২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এখনও সঞ্চয়মুখী সাধারণ মানুষ

  • পর্দা নামল পাঁচদিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আমানতে সুদের হার কমলেও এখনও সঞ্চয়মুখী সাধারণ মানুষ। কোন ব্যাংকে সঞ্চয় করলে মুনাফা কেমন হবে, তা জানতে আগ্রহ বেশি সব শ্রেণী-পেশার মানুষের। নিয়মিত সুদ বা মুনাফাভিত্তিক প্রকল্পের তুলনায় ভিন্নধর্মী আমানত প্রকল্পে বেশি আগ্রহী দর্শনার্থীরা। এজন্য ব্যাংকগুলো প্রচলিত বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেছে গ্রাহকদের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত উপমহাদেশের প্রথম ব্যাংকিং মেলার শেষদিনের চিত্র ছিল এটি। পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। এসব দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যাই ছিল বেশি। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ মেলার প্রতিটি স্টলই যেন ছোট-বড় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও অন্যান্য দর্শনার্থীদের আগ্রহের বিষয় ছিল আমানত ও সঞ্চয় প্রকল্প।

শনিরার মেলা ঘুরে জানা গেছে, গাড়ি-বাড়ি ছাড়াও এসএমই ঋণ, ব্যক্তি ঋণ (পারসোনাল লোন), ডিপিএস স্কিম ও এফডিআরের সুদের হার এবং ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া জানতে মেলার স্টলগুলোতে ভিড় করেছেন সরকারী- বেসরকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দর্শনার্থীরা। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং, বিভিন্ন কর্ডের মাধ্যমে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সম্পর্কেও জানতে চাচ্ছেন গ্রাহকরা। মেলার প্রধান সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, আমরা যেটুক আশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি সারা পেয়েছি, পাচ্ছি। এটা একটা মাইলফলক। আশাকরি যেটা শুরু হলো, এটা চলতেই থাকবে। সারাদেশব্যাপী এটা করা যায় কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করব। বেসরকারী ব্যাংকের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি সেবা দিয়ে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল)। ব্যাংকিং মেলাতে ডাবল বেনিফিট এ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড থেকে ক্যাশ টাকা তোলার বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে এনবিএল। এছাড়া ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প নিয়ে এসেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, তৃণমূলে আর্থিক সেবা বঞ্চিত ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জামানতবিহীন ঋণ দিয়ে আসছে ন্যাশনাল ব্যাংক। অন্যদিকে, ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বা এর গুণিতক যে কোন পরিমাণের টাকা রেখে ১০ বছর ৬ মাসে তিনগুণ এবং ৬ বছর ৯ মাসে দ্বিগুণ (প্রাক্কলিত) অর্থ দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। ৭ ধরনের আমানত প্রকল্প মেলায় নিয়ে এসেছে বেসরকারী ন্যাশনাল ব্যাংক। এসব প্রকল্পের মধ্যে ডাবল বেনিফিট এ্যাকাউন্ট আগত দর্শকরা বেশি পছন্দ করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। এখানে এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে যে কোন অঙ্কের টাকা রেখে গ্রাহক ৭ বছরে পাবেন দ্বিগুণ। সঙ্গে রয়েছে ফ্রি জীবনবীমা সুবিধা। এছাড়া মিলিয়নেয়ার ডিপোজিট স্কিমেও বেশ আগ্রহ রয়েছে। ৫, ৭ ও ১০ বছর মেয়াদি কিস্তিভিত্তিক এই সঞ্চয় প্রকল্পে যে মেয়াদেই টাকা রাখা হোক, মেয়াদ শেষে গ্রাহকরা পাবেন ১০ লাখ টাকা।

প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়ার এক্সিকিউটিভ অফিসার শরীফ হোসেন বলেন, মেলাতে তারা গ্রাহকদের সামনে তাদের ব্যাংকের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে পেরেছেন। অনেক গ্রাহক হিসাব খোলার ফরম নিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মধুমতি পাঠশালা’ নামে স্কুল ব্যাংকিং এবং তরুণদের জন্য ‘মধুমতি তারুণ্য’ নামে নতুন সঞ্চয়ী হিসাব চালু করেছে মধুমতি ব্যাংক। মেলায় তারা নতুন পণ্যের পাশাপাশি পুরনোগুলোও প্রদর্শন করছেন। তাদের সঞ্চয়ী ও ভোক্তা ঋণের প্রকল্পগুলোয় গ্রাহকদের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানান ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মীর সাফায়াত নেওয়াজ। মুদারাবা হাউজিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করতে ব্যাংকটি নিয়ে এসেছে ‘এক্সিম স্বপ্ন’ প্রকল্প। এছাড়া কৃষকের ভবিষ্যত গড়তে এক্সিম ব্যাংক চালু করেছে মুদারাবা কৃষি মাসিক সঞ্চয়ী আমানত প্রকল্প।

ব্যাংকটির যে কোন শাখা থেকে ন্যূনতম ৫০ টাকা দিয়ে এই হিসাব খোলা যাবে। স্টলের দায়িত্বরত ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ছুটির দিন ও শেষ দিন বলে সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের বেশিরভাগই সঞ্চয়প্রকল্প নিয়ে জানতে চেয়েছেন। গাড়ি ও বাড়ি লোনের বিষয়ে আগ্রহ ছিল অনেক বেশি।