রাহিম নোমান

কমিক মানেই যেন ছোটদের অফুরন্ত মজার খোরাক। আর সেই মজা ও এ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে ছোটদের অন্যতম প্রিয় কমিক চরিত্রগুলো হলো চাচা চৌধুরী ও সাবু, সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান আরও কত কি। বন্ধুরা আজ তোমাদের বলবো এসব কমিক হিরোদের বিস্ময়কর গল্প। তবে তার আগে চল জেনে নিই কমিক্স বা মার্ভেল কমিক্স কি?

মার্ভেল কমিক্স হলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ কমিক্স প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সালে ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি ৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে মার্ভেল ওয়ার্ডওয়াইড কোম্পানির নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানি কিনে নেয়। মার্ভেল কমিক্স ১৯৩৯ সালে টাইমলি কোম্পানি নামে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৫০-এর শুরুর দিকে এটলাস কমিক্স নামে পরিচিতি পায়। এটি বর্তমানরূপে প্রকাশ পায় যখন এর প্রতিষ্ঠাতা ট্যান লি, জ্যাক কিরবি এবং স্টিভ ডিকোর ফ্যান্টাস্টিক ফোরসহ অন্য অতি মানবীয় (সুপারহিরো) চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেন।

মার্ভেল কমিক্স মূলত -এর বিখ্যাত অতি মানবীয় চরিত্র স্পাইডারম্যান, এক্সম্যান, ফ্যান্টাস্টিক ফোর, আয়রন ম্যান, দি হাল্ক, থর, ক্যাপ্টেন আমেরিকা এবং ডেয়ারডেভিল চরিত্রের জন্য বিখ্যাত। মার্ভেল কমিক্সের অতি মানবীয় চরিত্রগুলো মূলত মার্ভেল ইউনিভার্সের নামে পরিচিত। এই চরিত্রগুলো অনেক সময় বাস্তবজীবনের শহর যেমন নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলস এবং শিকাগোকে কেন্দ্র করে।

সুপারম্যান পোশাকের বাইরে আন্ডারওয়্যার পরে পুরো দুনিয়া উড়ে বেড়াচ্ছে। আমরাও ছোটবেলা থেকে এই দৃশ্য দেখে এতে অভ্যস্ত। শুধু সুপারম্যানই নয়Ñ ব্যাটম্যান কিংবা আরও অনেক সুপারহিরোর আন্ডারওয়্যার তাদের পোশাকের বাইরে দৃশ্যমান! তোমাদের মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে এটা কি নেহাতই গল্পের ছলে নাকি এর পেছনে কোন নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে?

সুপারহিরোদের গল্পগুলো মূলত গ্রাফিক নভেল বা কমিক্স থেকে এসেছে। ১৯৩০ সাল, মানে পুরো তিরিশের দশকে, গ্রাফিক নভেলের জনপ্রিয়তা দারুণভাবে বেড়ে যায়। এ সময় মুদ্রণ প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। এগুলোর দামও ছিল কম। সে কারণে এগুলোকে কোন ‘সিরিয়াস আর্ট ফর্ম’ হিসেবে গণ্য করা হতো না। দাম কম বলে গ্রাফিক নভেলের প্রকাশকরা এতে বেশি রঙ ব্যবহার করতে পারতেন না। রঙের ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকত চার রঙের মধ্যে। যেমন সুপারম্যানের ক্ষেত্রে লাল, নীল, হলুদ আর কালো। ব্যাটম্যানের ক্ষেত্রে ছাইরং, নীল, হলুদ ও কালো। ওয়ান্ডার ওম্যানের ক্ষেত্রে লাল, নীল, হলুদ ও সাদা।

ঘুরেফিরে এই একই রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃশ্য একঘেয়ে পরিণত হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছিল। তার ওপরে, সুপারহিরোদের শরীরের নির্দিষ্ট অংশগুলোকে আলাদা আলাদা ফর্মে দেখানো ছিল একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে। এতে দুঃসাহসী, শক্তিশালী সুপারহিরোদের ঝলকানি প্রদর্শনের একটা বাড়তি সুযোগ থাকে। পেশিবহুল শরীরের মাপকাঠি যুতসইভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যই, গ্রাফিক নভেল নির্মাতারা একটা বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন। যে সুপারহিরোর যে রঙের কস্টিউম, তার থেকে ভিন্ন রঙের একটা আন্ডারওয়্যার তাদের পরিয়ে দেন!

সব সুপারহিরোই কিন্তু প্যান্টের বাইরে আন্ডারওয়্যার পরে না। যেমন বলা যায় স্পাইডারম্যান, আয়রন ম্যান কিংবা গ্রিন ল্যান্টার্নের কথা। তবে এদেরও কিন্তু কোমরের নিচের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আন্ডাওয়্যারের এক ধরনের লাইনিং বা বর্ডারের টান আছে সূক্ষ্মভাবে!

চাচা চৌধুরী ও সাবু

ভারতের ডিজনি নামে পরিচিত কার্টুনিস্ট প্রাণের অমর সৃষ্টি এই চাচা চৌধুরী। সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের লাল পাগড়ি পরা চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর। নির্লোভ ও সৎ এই বুড়ো মানুষটির সঙ্গে আছে দূরের গ্রহ জুপিটার থেকে আসা লম্বা ও শক্তিশালী মানুষ সাবু।

এই দু’জন মিলে যেমন তাদের বুদ্ধি ও শক্তি দিয়ে অপরাধীদের দমন করেন, তেমনি ভিনগ্রহবাসী সাবুর বিচিত্র সব কাণ্ড অন্যরকম মজা দেয় ছেলে বুড়ো সবাইকে।

চাচা চৌধুরী কমিক সিরিজের প্রথম বই বাজারে আসে ১৯৭১ সালে। এরপর থেকেই হুহু করে ভারতে বাড়তে থাকে চাচা চৌধুরীর জনপ্রিয়তা। এক সময় এই জনপ্রিয়তা ভারত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। বর্তমানে ভারতের ডায়মন্ড কমিক্স প্রকাশিত চাচা চৌধুরী সিরিজটি বিশ্বের ১১টি ভাষায় অনূদিত।

ছোটবড় সবার কাছে সাদা লম্বা গোফের চাচাজীই যে শুধু প্রিয় তাই নয়। বরং তার সঙ্গে সাবু, বিনি চাচি, পৃথিবীতে একমাত্র নিরামিষ ভোজি কুকুর রকেট, সবচেয়ে বেটে মানুষ টিঙ্গু মাস্টার, কিংবা অদ্ভুত আরক পান করে অমরত্ব পাওয়া ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রাকাও অনেক জনপ্রিয়।

আমাদের দেশেও শিশুদের কাছে চাচা চৌধুরীর কমিক জনপ্রিয়। চাইলেই হাতের কাছের যে-কোন বইয়ের দোকানে কিনতে পাওয়া যাবে চাচা চৌধুরী ও সাবুর এসব রোমাঞ্চকর কমিক।

সুপারম্যান

সুপারম্যান একটি কাল্পনিক কমিক চরিত্র। এর নির্মাতা ১৯৩৩ সালে আমেরিকান লেখক জেরি সিগাল এবং জোই শাস্টার। পরে তারা ডিটেকটিভ কমিক্স (বা ডিসি কমিক্স) এর কাছে ১৯৩৮ সালে বিক্রি করে দেন। চরিত্রটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালের জুন মাসে এ্যাকশন কমিক্সের প্রথম সংখ্যায়। পরবর্তীতে নানা রেডিও চ্যানেল, টেলিভিশন সিরিয়াল, চলচ্চিত্র, সংবাদপত্রের স্ট্রিপ বা ভিডিও গেমে-এর বহুল ব্যবহার দেখা যায়। সুপারম্যান তার ব্যাপক সাফল্যের মাধ্যমে সুপারহিরো সিরিজের এক নতুনধারা চালু করে। চরিত্রের পোশাকটি বিশেষভাবে স্বতন্ত্র লাল, নীল ও হলুদের মিশ্রণে তৈরি। পোশাকটি বুকে ‘ঝ’ ফলকটি ধারণ করে আছে।

কমিকটির কাহিনী অনুযায়ী সুপারম্যান ক্রিপটন গ্রহে জন্মগ্রহণ করে। সে সময় তার নাম ছিল কার্ল এল। ক্রিপটন ধ্বংস হওয়ার আগ মুহূর্তে তার বাবা তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়। আমেরিকার ক্যানসাস শহরের এক কৃষক ও তার স্ত্রী তাকে খুঁজে পায়। সেখানে সে ক্লার্ক কেন্ট নামে বড় হতে থাকে। ছোটবেলা থেকেই তার নানা অতি মানবীয় ক্ষমতা দেখা যায়। একই সঙ্গে সে এ ক্ষমতা দিয়ে মানুষের উপকার করতে থাকে।

স্পাইডারম্যান

কমবেশি তোমরা সবাই স্পাইডারম্যানের গল্প জানো। কমিক্স থেকে কার্টুন ছবি তারপর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় আমাদের সবার প্রিয় এ চরিত্রটি। আশ্চর্যমানব স্পাইডারম্যান বিশেষ করে ছোটদের কাছে সুপারহিরো। ব্যাটম্যান, সুপারম্যানের মতোই জনপ্রিয় আরেক সুপারহিরো স্পাইডারম্যান। বাংলায় বলা যায় ‘মাকড়সামানব’। মাকড়সা যেমন জাল বিস্তার করে শিকার ধরে দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠে তেমনি স্পাইডারম্যানেরও এই ক্ষমতা আছে। স্পাইডারম্যান মূলত একটি কাল্পনিক কমিক চরিত্র। লেখক স্ট্যান লি ও কার্টুনিস্ট স্টিভ ডিটকো এই চরিত্রের স্রষ্টা। স্পাইডারম্যান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে এ্যামেইজিং ফ্যান্টাসির ১৫তম সংখ্যায়। ১৯৬০-এর দশকের যে সময়ে স্পাইডারম্যান প্রকাশিত হয় তখন কমিক বইগুলোতে টিনএজারদের দেখানো হতো প্রধান সুপারহিরোর পার্শ্বচরিত্র হিসেবে। স্পাইডারম্যানের পিটারপার্কারে গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে চালু করেন নতুনধারা। পিটারপার্কার একজন সাধারণ স্কুলপড়–য়া টিনএজার। যার মধ্যে সমবয়সীরা নিজেদের ছায়া খুঁজে পায়।

সময়ের সঙ্গে পিটারপার্কার বড় হয়ে ওঠে, স্কুল থেকে পা দেয় কলেজে। সেই সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে নানা ঝঞ্ঝাট-ঝামেলায়। কমিকে স্পাইডারম্যানকে প্রায়ই স্পাইডি, ওয়েব-সিøঙ্গার, ওয়াল-ক্রলার বা ওয়েব-হেড নামেও ডাকা হয়। এ্যামেইজিং ফ্যান্টাসিতে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে স্পাইডারম্যান মার্ভেল কমিক্সের বেস্ট সেলিং কমিক্স হিসেবে চলতে থাকে।