২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অশোভন আচরণের জন্য নিষিদ্ধ সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দৃষ্টি তাই তার দিকেই নিবদ্ধ থাকে সবার। খুঁটিনাটি কোন কিছুই এড়িয়ে যায় না। তবে সেই সাকিবই যখন অশোভন আচরণ করেন তখন ব্যথিত হন সবচেয়ে বেশি ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকরা। অতীতে মাঠ এবং মাঠের বাইরের অসংলগ্ন আচরণের জন্য শাস্তির সম্মুখীনও হতে হয়েছে সাকিবকে। সর্বশেষ গত বছর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞাও পেতে হয়েছিল। কিন্তু আবার মেজাজ হারিয়ে ফেললেন। এবার খেলা চলার সময় মাঠে দায়িত্বরত আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন। এতে আইসিসির কোড অব কনডাক্টের লেভেল-২ আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। আবার দিলশান মুনাবিরা আউট হওয়ার পর তাকেও কটূক্তি করে লেভেল-১ এর আচরণবিধিরও লঙ্ঘন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) সিলেট সুপার স্টারস ও রংপুর রাইডার্স ম্যাচের। ওই দুই অপরাধে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে সাকিবের। এ কারণে শুক্রবার অধিনায়ক ও আইকন সাকিবকে ছাড়াই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিরুদ্ধে নামতে হয়েছে রাইডার্সকে। ২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পেয়েছিল প্রথমবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ আসরটির আয়োজক হওয়ার কারণে। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খুব বাজে ব্যাটিং দেখিয়ে লজ্জাজনক পরাজয়বরণ করেছিল বাংলাদেশ দল অধিনায়ক সাকিবের নেতৃত্বে। ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৮ রানের বিভীষিকাময় একটি ইনিংস গড়েই মুখ থুবড়ে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। ওই ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে দুয়োধ্বনি দিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্য করে হাত দিয়ে অশালীন ভঙ্গিমা করেছিলেন সাকিব। দারুণ সমালোচিত হয়েছিলেন সে সময়। সেজন্য শাস্তি না পেলেও অবশ্য সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের রোষের শিকার হয়েছিলেন। গ্রামের বাড়িতে হামলাও করেছিলেন উচ্ছৃঙ্খল মানুষ। সে বছরই জিম্বাবুইয়ে সফরে বাংলাদেশ হেরে ফিরেছিল এবং ক্রিকেটারদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়। সে সময় আচরণগত সমস্যার কারণেও বিসিবির শ্যেনদৃষ্টিতে পড়তে হয় সাকিবকে এবং দারুণ সমালোচিতও হন। অধিনায়কত্ব হারান সাকিব। এরপর টানা তিন বছর বেশ নির্ঝঞ্ঝাটেই কাটিয়েছেন। এতকিছুর মধ্যেও খেলোয়াড় সাকিব ব্যাটে-বলে দুর্দান্তই ছিলেন। নৈপুণ্যে কোন প্রভাব পড়েনি। এমনকি ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিন ফরমেটেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারও হয়ে গেছেন সাকিব ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে। ক্রিকেটার সাকিব যেমন বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে রতœ, তেমনি আচরণের জন্য তিনি আবার বারবারই সমালোচিত হয়েছেন। গত বছর জানুয়ারিতে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আবার নিজের মেজাজ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এবারও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন টিভি ক্যামেরার দিকে উদ্দেশ্য করে। এবার আর রক্ষা হয়নি। তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হন। ফলে এশিয়া কাপে এক ম্যাচ খেলতে পারেননি। এই শাস্তিতেও নিজেকে শুধরে নিতে পারেননি বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। জুনে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে সিরিজের সময় স্ত্রী শিশিরকে গ্যালারিতে কিছু দর্শক কটূক্তি করলে মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এবার গ্যালারিতে গিয়ে মারামারি করেন। এমনকি ওই সময় অভিযোগ ছিল কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহের নির্দেশনাও ভালভাবে মানতেন না। আবার বিনা অনাপত্তিপত্র ছাড়াই (এনওসি) ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল) খেলতে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন সাকিব। হাতুরাসিংহে বিসিবির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অবশ্য তা তিন মাস পরই তুলে নেয়া হয়। দেড় বছর বেশ ভালভাবেই কাটিয়ে দিয়েছেন। স্বভাব বদলায়নি সাকিবের। সেটা বোঝা গেল বৃহস্পতিবার বিপিএলে রাইডার্স-সুপার স্টারস ম্যাচে। সিলেট অধিনায়ক মুশফিকের কট বিহাইন্ড না দেয়ায় আম্পায়ার তানভীর আহমেদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। টিভি ক্যামেরায় পরিষ্কার দেখা গেছে সাকিবের তীব্র আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা, মুখের কথার ঝাঁঝটাও প্রকাশ্য। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক শেষে আবার দূরে গিয়ে অশোভন ভঙ্গিও করেন সাকিব। দেশসেরা ক্রিকেটারের সেই আচরণ টিভির সৌজন্যে সরাসরি দেখে সারাবিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরাও। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনেও তা নিয়ে তেমন আক্ষেপ ঝরেনি সাকিবের কথায়, মাঝে মধ্যে এ রকম হয়ে থাকে। আমি আসলে ওটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’