২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লেনদেন কমলেও তিন কোটি ছাড়িয়েছে গ্রাহক

  • মোবাইল ব্যাংকিং

রহিম শেখ ॥ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং কেবল টাকা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অনেক নতুন নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে এতে। প্রতিমাসেই বাড়ছে বিভিন্ন সেবা বিল দেয়ার পরিমাণ। প্রথমবারের মতো গত অক্টোবর শেষে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার। গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে কমেছে দৈনিক গড় লেনদেন। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৩৪ কোটি টাকার কিছু বেশি। যা আগের মাসে ছিল ৫০০ কোটি টাকার ওপরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অক্টোবর শেষে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার। যেখানে ১ মাসের ব্যবধানে অর্থাত সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে গ্রাহক ছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার। গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে কমেছে দৈনিক গড় লেনদেন। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৩৪ কোটি টাকার কিছু বেশি। যা আগের মাসে ছিল ৫০০ কোটি টাকার ওপরে। এখানে ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম লেনদেন হয়েছ আগের মাসের তুলনায়। আবার গ্রাহকের পাশাপাশি বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি বা এজেন্ট। সেপ্টেম্বরের চেয়ে অক্টোবরে এজেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৩ জনে। হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে অ্যাকটিভ (সক্রিয়) একাউন্টের সংখ্যা। অক্টোবরে অ্যাকটিভ একাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২০ লাখের কিছু বেশি। যা সেপ্টম্বরে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অক্টোবর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার ৪১ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছ। যা সেপ্টেস্বরে ছিল ১৫ হাজার ৬৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসিক লেনদেন কমেছে ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জনকন্ঠকে বলেন, ঈদুল আযাহার কারণে ওই সময় অনেকে নিজ বাড়িতে বা আত্মীয়স্বজনকে টাকা পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা তুলনামূলভাবে একটু বেশি ব্যবহার করেছে। অক্টোবরে যেটা হয়েছে সেটা স্বাভাবিক লেনদেন। আলোচ্য মাসটিতে প্রবাসী আয়ের লেনদেন কিছুটা কমেছে। এসময়ে লেনদেন হয়েছ ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা যা সেপ্টেম্বরে ছিল সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এ সেবার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে টাকা উত্তোলন (ক্যাশ আউট) করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা যা আগের মাসে ছিল ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে অন্যের হিসাবে টাকা পাঠিয়েছেন এমন লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার ২৯২ কোটি ৫০ লাখ যা আগের মাসে ছিল ২ হাজার ৪৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ মাসটিতে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা যা আগের মাসে ছিল ১৪৬ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছিল ১৬৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। যা কমে গিয়ে অক্টোবরে দাড়িয়েছে ১৩৪ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। অন্যান্য খাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৩১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলেন, গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এখন সঠিক গ্রাহক ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর লেনদেন কিছুটা কমলেও এটা স্বাভাবিক রয়েছে, আগের মাসে ঈদের কারণে লেনদেন একটু বেড়েছিল।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ২৮ ব্যাংককে অনুমোদন দিলেও এ সেবা দিচ্ছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এরপরই আছে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং। সম্প্রতি এ সেবার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে অর্থ লেনদেনে যাতে এ মাধ্যম ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।