১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের লোকজন বলবে বিদ্যুৎ লাগবে - কৃষি মন্ত্রী মতিয়া

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের লোকজন বলবে বিদ্যুৎ লাগবে - কৃষি মন্ত্রী মতিয়া

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ‘চুরি নেবো গো চুরি’ আমদের দেশের এক শ্রেনীর লোক বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এভাবেই চুরি বিক্রি করতেন। এখন সময় এসেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের লোকজন বলবে বিদ্যু লাগবে, বিদ্যুৎ। ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাবার সময় ৪৩০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সাথে ক্ষমতায় এসে ২০০০ মেগওয়াট বিদুৎ পেয়েছি। গত ৭ বছরে আমারা সেই বিদ্যুৎ ১৩ হাজার মেঘওয়াটে উন্নতি করেছি। আরো বিদ্যুৎ আসছে ভূটান, নেপাল ও ভারত থেকে। একই সাথে আমারাও দেশে পারমানবিক ও কয়লা বিদুৎ কেন্দ্রসহ বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী করছি। তাই খুব শিঘ্রই ফেরি ওয়ালার মত বিদ্যুতের লোকদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে হবে। কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা মাঠে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে সোলার হ্যাজাক লাইট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যারা আজ দেশে হত্যা, হানাহানি, বোমাবাজি জঙ্গিবাদের পক্ষে কাজ করছে ,তারা চায় বঙ্গবন্ধুর মত তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যাতে দেশটাকে সাজাতে না পারে। দেশে জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা চেয়েছিল খালেদার ছেলে দেশে ফিরে আসুক। আবার লটুতরাজ শুরু করুক। দেশটা জাহান্নামে যাক। তাঁর ছেলে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাক। আল্লাহ জালিমের দোয়া কবুল করেননা, মজলুমের দোয়া কবুল করেন। বেগম জিয়া আপনার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

জঙ্গীদের নেত্রী হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। ৯২ দিন আন্তঘাতভাবে দেশটাকে রেখে একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন, কিছু কিছু পারার জন্য একটু ক্ষতি হয়ে থাকে। ওনার জান পাথরের মত শক্ত। ছেলের লাশ দেখতে তিনি ২০ মিনিট পরে উপর থেকে নীচে নামলেন। লাশের এক পাশে উনি অন্য পাশে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু। ছেলের মৃত্যুর তিন দিন পরেও তিনি কবর জিয়ারত করতে গেলেন না। এমন কি যে স্বামী জিয়াউর রহমানের তাবিজ বিক্রি করে তিনি চলেন। তাঁর মৃত্যুর বার্ষিকীতেও তিনি জিয়ারত করতে কবরে যাননি। তিনি প্রতিক্ষা করেছিলেন শেখ হাসিনাকে পতন ঘটিয়েই ঘরে ফিরবেন। উনি ঘরে ঠিকই ফিরেছেন, তবে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে পারেননি।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, এদেশের মানুষ শেখ হাসিনার আমলে জ্ঞানের আলো পেয়েছে। জানুয়ারির ১ তারিখে আমরা ছেলে মেয়েদের হাতে বই পৌছে দিচ্ছি। তাও তাদের ভাল লাগেনি। বিজি প্রেসে আগুন দেয়া হয়েছিল। তার পরেও আমরা বই পৌছে দিয়েছি। যোগাযোগ খাতে প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। কৃষি কাজে আসছে ব্যাপক সফলতা। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, মুন্সীগঞ্জে আর কৃষি কাজ থাকবেনা। মুন্সীগঞ্জের এ অঞ্চল হয়ে যাবে শহর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছেন এ অঞ্চলকে হংকংয়ের মত শহরে পরিনত করবেন।২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবার সময়ে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সাথে ক্ষমতা গ্রহণকালে দেশে খাদ্য ঘাটতি পাই। গত ৭ বছরে আবার দেশেকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন করে এখন বিদেশেও চাল রপ্তানি করছি। আমরা জাতিসংঘের পুরস্কার পেয়েছি। জাতিসংঘের পুরস্কার পয়সা দিয়ে কেনা যায়না। পর পর তিন বছর খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্ণতার জন্যই এ পুরস্কার আমরা পেয়েছি।

মন্ত্রী বলেন শেখ হাসিনা শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। যে পার্বত্য চট্রগ্রামে আমরা যেতে পারতামনা। সেখানে কোন তৃতীয় দেশের সহযোগিতা না নিয়ে আমরা শান্তি চুক্তি করেছি। সেখানে আজ আম ও মালটা উৎপন্ন হচ্ছে। এক সময় চাঁপাই নবাগঞ্জের আম কাওরান বাজার দখল করে রেখেছিল। আর আজ সেখানে পার্বত্য চট্রগ্রামের আম জায়গা করে নিয়েছে।পার্বত্য চট্রগ্রামের সবুজ মালটা এখন ঢাকায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে সহজেই শাকসবজি ও ফলমূল কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজধানীতে চলে আসছে। শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন। দক্ষিণবঙ্গের মানুষও কয়েক ঘন্টার ঢাকায় পৌছতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত শাক সবজি ও কৃষি পন্যাদিও সহজেই ঢাকায় চলে আসবে পদ্মা সেতুগুনে। কিন্তু এ সকল উন্নয়ন ওনাদের ভাল লাগছেনা বলেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে চায়।

মন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের সর্ম্পকে বলেন, এ দেশে একটা পাপ ছিল। আমাদের ওয়াদা ছিল এই পাপীদের বিচার করা। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নিলেও বঙ্গুবন্ধুর বিচারসহ নানা কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন তা আমরা করছি।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওসমান গনি তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক হুইপ ও স্থানীয় এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল, পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফকির আব্দুল হামিদ,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রশিদ সিকদার, লৌহজং ইউএনও মো. খালেকুজ্জামান,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজনিন আক্তার স্বর্ণা।