১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চামড়া শিল্প নিয়ে যত আগ্রহ

জসিম উদ্দিন ॥ দক্ষ মানবসম্পদ, কাঁচামালের পর্যাপ্ততা আর সাশ্রয়ী মূল্যের শ্রম এই তিন সুবিধা বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। এজন্য বিভিন্ন দেশের উন্নত প্রযুক্তি আর কাঁচামাল উৎপাদনকারীদের আগ্রহ এই খাতকে ঘিরে। এছাড়া চামড়া কারখানাগুলোকে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পপল্লীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এই শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করেন তারা। প্রসঙ্গত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এখন দেশের দ্বিতীয় প্রধান রফতানি খাত।

রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন সিটিতে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ‘৩য় লেদারটেক বাংলাদেশ-২০১৫’ এ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব মত দেন। বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হয় শনিবার সন্ধ্যায়।

মেলায় বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবু তাহের বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলোকে সাভারের চামড়া শিল্পপল্লীতে স্থানান্তরের কাজ চলছে। আগামী মাসেই কয়েকটি কারখানা সেখানে স্থানান্তর হবে। এছাড়া মার্চ মাস নাগাদ অর্ধেকের বেশি কারখানা চামড়া শিল্পপল্লীতে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পপল্লীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ছিল যুগোপযোগী। যা বিশ্ববাজারে শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।

বিভিন্ন কারখানার মেশিনারি আর প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান লিন্যাক্স টেকনোলজি লিমিটেডের সেলস্্ এন্ড সার্ভিস বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মোঃ সোলয়মান হোসেন জানালেন, বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিষয় পাড়ানো হয়। এতে করে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া এখানে কাঁচামালের (চামড়া) পর্যাপ্ততা আর সাশ্রয়ী মূল্যের শ্রম সুবিধা বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে তিনি।

সোলয়মান জানালেন, নতুন উদ্যোক্তারা এমন মেলায় এলে সব কিছু এক ছাদের নিচে পেয়ে থাকেন, যাতে তারা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন আয়োজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

চীনের চামড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেগা লেদার কোম্পানির বিক্রয়কর্মী ড্যানিয়েল চু জানালেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোন মেলায় তারা অংশ গ্রহণ করেছেন। তবে, এখানে ভাল বাজার তৈরি ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। সর্বশেষ প্রযুক্তি, গুণগতমান আর সাশ্রয়ী মূল্য এই তিন বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোন উদ্যোক্তার মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আশা করেন ড্যানিয়েল।

মেলায় অংশ নেয়া চীনের সিনথেটিক ও প্লাস্টিক ফেব্রিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সানগোল‘র মহাব্যবস্থাপক হান্টার জানালেন, চামড়ার পাশাপাশি এখানে এজ লাইক লেদার, সিনথেটিক ও প্লাস্টিক ফেব্রিকস’র জুতার চাহিদা রয়েছে। তাই মেলায় ৫ শতাধিক রকমের ফেব্রিকস নিয়ে এসেছেন। কেমিক্যাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘জং বু’ ও বিক্রয়কর্মী জানান, বিশ্বখ্যাত ব্রান্ড রিবোক, পুমা ও নাইকর মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন ব্রান্ড তৈরি হচ্ছে। যারা বিদেশে পন্য রফতানি করে। এমএএফ, বে, এপেক্স, গোল্ডেন মুন ও টিম্বার ল্যান্ড অন্যতম। তারা এ ধরনের প্রায় ব্রান্ডের কেমিক্যাল সরবরাহ করে থাকেন। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছর ১২১ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ডলার এ খাতের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।