২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাতভর সুর-তাল ও লয়ের অনুরলনে মুº ঢাকার শ্রোতা

  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ শুরুটা হলো সন্ধ্যায়, শেষ হলো ভোরবেলায়। সারারাত ধরে বয়ে গেল সুরের অনুরণন। রাতের ঘুমটাকে ফাঁকি দিয়ে সবাই কান পেতে রইল শুধুই শ্রবণের মায়াবি অবগাহনে। এক-দুই কিংবা শতজন নয়, সংখ্যায় ছিল তাঁরা হাজার হাজার। এক কথায় অগণন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিপুল বৈভবে মনের অজান্তেই যেন কেটেছে তিনটি প্রহর। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত উচ্চাঙ্গের সুর-তাল ও লয়ের সঙ্গে চলেছে শ্রোতার মিতালি। ভরতনাট্যম নৃত্য দিয়ে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পরিবেশনার সমাপ্তি হয় কণ্ঠসঙ্গীতের মাধ্যমে। মাঝে বেজেছে তরঙ্গ তোলা তবলার বোল, প্রাণস্পর্শী বাঁশির সুর, সন্তুর ও সেতারের স্নিগ্ধ সুরধ্বনি। এদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিস্মৃত দিনের হারানো গৌরবময় অধ্যায়টি যেন ফিরে পেল নবজীবন। আর এভাবেই সুন্দরের আভায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের প্রথম দিনটি। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চরজনীর উৎসবের সূচনা দিন ছিল শুক্রবার।

এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীকে। গত বছরের উৎসবে এই মঞ্চ থেকেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী এই চিত্রকর। দেশে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের চর্চা এবং প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্য চতুর্থবারের আয়োজিত মহাসঙ্গীতযজ্ঞটির আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। স্কয়ার নিবেদিত এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের দেড় শতাধিক শিল্পী। শিল্পী ও দর্শকের অশগ্রহণ এবং ব্যাপ্তির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচাঙ্গ সঙ্গীতাসরে পরিণত হওয়া বৃহৎ এ আয়োজনটি সাজানো হয়েছে দেশের নবীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে শ্রোতার মন উচাটন করা উপমহাদেশের ওস্তাদ, প-িত. গুরু ও বিদূষীদের অনবদ্য পরিবেশনা দিয়ে।

উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সঙ্গীতাসরকে রাঙিয়ে তোলেন জয়াপ্রদা রামমূর্তি। কর্ণাটকি বাঁশির সুরে শ্রোতার মননে ছড়িয়ে দেন আলোড়ন। এদেশের শ্রোতা-দর্শকদের জন্য তাঁর পরিবেশনাটি ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। পুরুষ বংশীবাদকের বাঁশির সুর শোনার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই প্রথম তাঁরা শুনতে পেল নারী বাঁশরিয়ার প্রাণস্পর্শী বাঁশির সুর। টানা এক ঘণ্টার বেশি অনবদ্য কয়েকটি পরিবেশনায় জয় করে নেন সুররসিকদের হৃদয়। কর্ণাটকি ঘরানার পাশাপাশি বাংলা সুরের আশ্রয়ে সুর তোলেন তাঁর বাঁশিতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্যামাসঙ্গীতের অনুপ্রেরণায় উপস্থাপন করেন রাগ বেহাগ। এখানেই থামলেন না যতœ নিয়ে ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ গানটির সুর উচ্ছ্বসিত করেন শ্রোতাদের। মুগ্ধতার জবাবে সঙ্গীতানুরাগীদের দুই করতল বেয়ে ঝরে পড়ে করতালি। এছাড়াও শিল্পী উপস্থাপন করেন রাগ অহির ভৈরব, রাগ হংসধ্বনি ও রাগ হিন্দোলম। জয়াপ্রদা রামমূর্তির সঙ্গে সঙ্গত করেন বাঁশিতে সুভাষ শালা, বেহালায় চক্রপানি গাঙ্গুলাকুর্থি ও মৃদঙ্গমে বালা সুব্রামানয়াণ পারুপলি। রামমূর্তির বাঁশির সঙ্গে এই শিল্পীদের মৃদঙ্গম ও বেহালার সওয়াল জবাবের পর্বটিও ছিল দারুণ আকর্ষণীয়।

প্রথম রাতের পরিবেশনার শুরুতেই মঞ্চে আসে পল্লবী ড্যান্স সেন্টার। মিনু হকের পরিচালনায় ভরতনাট্যম পরিবেশন করে একঝাঁক শিল্পী। মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির খেলায় জড়তা কাটিয়ে শুরুতেই চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে উৎসব মঞ্চ। এরপর তবলার বোলে কীর্তন পরিবেশন করেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত যে আবার জেগে উঠছে পুরনো ধারায় পরিবেশনার মাধ্যমে সেই বিষয়টিই মেলে ধরেন নবীন তবলাবাদক দল। চমৎকার পরিবেশনাটিতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেনÑ ফাহমিদা নাজনীন, জেসাস ভুবন, সুপান্থ মজুমদার, পঞ্চম স্যানাল, চিন্ময় ভৌমিক, মীর ইকবাল ইসলাম, নুসরাত-ই-জাহান, প্রশান্ত ভৌমিক ও অজয় যোগলেকার। এরপর পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরিবেশন করে ধ্রুপদ। পরিবেশনাটি পরিচালনা করেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. অসিত রায় পরিবেশনাটি উপপন্থাপন করেন অনামিকা সরকার, অর্পিতা চক্রবর্তী, হুমায়ূন কবীর, মনিশ বিশ্বাস, মৌসুমী বিশ্বাস, শুভেন্দু সরকার এবং তনুশ্রী সেন। তাঁদের সঙ্গে পাখওয়াজে সংগত করেন সঙ্গীত বিভাগের লেকচারার আলমগীর পারভেজ। প্রথম পরিবেশনা ছিল দলীয় কণ্ঠে রাগ মালকোশ। এরপর আলাপ জোড় আর ঝালা যোগে চৌতালে পরিবেশিত হয় সনাতন ধ্রুপদ ‘জয়তি জয়তি শ্রী গণেশ’। সুরতালে বাঁধা পরের গানটিও ছিল সনাতন ধ্রুপদ ‘শঙ্কর গীরিজাপতি।’

তিনটি পরিবেশনা শেষে ছিল উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। এছাড়া বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের বক্তব্যেও উঠে আসে কাইয়ূম চৌধুরীকে হারানোর বেদনা। চতুর্থতম আসরে পৃথিকৃৎ এই শিল্পীর শূন্যতার কথা প্রকাশ করেন অতিথিরা। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কাইয়ূম চৌধুরী শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন তা নয়। তিনি ছিলেন আমাদের স্বপ্নের মানুষ ও প্রেরণার উৎস। তাঁকে হারিয়ে আমরা যে শূন্যতা অনুভব করছি সেটা পূরণ হবার নয়। তিনি আরও বলেন, এখানে যাঁরা এসেছেন তাঁদের সবাই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বোঝেন না। আমিও বুঝি না। কিন্তু আসি ভাল লাগে বলে। ভাল লাগাটাই জরুরি। গান, নৃত্য, কবিতা, ছবি ও লোকসংস্কৃতির মধ্য দিয়ে নিজেদের রুচিকে উন্নত করে আমরা পৃথিবীর সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই উৎসব চতুর্থবারের মতো উদ্বোধনে এসে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এত মানুষ এক জায়গায় একত্রিত হয়েছি কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না। এটিই প্রমাণ করে যে আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি। এটি হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারবলে। অতিথিদের হাতে উৎসব স্মারক তুলেদেন আবুল খায়ের।

স্বাগত বক্তব্যে আবুল খায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সম্মতি দিয়েছেন পাঁচ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমিও শ্রোতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এত ভাল শ্রোতা পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

জয়াপ্রদার বাঁশির সুর থামতেই উৎসব আঙ্গিনায় ঝরে পড়ে সন্তুরের মধুর সুর। সুররসিকদের মোহাবিষ্ট করেন রাহুল শর্মা। সন্তুরের বাজনা শেষে কণ্ঠে খেয়াল নিয়ে মঞ্চে আসেন কৌশিকী চক্রবর্তী। গত আসরগুলোয় শ্রোতা মাতানো এই শিল্পী চতুর্থতম আসরেও কণ্ঠের খেলায় মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন শ্রোতাদের। কণ্ঠসঙ্গীতের অনবদ্য পরিবেশনা শেষে আবার যন্ত্রসঙ্গীতের সুর দরিয়ায় ভেসে যায় শ্রোতাকুল। সেতার বাজিয়ে গানপ্রেমীদের অন্তরে মুগ্ধতার বীজ বুনে দেন প-িত কুশল দাস। আর প্রথম দিনের সমাপনী পরিবেশনা যেন উৎসবে এনেছিল ভিন্ন মাত্রা। রাগ-রাগিনীর আশ্রয়ে কর্ণাটকী সঙ্গীত পরিবেশন করে ভোরের আলোয় শ্রোতার মনটি আরেকবার রাঙিয়ে দেন বিদূষী বম্বে জয়শ্রী।

আজকের উৎসবসূচী : আজ শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। যথারীতি চলবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। শুরুতেই ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের অভিজিৎ কু-ু। উৎসবে নতুন সংযোজন সরস্বতী বীণা পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। খেয়াল পরিবেশন করবেন সুস্মিতা দেবনাথ। খেয়ালের পর ধ্রুপপদ পরিবেশন করবেন প-িত উদয় ভাওয়ালকর। একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন প-িত সুরেশ তালওয়ালকর। এবারেই প্রথমবারের মতো উৎসবে এসেছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকী কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের আসরের প্রবীণতম শিল্পী। তাঁর সঙ্গে বাঁশির যুগলবন্দিতে অংশ নেবেন প-িত রণু মজুমদার। এস্রাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উৎসবে টানা চতুর্থবারের এসেছেন প-িত অজয় চক্রবর্তী। তাঁর খেয়াল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন।

জাদুঘরে হুমায়ূন আহমেদের স্মরণসভা ॥ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ব্যাংক এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিকেলে বাংলা সাহিত্যের তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, মেহের আফরোজ শাওন। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

এছাড়া জাদুঘরের ২৩ নং গ্যালারিতে হুমায়ূন আহমেদ রচিত বই-পুস্তক, পেইন্টিং, আলোকচিত্র ও স্মৃতিস্মারক নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃজনশীল কর্মে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাঙালীর স্বপ্ন দেখা, জাগরণ ও জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন বহুমাত্রিক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি আজো উজ্জ্বল হয়ে আছে। অতি সাধারণ ঘটনা তাঁর দক্ষ জাদুকরী বর্ণনায় হৃদয় স্পর্শী হয়ে ধরা দেয়। তিনি আমাদের স্মরণে ও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

আনিসুল হক বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর গল্প, নাটক, উপন্যাসে বাস্তব ঘটনার বর্ণনার পাশাপাশি হাস্যরস তুলে ধরেছেন। বাঙালীর রসবোধ তীব্র। হুমায়ূন আহমেদ যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ দক্ষতায় তার সাহিত্যের উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আবার গুরুগম্ভীর বক্তব্যের পাশে তার হাস্য, রসাত্মক বক্তব্যে পাঠক, দর্শক আনন্দিত হয়েছে।

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জাতীয় জাদুঘর প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য, বাঙালীর সংগ্রাম, গৌরবের স্মারক যেমন সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে থাকে তেমন সমকালীন সাহিত্য, সংস্কৃতির নানা উপাদান সংরক্ষণ করে। হুমায়ূন আহমেদ রচিত গ্রন্থ ও অংকিত চিত্রমালায় বাংলার রূপ বৈচিত্র্য ও বাঙালির অর্জনের নান্দনিক দিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নন্দিতনরক ও শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মিসির আলী, হিমু শুভ্র ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে সব শ্রেণীর পাঠকের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে পৌঁছেন। তাঁর অসাধারণ বর্ণনা, কাহিনী বিস্তৃতি পাঠককে সহজে কাছে টানে। হুমায়ূন হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় মানুষ। হুমায়ূন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই। তার লেখনী ও গান আমাদের মাঝে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ।

সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ শুরুটা হলো সন্ধ্যায়, শেষ হলো ভোরবেলায়। সারারাত ধরে বয়ে গেল সুরের অনুরণন। রাতের ঘুমটাকে ফাঁকি দিয়ে সবাই কান পেতে রইল শুধুই শ্রবণের মায়াবি অবগাহনে। এক-দুই কিংবা শতজন নয়, সংখ্যায় ছিল তাঁরা হাজার হাজার। এক কথায় অগণন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিপুল বৈভবে মনের অজান্তেই যেন কেটেছে তিনটি প্রহর। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত উচ্চাঙ্গের সুর-তাল ও লয়ের সঙ্গে চলেছে শ্রোতার মিতালি। ভরতনাট্যম নৃত্য দিয়ে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পরিবেশনার সমাপ্তি হয় কণ্ঠসঙ্গীতের মাধ্যমে। মাঝে বেজেছে তরঙ্গ তোলা তবলার বোল, প্রাণস্পর্শী বাঁশির সুর, সন্তুর ও সেতারের স্নিগ্ধ সুরধ্বনি। এদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিস্মৃত দিনের হারানো গৌরবময় অধ্যায়টি যেন ফিরে পেল নবজীবন। আর এভাবেই সুন্দরের আভায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের প্রথম দিনটি। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চরজনীর উৎসবের সূচনা দিন ছিল শুক্রবার।

এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীকে। গত বছরের উৎসবে এই মঞ্চ থেকেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী এই চিত্রকর। দেশে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের চর্চা এবং প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্য চতুর্থবারের আয়োজিত মহাসঙ্গীতযজ্ঞটির আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। স্কয়ার নিবেদিত এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের দেড় শতাধিক শিল্পী। শিল্পী ও দর্শকের অশগ্রহণ এবং ব্যাপ্তির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচাঙ্গ সঙ্গীতাসরে পরিণত হওয়া বৃহৎ এ আয়োজনটি সাজানো হয়েছে দেশের নবীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে শ্রোতার মন উচাটন করা উপমহাদেশের ওস্তাদ, প-িত. গুরু ও বিদূষীদের অনবদ্য পরিবেশনা দিয়ে।

উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সঙ্গীতাসরকে রাঙিয়ে তোলেন জয়াপ্রদা রামমূর্তি। কর্ণাটকি বাঁশির সুরে শ্রোতার মননে ছড়িয়ে দেন আলোড়ন। এদেশের শ্রোতা-দর্শকদের জন্য তাঁর পরিবেশনাটি ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। পুরুষ বংশীবাদকের বাঁশির সুর শোনার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই প্রথম তাঁরা শুনতে পেল নারী বাঁশরিয়ার প্রাণস্পর্শী বাঁশির সুর। টানা এক ঘণ্টার বেশি অনবদ্য কয়েকটি পরিবেশনায় জয় করে নেন সুররসিকদের হৃদয়। কর্ণাটকি ঘরানার পাশাপাশি বাংলা সুরের আশ্রয়ে সুর তোলেন তাঁর বাঁশিতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্যামাসঙ্গীতের অনুপ্রেরণায় উপস্থাপন করেন রাগ বেহাগ। এখানেই থামলেন না যতœ নিয়ে ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ গানটির সুর উচ্ছ্বসিত করেন শ্রোতাদের। মুগ্ধতার জবাবে সঙ্গীতানুরাগীদের দুই করতল বেয়ে ঝরে পড়ে করতালি। এছাড়াও শিল্পী উপস্থাপন করেন রাগ অহির ভৈরব, রাগ হংসধ্বনি ও রাগ হিন্দোলম। জয়াপ্রদা রামমূর্তির সঙ্গে সঙ্গত করেন বাঁশিতে সুভাষ শালা, বেহালায় চক্রপানি গাঙ্গুলাকুর্থি ও মৃদঙ্গমে বালা সুব্রামানয়াণ পারুপলি। রামমূর্তির বাঁশির সঙ্গে এই শিল্পীদের মৃদঙ্গম ও বেহালার সওয়াল জবাবের পর্বটিও ছিল দারুণ আকর্ষণীয়।

প্রথম রাতের পরিবেশনার শুরুতেই মঞ্চে আসে পল্লবী ড্যান্স সেন্টার। মিনু হকের পরিচালনায় ভরতনাট্যম পরিবেশন করে একঝাঁক শিল্পী। মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির খেলায় জড়তা কাটিয়ে শুরুতেই চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে উৎসব মঞ্চ। এরপর তবলার বোলে কীর্তন পরিবেশন করেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত যে আবার জেগে উঠছে পুরনো ধারায় পরিবেশনার মাধ্যমে সেই বিষয়টিই মেলে ধরেন নবীন তবলাবাদক দল। চমৎকার পরিবেশনাটিতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেনÑ ফাহমিদা নাজনীন, জেসাস ভুবন, সুপান্থ মজুমদার, পঞ্চম স্যানাল, চিন্ময় ভৌমিক, মীর ইকবাল ইসলাম, নুসরাত-ই-জাহান, প্রশান্ত ভৌমিক ও অজয় যোগলেকার। এরপর পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরিবেশন করে ধ্রুপদ। পরিবেশনাটি পরিচালনা করেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. অসিত রায় পরিবেশনাটি উপপন্থাপন করেন অনামিকা সরকার, অর্পিতা চক্রবর্তী, হুমায়ূন কবীর, মনিশ বিশ্বাস, মৌসুমী বিশ্বাস, শুভেন্দু সরকার এবং তনুশ্রী সেন। তাঁদের সঙ্গে পাখওয়াজে সংগত করেন সঙ্গীত বিভাগের লেকচারার আলমগীর পারভেজ। প্রথম পরিবেশনা ছিল দলীয় কণ্ঠে রাগ মালকোশ। এরপর আলাপ জোড় আর ঝালা যোগে চৌতালে পরিবেশিত হয় সনাতন ধ্রুপদ ‘জয়তি জয়তি শ্রী গণেশ’। সুরতালে বাঁধা পরের গানটিও ছিল সনাতন ধ্রুপদ ‘শঙ্কর গীরিজাপতি।’

তিনটি পরিবেশনা শেষে ছিল উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। এছাড়া বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের বক্তব্যেও উঠে আসে কাইয়ূম চৌধুরীকে হারানোর বেদনা। চতুর্থতম আসরে পৃথিকৃৎ এই শিল্পীর শূন্যতার কথা প্রকাশ করেন অতিথিরা। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কাইয়ূম চৌধুরী শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন তা নয়। তিনি ছিলেন আমাদের স্বপ্নের মানুষ ও প্রেরণার উৎস। তাঁকে হারিয়ে আমরা যে শূন্যতা অনুভব করছি সেটা পূরণ হবার নয়। তিনি আরও বলেন, এখানে যাঁরা এসেছেন তাঁদের সবাই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বোঝেন না। আমিও বুঝি না। কিন্তু আসি ভাল লাগে বলে। ভাল লাগাটাই জরুরি। গান, নৃত্য, কবিতা, ছবি ও লোকসংস্কৃতির মধ্য দিয়ে নিজেদের রুচিকে উন্নত করে আমরা পৃথিবীর সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই উৎসব চতুর্থবারের মতো উদ্বোধনে এসে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এত মানুষ এক জায়গায় একত্রিত হয়েছি কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না। এটিই প্রমাণ করে যে আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি। এটি হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারবলে। অতিথিদের হাতে উৎসব স্মারক তুলেদেন আবুল খায়ের।

স্বাগত বক্তব্যে আবুল খায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সম্মতি দিয়েছেন পাঁচ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমিও শ্রোতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এত ভাল শ্রোতা পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

জয়াপ্রদার বাঁশির সুর থামতেই উৎসব আঙ্গিনায় ঝরে পড়ে সন্তুরের মধুর সুর। সুররসিকদের মোহাবিষ্ট করেন রাহুল শর্মা। সন্তুরের বাজনা শেষে কণ্ঠে খেয়াল নিয়ে মঞ্চে আসেন কৌশিকী চক্রবর্তী। গত আসরগুলোয় শ্রোতা মাতানো এই শিল্পী চতুর্থতম আসরেও কণ্ঠের খেলায় মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন শ্রোতাদের। কণ্ঠসঙ্গীতের অনবদ্য পরিবেশনা শেষে আবার যন্ত্রসঙ্গীতের সুর দরিয়ায় ভেসে যায় শ্রোতাকুল। সেতার বাজিয়ে গানপ্রেমীদের অন্তরে মুগ্ধতার বীজ বুনে দেন প-িত কুশল দাস। আর প্রথম দিনের সমাপনী পরিবেশনা যেন উৎসবে এনেছিল ভিন্ন মাত্রা। রাগ-রাগিনীর আশ্রয়ে কর্ণাটকী সঙ্গীত পরিবেশন করে ভোরের আলোয় শ্রোতার মনটি আরেকবার রাঙিয়ে দেন বিদূষী বম্বে জয়শ্রী।

আজকের উৎসবসূচী : আজ শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। যথারীতি চলবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। শুরুতেই ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের অভিজিৎ কু-ু। উৎসবে নতুন সংযোজন সরস্বতী বীণা পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। খেয়াল পরিবেশন করবেন সুস্মিতা দেবনাথ। খেয়ালের পর ধ্রুপপদ পরিবেশন করবেন প-িত উদয় ভাওয়ালকর। একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন প-িত সুরেশ তালওয়ালকর। এবারেই প্রথমবারের মতো উৎসবে এসেছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকী কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের আসরের প্রবীণতম শিল্পী। তাঁর সঙ্গে বাঁশির যুগলবন্দিতে অংশ নেবেন প-িত রণু মজুমদার। এস্রাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উৎসবে টানা চতুর্থবারের এসেছেন প-িত অজয় চক্রবর্তী। তাঁর খেয়াল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন।

জাদুঘরে হুমায়ূন আহমেদের স্মরণসভা ॥ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ব্যাংক এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিকেলে বাংলা সাহিত্যের তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, মেহের আফরোজ শাওন। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। স্বাগত ভাষণ দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

এছাড়া জাদুঘরের ২৩ নং গ্যালারিতে হুমায়ূন আহমেদ রচিত বই-পুস্তক, পেইন্টিং, আলোকচিত্র ও স্মৃতিস্মারক নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃজনশীল কর্মে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাঙালীর স্বপ্ন দেখা, জাগরণ ও জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন বহুমাত্রিক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি আজো উজ্জ্বল হয়ে আছে। অতি সাধারণ ঘটনা তাঁর দক্ষ জাদুকরী বর্ণনায় হৃদয় স্পর্শী হয়ে ধরা দেয়। তিনি আমাদের স্মরণে ও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

আনিসুল হক বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর গল্প, নাটক, উপন্যাসে বাস্তব ঘটনার বর্ণনার পাশাপাশি হাস্যরস তুলে ধরেছেন। বাঙালীর রসবোধ তীব্র। হুমায়ূন আহমেদ যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ দক্ষতায় তার সাহিত্যের উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আবার গুরুগম্ভীর বক্তব্যের পাশে তার হাস্য, রসাত্মক বক্তব্যে পাঠক, দর্শক আনন্দিত হয়েছে।

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জাতীয় জাদুঘর প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য, বাঙালীর সংগ্রাম, গৌরবের স্মারক যেমন সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে থাকে তেমন সমকালীন সাহিত্য, সংস্কৃতির নানা উপাদান সংরক্ষণ করে। হুমায়ূন আহমেদ রচিত গ্রন্থ ও অংকিত চিত্রমালায় বাংলার রূপ বৈচিত্র্য ও বাঙালির অর্জনের নান্দনিক দিক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নন্দিতনরক ও শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মিসির আলী, হিমু শুভ্র ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে সব শ্রেণীর পাঠকের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে পৌঁছেন। তাঁর অসাধারণ বর্ণনা, কাহিনী বিস্তৃতি পাঠককে সহজে কাছে টানে। হুমায়ূন হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় মানুষ। হুমায়ূন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই। তার লেখনী ও গান আমাদের মাঝে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ।

নির্বাচিত সংবাদ