১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপগঞ্জে বকেয়া দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ॥ মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২৮ নবেম্বর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকার টিআন টি সার্ট নামে একটি কারখানায় শ্রমিকদের মাঝে এ অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, যাত্রামুড়া এলাকার টিআন টি সার্ট কোম্পানি নামে একটি পোশাক কারখানায় ৩ শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। বিভিন্ন কারণে বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে ওই কারখানা থেকে শতাধিক শ্রমিককে বের করে দেয়া হয়। পরে মালিকপক্ষের কাছে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানালে মালিকপক্ষ দেই দিচ্ছি করে কয়েক দিন ধরে ঘুরাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে মালিকপক্ষের কাছে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে শ্রমিকরা তাদের ৩ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানালে মালিকপক্ষ বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীসাধারণ।

শ্রমিক জলিলুর রহমান, জুয়েল মিয়া, মোজাম্মেল হোসেন, রানী আক্তার, আয়েশা বেগম, জিয়াসমিন আক্তারসহ আরও অনেকেই জানান, মালিকপক্ষের চাপে কারখানা থেকে বিতারিত হয়ে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে শ্রমিকরা মুদিমনোহরী মালামালের বাকি টাকা ও ঘর ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে শ্রমিকরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আশুলিয়ায় ৫০ শ্রমিককে ছাঁটাই ॥ কর্মবিরতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার থেকে জানান, কারখানার ভেতরে উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন করার অভিযোগে আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার ৫০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে অন্যান্য শ্রমিকরা আবারো কর্মবিরতি পালন করে। শনিবার সকালে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের আশুলিয়া থানাধীন ‘বেরণ’ এলাকার ‘ফ্যাশন ক্রাফট নীট ওয়্যার লিমিটেড’ নামক পোশাক কারখানার ৫০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে কারখানার প্রধান ফটকে নোটিস টাঙ্গিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ২২ নবেম্বর ওই পোশাক কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কারখানায় প্রবেশ করে উৎপাদন বন্ধ রেখে প্রতি মাসে ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, অবৈধভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, শ্রমিক নির্যাতন ও মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। মালিকপক্ষ সমাধানে না এসে কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরদিন ২৩ নবেম্বর কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। শ্রমিকরা ওই দিন সকালে কারখানায় এসে বন্ধের নোটিস দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ২৫ নবেম্বর শ্রমিকরা কারখানার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। ২৬ নবেম্বর কারখানা খুলে দেয়াসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন করে কারখানার শ্রমিকরা। পরে শনিবার সকালে মালিক পক্ষ কারখানা খুলে দেয় ও ৫০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে কারখানার প্রধান ফটকে নোটিস টাঙ্গিয়ে দেয়।