২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চুয়াডাঙ্গায় সরব আ’লীগ, দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিএনপি

রাজীব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা ॥ পৌর নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। আর নির্দলীয় হবে কাউন্সিলর। তাই এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সর্বমহলে চলছে নানান হিসাবনিকাশ। চলছে আলোচনা-সমলোচনা। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সরব থাকলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা না থাকায় প্রার্থীরা প্রচারণা বা গণসংযোগ শুরু করেনি। মেয়রপ্রার্থীরা যোগাযোগ করছেন দলের হাইকমান্ডের সমর্থন আদায়ের জন্য। এ কারণেই তারা এখনই মাঠে নামছেন না বলে শোনা যাচ্ছে। দলীয় প্রতীকে ভোটের সিদ্ধান্তের পর জেলার চারটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেকেই পদ থেকে সরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নামতে পারে বলে ইতোমধ্যে আলামত পাওয়া গেছে। এদিকে জেলা সদর পৌরসভার মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও বাকি তিনটি পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ৭ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি। এ তিনটি পৌরসভার মেয়াদ পূর্তির আগেই তফসিল ঘোষণা হওয়ায় নড়ে চড়ে বসেছে প্রার্থী ও ভোটাররা। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান ও হাটে-বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা জমিয়ে তুলেছেন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা ও জীবননগর পৌরসভার সবটিতে নারী ভোটার বেশি হওয়ায় ঘরে-বাইরে হিসাব কষছেন প্রার্থীরা। তবে এবার নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য ও পেশীশক্তির প্রদর্শন হবে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। চুুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভায় সম্ভাব্য চার হেভিওয়েট মেয়রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মিষ্টভাষী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাতীয় সংসদের হুইপ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ছোট ভাই। তার রাজনৈতিক পদ-পদবী না থাকলেও তিনি দলীয় কর্মকা-ে সর্বত্র সরব। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি একটানা আট বছর দায়িত্ব পালন করছেন। এবারও মেয়রপ্রার্থী টোটন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেনÑ এমনটিই দৃঢ়প্রত্যাশা তার। আওয়ামী লীগের টিকেটপ্রত্যাশী নতুন মুখ জেলা যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুও আছেন আলোচনার শীর্ষে। গত ১৬ নবেম্বর চুয়াডাঙ্গায় যুবলীগ কর্মী আজিজুল ইসলাম খুন হওয়ায় জিপুর সব হিসাবনিকাশ ওলটপালট হয়ে যায়। ১৭ নবেম্বর জিপুকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই দিনই জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ফলে জিপুর মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এদিকে ২৪ নবেম্বর ৩১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে হত্যার ঘটনায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মী বুদো। এ মামলায় মেয়র টোটনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর মধ্যেই মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উভায় পক্ষের লোকজনের দাবি। জেলা বিএনপির দুই যুগ্মআহ্বায়ক খন্দকার আবদুল জব্বার সোনা ও মজিবুল হক মালিক মজুর মধ্যে যে কেউ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদপ্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে খন্দকার আবদুল জব্বার সোনা বর্তমান মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের সহোদর সফিকুল ইসলাম বদাও মেয়রপ্রার্থী হতে পারেন বলে বিএনপির কেউ কেউ জানান। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির জেলা জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরকার হাসিবুল ইসলাম মাসুদ দলীয় মনোনয়ন পেলে মেয়রপ্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ফারুক উদ্দিন আহমেদ। এবারও তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর কোন প্রার্থীর নামধাম জানা যাচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৬০ হাজার ৩৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ হাজার ৩২৬ ও নারী ভোটার ৩০ হাজার ৭১১।

আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়রপদে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজনের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আওরঙ্গজেব মোল্লা টিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুইবার নির্বাচিত পৌর মেয়র হাসান কাদির গণু ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মুসা। আওয়ামী লীগের বাইরে জাসদের এক ও বিএনপির একজন শক্তিশালী প্রার্থী নির্বাচনী যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। বর্তমান মেয়র মীর মহিউদ্দীন পর পর দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে স্বপদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তিনি এবারও বিএনপি দলীয় প্রার্থী। পৌরসভার আরেকজন সাবেক চেয়ারম্যান জাসদ (ইনু) চুয়াডাঙ্গা জেলা আহ্বায়ক সবেদ আলীও সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী। এছাড়াও বিএনপির আনিসুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার ভোটার ২৩ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২৭৪ জন, নারী ১১ হাজার ৮১২ জন।

উপজেলা সদর দামুড়হুদা হলেও পৌরসভার মর্যাদা পেয়েছে শিল্পনগরী দর্শনা। ১৯৯১ সালের ২৭ নবেম্বর দর্শনাকে পৌরসভায় রূপ দেয়া হয়। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পৌর নির্বাচন। সেবার নির্বাচিত হন প্রয়াত আক্তারুল ইসলাম আক্তার। তারপর মতিয়ার রহমান এবং সর্বশেষ মেয়র মহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হন ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি। সেই হিসাবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আগেভাগে তফসিল ঘোষণা করায় দর্শনা পৌরসভায় মেয়রপদে লড়তে ৬ জন প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপির ৩ জন, আওয়ামী লীগের ২ জন ও জামায়াতের ১ জন। আওয়ামী লীগ থেকে দর্শনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গাÑ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের সহোদর আলী মুনসুর বাবু মেয়রপদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র মহিদুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাহারুল ইসলাম মাস্টার ও সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া জামায়াত আলী আশকারের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে। ছোট্ট এ পৌরসভায় মোট ভোটার ২৪ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৯৫৯ জন, নারী ১২ হাজার ৫৪ জন। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের কাউকেই তেমন প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন স্থানে সেঁটে দিয়েছেন। জীবননগর পৌরসভায় মেয়রপদে ৯ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ জন প্রার্থী ভোটের লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন ভোটাররা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫ জন, বিএনপির ২ জন, জামায়াতের ১ জন ও নাগরিক কমিটির একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।