১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন নারীরা

  • প্রচারাভিযান কাল শুরু

সৌদি আরবে পৌর নির্বাচন সামনে রেখে রবিবার থেকে নারীরা প্রচারাভিযান শুরু করছেন। রাজতন্ত্র শাসিত দেশটিতে পুরুষের একক প্রাধান্য থাকলেও এখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে নারীরাও এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। খবর এএফপির।

আগামী মাসের ১২ তারিখ সৌদি আরবে যে পৌর নির্বাচন হচ্ছে তাতে প্রায় ৯শ’ নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও ধর্মীয় রক্ষণশীল দেশটিতে প্রথমবারের মতো নারীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ নগরীর নারী প্রার্থী নাসিমা আল সাদাহ বলছেন, দেশের উন্নয়ন বা সংস্কার চাইলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর উপস্থিতি জরুরী। দেশটির মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত কোন নারী নেই এবং নারীদের গাড়ি চালানো আইন অনুমোদিত নয়। প্রকাশ্য স্থানে নারীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হয়। পুরুষের অনুমতি ছাড়া তারা বিয়ে, চাকরি কিংবা ভ্রমণ করতে পারে না।

বিধিনিষেধ বহাল রাখার পরও সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর সময় থেকে নারী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত বিদ্যমান কিছু আইনের কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। তিনি ২০০৫ সালে পৌর নির্বাচনের নিয়মটি প্রবর্তন করেন যেন নারীদের উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়। ২০১৩ সালে তিনি মন্ত্রিসভার পরামর্শ কমিটি শূরা কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো নারীদের নিয়োগ দেন। আবদুল্লাহ এ বছর জানুয়ারিতে মারা যাওয়ার পর সালমান বিন আবদুল আজিজ তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। নারী ইস্যুতে সালমান তার পূর্বসূরির নীতি অব্যাহত রেখেছেন। উপসাগরীয় আরও কয়েকটি দেশে নারীরা ক’বছর আগেই ভোটাধিকার পেলেও সৌদি আরবে এই প্রথম নারীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হোয়াইল আল সাদাহ নামে অপর এক নারী প্রার্থী নির্বাচনে তাদের এই অংশগ্রহণ করতে পারাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটু একটু করে হলেও মেয়েরা এখন এগিয়ে আসছে। সরকারী নির্বাচন ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, এবার ১ লাখ ৩০ নারী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ২৮৪ টি কাউন্সিলের জন্য প্রায় সাত হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অনেক নারী জানিয়েছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য অনেকে ভোটার হিসেবে নিজের নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। লোহিত তীরবর্তী শহর জেদ্দার সাহার হাসান নাসিফ নামে এক নারী অধিকারকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে নিজের নামটি লেখাতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তার অনেক পরিচিত নারী এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনিও মনে করেন নারী উন্নয়নে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি আরও জানিয়েছেন, যদিও তার মায়ের বয়স এখন ৯৫ বছর তারপরও তিনি এবার ভোট দেবেন বলে আশাবাদী। যদিও নারীরা এ ব্যাপারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কিন্তু তাদের মধ্যে কতজন নির্বাচিত হতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়। কারণ, পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। মক্কা অঞ্চলের প্রার্থী সাফিনাজ আবু আলসহামাত নামে ৩৩ বছর বয়সী এক নারী প্রার্থী বলেছেন, আমি জানি নির্বাচনে জিততে পারব কিনা, তবে আমি আমার সাধ্যমতো লড়ে যাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন।