২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশ কমে গেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ একদিকে ডলার শক্তিশালী; অন্যদিকে সরবরাহ বৃদ্ধি- দিন দিন বিশ্ব বাজারে জ্বালানি খাতকে অস্থির করে তুলছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। শনিবার মার্কেটওয়াচ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বাজারে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা; কিন্তু ঘটছে তার উল্টোটা। রাজনৈতিক বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এ অঞ্চলে তেল উত্তোলন বেড়ে চলেছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যটির দামে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ভুল তথ্যে শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কারণেও পণ্যটির দামে চাপ পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে এদিন ডিসেম্বরে ডেলিভারি হতে যাওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ১.২৭ ডলার বা ৩.২ শতাংশ কমে ৪১.৭১ ডলারে বিক্রি হয়। আর লন্ডনে ব্যারেলপ্রতি উন্নতমানের অপরিশোধিত জ্বালানি ১.২৭ ডলার কমে ৪৫.৪৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল মূলত ডলারে লেনদেন হয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জে ডলারের দাম প্রধান প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ০.২ শতাংশ বেড়ে যায়। খবরে বলা হয়, সিরিয়া সীমান্তে তুরস্ক যুদ্ধবিমান রাশিয়ার যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করার পর তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা টেনে তোলে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তেলের অতিরিক্ত উত্তোলন এই প্রবণতাকে বেশিদিন স্থায়ী হতে দেয়নি। সপ্তাহ ব্যবধানে পণ্যটির দাম মাত্র .৬ শতাংশ কমেছে।

মাইকেল উইটনার নামে একজন অর্থনীতিবিদ জানান, তেল উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা, সৌদি আরব ও ইরাকের সরবরাহ বৃদ্ধি আগামী বছরেও বিদ্যমান থাকবে। আর এমনটি হলে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সৌদি অথবা ওপেকের তেল উত্তোলন নীতিতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসলে তেল বাজারের এই অবস্থান ঘুরে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনেও ব্যারেলপ্রতি জালানি তেল বিক্রি হয়েছে ১০৭ ডলার। এরপর যতই দিন যেতে থাকে ততই কমতে থাকে তেলের দাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা এসে দাঁড়ায় ৪৬ ডলার। কিন্তু পরবর্তীতে তা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ ডলার বা তার কাছাকাছি। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারে নেমে যেতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্ববাজারে এক লিটার তেলের দাম দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮-১০ টাকা।