২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরিচয় ভিত্তিক বিদ্বেষ সামাজিক সম্প্রীতির প্রধান অন্তরায়। বিদ্বেষপূর্ণ এ আচরণ দূর করতে রাষ্ট্রের ভূমিকাই মূখ্য। তবে এর জন্যে মানসিক চিন্তার পরিবর্তন প্রয়োজন। সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্যে বহুলাংশইে রাষ্ট্র ও রাজনীতি দায়ী। বাংলাদেশের সমাজে একই সঙ্গে ধর্মতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিরাজ করছে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ছাড়াও দেশে বহু প্রগতিশীল ধর্মপ্রাণ আলেম ওলেমা, পুরোহিত ও ধর্মযাজক রয়েছেন। তাই হাজার বছর ধরে চলমান এ সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলেমা-পুরোহিত-ধর্মযাজকদের উচিত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনে নেমে আসা।

শনিবার রাজধানীর দি ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। দেশের বহুত্ববাদী সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ ও ‘ডাইভারসিটি সেন্টার’র যৌথ উদ্যোগে ওই বৈঠকর আয়োজন করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে সামজের সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন সংঘর্ষের উৎপাত কিন্তু গ্রাম থেকে। ঐতিহ্যগতভাবে এ সমস্যা, তবে তা স্থায়ী নয়। সম্প্রীতির এ সমস্য দূর করা সম্ভব। আর তা দূর করতে না পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যহত হবে।

তিনি আরও বলেন, একের অপরের প্রতি বিদ্বেষমূলক ভাষার যে ব্যবহার, রাজনৈতিক দলগুলোকে তা পরিহারের পরামর্শ দিয়েছিলাম বহু আগে থেকেই। কিন্তু একে অপরের উপর আক্রমণের যে ভাষা তা পরিবর্তন হয় নি। এমনকি সুশীল সমাজের লেখনীতেও নেতিবাচক শব্দের প্রয়োগ পরিলক্ষিত। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে তাই দরকার মানসিক পরিবর্তন। এসময় তিনি সর্তক করে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যে কোন সময় যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেন, সবকিছুই যে রাজনৈতিকভাবে হচ্ছে তা নয়, সমাজের ভেতরেও বিভেদ রয়েছে। পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীরা যেন নিজেরা নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। আদিবাসী ও দলিতদের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান ধারণা প্রচলিত রয়েছে, চাই সেই মানসিকতার পরিবর্তন।

ফরিদা আখতার বলেন, মনে রাখতে হবে ধর্ম সামাজিক সম্প্রীতির একটি অংশমাত্র। তাই সম্প্রীতির ক্ষেত্রে ধর্মই সমাধান নয়। জঙ্গীবাদের ইস্যুকে পূঁজি করে শুধুমাত্র ধর্মীয় লেবাসের মানুষকে সন্দেহ করলে চলবে না।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রানা দাসগুপ্ত বলেন, আমাদের সমাজে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। তবে সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্যে বহুলাংশইে রাষ্ট্র ও রাজনীতি দায়ী। বাংলাদেশে একই সঙ্গে ধর্মতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা লক্ষ্যণীয়। দেশে বহু প্রগতিশীল ধর্মপ্রাণ আলেম ওলেমা, পুরোহিত ও ধর্মযাজক রয়েছেন। সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে এসব ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলেমা-পুরোহিত-ধর্মযাজকদের আন্দোলনে নামা উচিত।

গোলটেবিল বৈঠকে ‘বাংলাদেশ:সামাজিক সম্প্রীতির প্রধান অন্তরায় পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়, মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে আহমদীয়া সম্প্রদায় মূলধারার মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিদ্বেষ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনা শুরু হয়েছে, যা পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষের সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এমনকি ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশে সুন্নী মুসলিম পরিচয়টি প্রবল ক্ষমতাগোষ্ঠী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। তা ভবিষ্যতে আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রফেসার মো: ঈব্রাহিম, আব্দুল মুয়িদ চৌধুরি, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং বিশিষ্ট ব্যাংকার লুৎফে সিদ্দিকী প্রমুখ।