২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু ...

  • তাপস মজুমদার

বিষয়টি খুবই জটিল; আবার সরলও। সরল বলছি এই জন্য যে, জ্ঞানপাপী, বোকা ও মূর্খ ছাড়া বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব মানুষই জানেন যে, আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী আজ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্রথমত এটা বোঝার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যাদের চোখ-কান খোলা এবং মোটামুটি সচেতন ও অনুভূতিপ্রবণ একটা মন আছে তারা সহজেই অনুভব করেন যে, ষড়ঋতুর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো এখন আর আগের মতো অনুভূত হয় না। বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত হয় অনেক কম অথবা বেশি; কখনও বা বর্ষার আগমন ঘটে বিলম্বে এবং পরে তা দীর্ঘায়িত হয়ে রূপ নেয় অকাল বন্যায়। শরত-হেমন্তের খবরাখবর মেলে পত্র-পত্রিকার সচিত্র সংবাদে অথবা টেলিভিশনের রঙ্গিন পর্দায়। শীত এসেই বলে যাই এবং দু’চার দিন বাদে সত্যি বলতে কী, শীত তেমন অনুভূতই হয় না। ঋতুরাজ বসন্তে ফুল কখন ফোটে আর কখন ঝরে যায় সবার অলক্ষ্যে, কে জানে! কবি তো আক্ষেপ করে লিখেই ফেলেন, ‘মরি হায়, বসন্তের দিন চলে যায় ....’। সব মিলিয়ে মনে হয়, কেন যেন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে গ্রীষ্মকাল, চৈত্রের তাপদাহ, দাবদাহ প্রলম্বিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ও অন্যান্য মাসে। আজকাল আবহাওয়া নিয়ে শুধু ইউরোপ (ব্রিটিশ), আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-কানাডার অধিবাসীরাই আলাপ-আলোচনা করেন না; বরং প্রায় সর্বত্রই এ নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় ও তথ্যাদির আদানপ্রদান পরিলক্ষিত হয়। পত্র-পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলগুলোর বেশ বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে দৈনন্দিন আবহাওয়ার খবর, কোথায় রয়েছে জলাবদ্ধতা, কোথায় হয়েছে ভারি বৃষ্টিপাত, কোথায় হয়েছে বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি অথবা কোথায় শুরু হয়েছে তুষারপাত, ঝড়-ঝঞ্ঝা-টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটকথা আমরা যা বলতে চাচ্ছি, তা হলো প্রায় সমস্ত বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়েছে বিরূপ প্রকৃতির রুদ্ররূপের খেলা ও খামখেয়ালিপনা এবং এসবের পরিণতিতে অনিবার্য ধ্বংসযজ্ঞ।

এ অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। যেদিন মানুষ তার বেঁচে থাকার অনিবার্য প্রয়োজনে গাছ থেকে কেবল গুটিকতক ডাল বা ফল নয়, বরং গোটা একটি গাছই ভূপাতিত করল, প্রকৃতপক্ষে সেদিন থেকেই শুরু হলো প্রকৃতির অবক্ষয়। এখানে মনে রাখতে হবে যে, আদিম মানুষ কৃষিকাজ আবিষ্কার করেছে অনেক পরে; বৃক্ষরোপণ তো আরও অনেক পরের কথা। স্বল্পপরিসরে অত কথা ও ইতিহাস তো বলা যাবে না পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে। মোটা দাগে বলা যায়, অনিবার্য কালের প্রবাহে মানুষের সংখ্যা ও চাহিদা বেড়েছে। আর তা মেটানোর জন্য প্রকৃতিকে অনবরত ব্যবহার করেছে মানুষ, এমনকি বশে আনতে চাইছে। সাত শ’ কোটি মানুষের দৈনিক খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য বর্তমানে শুধু উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক নয়; বরং জিএম ফুড (জেনেটিক্যাল মডিফায়েড) উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছে। এর পাশাপাশি নিত্য নতুন আবিষ্কারের নেশায় মত্ত হয়েছে বিজ্ঞানীরা, ধাবিত হয়েছে প্রযুক্তি থেকে আরও উন্নত প্রযুক্তিতে। এর শেষ কোথায়, তা আমরা জানি না। এর ফল ভাল হয়েছে কি খারাপ, সেই কূট-বিতর্কেও আমরা যাব না। তবে বাস্তবতা হলো, এসবের বিরূপ ও বিষময় ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রকৃতির প্রতিশোধ নেয়ার স্পৃহা থেকে, বিরূপতা থেকে। কেন যেন প্রকৃতি আর আগের মতো সদয় ও অনুকূল আচরণ করছে না মানুষের প্রতি।

বর্তমান নিবন্ধটি সিরিয়াস গবেষণাধর্মী এবং তথ্য কণ্টকিত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়; দৈনিকের পাতা এর উপযুক্ত জায়গাও নয়। শুরু করেছিলাম বৃক্ষ কর্তন দিয়ে। বর্তমানে বৃক্ষ রোপণের ধারণা বিরাজ করলেও বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন বিশ্বে আরও অনেক বেশি গাছ কাটা হচ্ছে। কেননা চাষের জমির চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে বাসস্থানের চাহিদা, সেই অনুপাতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন শহর-গঞ্জ, শিল্পকারখানা। এর জন্য অনিবার্য চাই জ্বালানি- গ্যাস, কয়লা, বিদ্যুত, জলবিদ্যুত, পেট্রোল, ডিজেল, সৌরবিদ্যুত, এমনকি পরমাণু বিদ্যুত। যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যও চাই বিপুল জমি অধিগ্রহণ। সুতরাং নদ-নদী, খাল-বিল, কৃষি জমি, জলাভূমি, পাহাড় পর্বত প্রতিনিয়ত দখল হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের জন্য যত বেশি জ্বালানি পুড়ছে, বাতাসে তত বাড়ছে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ। এই কার্বন বায়ুম-লে মিশে উর্ধম-লে গিয়ে দুই মেরুতে সৃষ্টি করছে ওজোন হোল (গর্ত)। হাল্কা-পাতলা ওজোনের স্তর পৃথিবীকে সূর্যের অতি ক্ষতিকর তেজষ্ক্রিয় বেগুনি রশ্মি তথা আল্ট্রা ভায়োলেট রে থেকে রক্ষা করে থাকে। তাতে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার ফলে এখন অতি বেগুনি রশ্মীর বর্ষণ বেশি হচ্ছে পৃথিবীতে। অতঃপর অনিবার্য ক্ষয়ে যাচ্ছে সুমেরু-কুমেরু, পাহাড়-পর্বতের কয়েক হাজার বছরের বরফের স্তর, যাকে বলে পারমাফ্রস্ট। ফলে বাড়ছে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা। বাড়ছে জোয়ার-ভাটার পরিমাণ ও স্থায়িত্ব। এর পাশাপাশি উষ্ণ ও শীতল মহাসাগরীয় স্রোত এল নিনো লা নিনার প্রভাব। ফলে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চল হচ্ছে প্লাবিত। দুর্যোগকবলিত হচ্ছে মানুষ। বাস্তুচ্যুত ও ভূমিহীন হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসী। বেঁচে থাকার অনিবার্য তাগিদে উপদ্রুত অঞ্চল থেকে প্রধাবিত হচ্ছে অন্য কোথাও। এতেও ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির।

এর বাইরেও রয়েছে যুদ্ধ। আদিকাল থেকেই তো মানুষ আধিপত্য বিস্তারের অভিপ্রায়ে চালিয়েছে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি। বর্তমান বিশ্বে তা আরও বেড়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র ছড়িয়ে পড়েছে ও পড়ছে বিশ্বব্যাপী। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন তো আছেই; মানুষ যেন আরও যুদ্ধক্ষেত্র তৈরির নেশায় মেতেছে। হয়ে উঠেছে মদমত্ত, যুদ্ধবাজ। আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় চলছে প্রবল উত্তেজনা। বিশেষ করে সিরিয়া-ইরাক ও আইএসকে ঘিরে প্রায় একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাওয়ার আলামত হয়ত অনেকটাই স্পষ্ট। হয়ত বাধবে, হয়ত বাধবে না- সে আলোচনা ভিন্ন। তবে সত্য হলো- যুদ্ধও প্রকৃতির সমূহ ক্ষতিসাধন করে, লাখ লাখ মানুষকে করে বাস্তুচ্যুত, পরবাসী। সর্বোপরি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও ডামাডোলে যেসব তেলক্ষেত্র, গ্যাসফিল্ড, কয়লাখনি ও খনিজসম্পদ পুড়ে যায় ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়- তাও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে প্রকৃতি ও পরিবেশে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যাবে যে, প্রকৃতি ও পরিবেশের শুশ্রƒষা ও রক্ষণাবেক্ষণের তুলনায় মানুষের বিলাসব্যসন এবং ধ্বংসের প্রবণতা অনেক বেশি। ফলে পৃথিবী ক্রমশই হয়ে পড়ছে ছন্নছাড়া ও বিপর্যস্ত; মনুষ্য বসবাসের প্রায় অনুপযোগী। হয়ত রাতারাতি বা কয়েক বছরে তা হবে না; তবে ২০৫০ সাল নাগাদ যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পাঁচ মিটার বাড়বে, একথা জলবায়ু ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে বেশ জোরেশোরে।

এ অবস্থায় অনিবার্য প্রশ্ন জাগে, আমাদের অবস্থা কী অথবা আমাদের অস্তিত্ব কোথায়? জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সংস্থা ইউএনআইএসডিআর ও বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন দ্য এপিডোমলজি অব ডিজাস্টারস (সিআরইডি) যৌথভাবে প্রণীত এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে, বাংলাদেশে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ গত ২০ বছরে দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। দুর্যোগের কারণে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। দ্বিতীয় ভারত এবং প্রথম চীন। তবে জনসংখ্যা ও আয়তনের বিচারে বাংলাদেশে দুর্যোগের চাপ বেশি। (দি হিউম্যান কস্ট অব ওয়েদার রিলেটিভ ডিজাস্টার, ১৯৯৫-২০১৫)।

গত ২০ বছরে বিশ্বে ৯০ শতাংশ দুর্যোগের মধ্যে ছিল বন্যা, ঝড়, খরা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগ। তবে প্রতিবেদনে দুর্যোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও এর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। বাহুল্য বিধায় এখানে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর সম্পর্কে আলাদাভাবে উল্লেখ না করে বলা যায়, তখন সাড়ে চার হাজার স্কুল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে প্রতিবেদনে। এ থেকেই অনুমিত হয়, দুর্যোগ কীভাবে পঙ্গু করে দেয় জাতীয় অর্থনীতিকে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, আগামীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ তলিয়ে যাবে এবং কমপক্ষে কয়েক কোটি মানুষ হবে বাস্তুচ্যুত। প্রশ্ন হলো, সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি আমরা আদৌ প্রস্তুত? এক কথায় এর উত্তর, না। প্রসঙ্গত বলি, মালদ্বীপের অবস্থাও অনুরূপ সঙ্গিন হওয়ায় তারা অন্তত চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক প্রতীকী হিসেবে সমুদ্রতলে করতে সক্ষম হয়েছে। অতঃপর মোটাদাগে কিছু তথ্য সন্নিবেশিত হলো পাঠকের অবগতির জন্য।

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১৪-২০৫০ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণে আর্থিক ক্ষতি হবে ১১ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়, তাহলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত হয়ে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশু। ডিহাইড্রেশনসহ তারা অপুষ্টিতে ভোগে। ভাষা দক্ষতা ও স্মৃতি শক্তিতে পিছিয়ে পড়ে, উচ্চতা ও ওজন কম হয়, সর্বোপরি বঞ্চিত হয় শিক্ষা থেকে। সে অবস্থায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, সময়োপযোগী এবং সব পর্যায়ের জন্য ব্যবহারোপযোগী করে তোলা বর্তমান সময়ের দাবি।

প্যারিসে চলতি মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন। সহিংস হামলা সত্ত্বেও এ সম্মেলনে বিশ্বের দুই শতাধিক নেতার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বভাবতই সেখানে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তন, বিরূপ প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মানব সভ্যতার ভবিষ্যতও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে। সেখানে যে প্রশ্নগুলো অনিবার্য হয়ে উঠবে তাহলো জলবায়ু পরিবর্তনের গতি পাল্টে দিয়ে আমরা কি ক্ষতিকর গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ কমাতে সক্ষম হব? নাকি, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সেই বিপজ্জনক মাত্রাকে অতিক্রম করে যাব। নাকি ২০০৯ সালে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত তীব্র মতদ্বৈধতা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে আবারও? ৩০ নবেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যারিস শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনের ফলাফলেই বেরিয়ে আসবে এসব প্রশ্নের উত্তর।

তবে বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি আরও জটিল, গভীর ও সুদূরপ্রসারী হয়েছে। যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল, তার নিরসন হয়নি। জলবায়ু সংলাপে ধনী, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত রাষ্ট্রগুলো এখনও পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থানে। সুতরাং গত দুই দশক ধরে চলমান মূল বিতর্কের অবসান হবে- এমন আশা করা বোধকরি সুদূরপরাহত। প্যারিস সম্মেলনের ঘোষিত লক্ষ্য হবে, ‘২০১০ সালে জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রাকে আয়ত্তের মধ্যে রাখা।’ অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এবারও এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মত কোন ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবেন না। তাই বলে কি থেমে যাবে সব উদ্যোগ, আয়োজন-আলোচনা? না, তাও নয়। অন্তত সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যও সর্বদাই সংলাপ চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক।