২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাবনায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২৮ নবেম্বর ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আমজাদ হোসেনের স্বীকৃতির দাবিতে ৪৪ বছর পর স্ত্রী ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেওয়া প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শুক্রবার ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন সুফিয়া বেওয়া জানিয়েছেন, স্বামী আমজাদ হোসেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু শহীদদের তালিকায় তার নাম নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমজাদ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নাচোল স্টেশনে রিলিভিং বুকিং ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন। সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে উঠলে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল পাকিস্তান সরকারের চাকরি ত্যাগ করে তিনি সঙ্গীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অধিকতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে রহনপুর-সিঙ্গাবাদ সীমান্ত হয়ে ভারত গমনের জন্য একটি ট্রেনে উঠে বসেন। এক উর্দুভাষী টিটি বিষয়টি জানতে পেরে ফ্ল্যাটফরমে তল্লাশিরত পাকহানাদার বাহিনীকে বলে দেয়। তখন হানাদার বাহিনী আমজাদ হোসেন ও তার সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সবাইকে ধরে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের লাশ কোথায় ফেলে দেয় আজও তা জানা যায়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে আমজাদ হোসেনকে স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ ঘোষণা করে সমবেদনা জানিয়ে তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠি লিখেন যার নং প্রত্রাক/৬-৪-৭২সিডি/৩১৬ তাং ১৬/০২/৭৩। সুফিয়া খাতুন নাচোল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার চৈতন বর্মার স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র প্রদর্শন করে বলেন, আমজাদ হোসেন ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমিক অথচ তাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তিনি কয়েকবার আবেদন করেছেন কিন্তু আর্থিক দাবি মেটাতে না পারায় ভাঙ্গুড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোকছেদ আলী তাকেব কোনো প্রত্যয়ন দেননি বরং বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত চিঠিটাও তিনি ছুড়ে ফেলে দেন। পঁচাত্তর বছর বয়সের বিধবা সুফিয়া খাতুন জানান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর সম্মানে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ পর্যন্ত করেননি। দুই সন্তানকে নিয়ে ৪৪ বছর পার করেছেন। তাই বৃদ্ধা বয়সে দেশপ্রেমিক স্বামীর উপযুক্ত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া খাতুনের ছেলে সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আলীও বক্তব্য রাখেন।

না’গঞ্জে শিশু হাফছা হত্যা ॥ আরও দুই আসামি আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ, ২৮ নবেম্বর ॥ আড়াইহাজারের শিশু হাফছা আক্তার রূপা (৫) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতে ৬ জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত হাফছার মা লিপি বেগম বাদী হয়ে অপহরণকারী সুমনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ শনিবার সকালে মামুন (১৫) ও শফিকুল (১৮) নামে আরও দু’ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ পর্যন্ত হাফছা হত্যা ও অপহরণের ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার মূল আসামি সুমন এখনও গ্রেফতার হয়নি। শিশু হাফছা আক্তার রূপা হত্যার ঘটনায় আড়াইহাজারে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গিরদা নজরুল ইসলাম বাবু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্রী ও উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের গিরদা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী হযরত আলীর একমাত্র শিশু কন্যা হাফছা আক্তার রূপাকে অপহরণ করে সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হাফছাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।