১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুখতে হবে অপশক্তি

রাজধানীর হোসেনী দালানে আশুরার তাজিয়া মিছিলে হামলার পর এবার দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিয়া সম্প্রদায়ের এক মসজিদে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের হরিপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মসজিদ-ই-আল মোস্তফায় নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায় দৃর্বৃত্তরা। হামলায় মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন নিহত এবং তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। বগুড়ার ঘটনার পর রাজধানীসহ সারাদেশে শিয়া ও আহমদিয়া সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে জঙ্গীদের তৎপরতায় সব মহলেরই উদ্বেগ রয়েছে। এদের কার্যকলাপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মানুষে মানুষে সৌহার্দ-সম্প্রীতির জন্যও চ্যালেঞ্জ। পর পর কয়েকটি অনাকাক্সিক্ষত সন্ত্রাসী ঘটনায় দেশ-বিদেশে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন কুচক্রী মহল। নানা ধর্ম আর নানা মতের সহাবস্থান এ দেশের ঐতিহ্য। ধর্মীয় উগ্রতা নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ কখনও মাথা ঘামায়নি। কিন্তু ইদানীং আইএস পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে একটি মহল বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- সংঘটিত করছে। বগুড়ায় শিয়া মসজিদে মুয়াজ্জিনকে হত্যা একই সূত্রে গাঁথা।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে বিভিন্ন সময় চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আখেরে তারা সফল হয়নি। কারণ এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, কোন হিংস্রতা, উগ্রতা ও ধর্মান্ধতার প্রশ্রয় দেয় না। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নামে ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন লেবাসে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এই সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির হত্যাসহ বিভিন্নভাবে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। তারা সাধারণ মানুষ হত্যা, পুলিশ হত্যাসহ নৃশংস সন্ত্রাস করে চলছে। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পেট্রোলবোমায় মানুষ হত্যাসহ টানা ৯২ দিন ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে যে তা-ব চলেছে, সেই আলামত এখনও স্পষ্ট। এখন সন্ত্রাসী কর্মকা- হচ্ছে আইএস ও অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের নামে। বগুড়ার এই হামলা এবং তাজিয়া মিছিলে হামলাসহ সাম্প্রতিক হত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। অপরাধগুলো সত্যিকারে আইএস করছে না এর মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে সঠিক তদন্ত হলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

একের পর এক ব্লগার হত্যা, বিদেশী নাগরিক হত্যা, হত্যার চেষ্টা, তাজিয়া মিছিলে হামলাসহ সর্বশেষ বগুড়ার শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে হত্যাকা-ের ঘটনার মাধ্যমে দেশকে একটি অনিরাপদ, জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িক বিরোধসঙ্কুল স্থান হিসেবে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। লক্ষ্য, দেশের অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথই হচ্ছে এসব অপকর্মের হোতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা। আমরা আশা করব দ্রুত এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এমন ঘটনা আর নয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। অপশক্তি কোনভাবেই যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ দায়িত্ব দেশের সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের।