২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম আ’লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত এ মাসেই

আহমেদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামের গ্রামে-গঞ্জে এখন উৎসবের আমেজ। পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। কোন দল থেকে কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে, অতীতে কোন নেতা তাদের পাশে ছিল, কাকে ভোট দিলে পৌরসভার উন্নয়ন হবে, কোন প্রার্থী জয়ী হলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ অপরাধ দমনে কোন প্রার্থী ভূমিকা রাখতে পারবে এসব নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শুধু তাই নয়, কোন নেতা কার পক্ষে কাজ করছে, কোন প্রার্থীর সঙ্গে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে এসব বিষয় নিয়েও চায়ের কাপে ঝড় তুলছে পৌর নাগরিকরা। পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা চললেও তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা জোরেশোরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পোস্টার সাঁটানোর পাশাপাশি টাঙিয়েছে ডিজিটাল ব্যানারও। প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে নেই বিএনপি প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও বিএনপি প্রার্থীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেক আগেই প্রচারণা নেমেছে। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ হলেও চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নিষ্প্রভ দেখা গেছে।

অপরদিকে মনোনয়নপত্র বিতরণের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্রার্থীদের মধ্যে। প্রথম দিনে চট্টগ্রাম জেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে সাত, কাউন্সিলর পদে ১৫৫ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। এ সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার আব্দুল বাতেন বলেন, মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিন থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। প্রথম দিনে সাত মেয়র প্রার্থীসহ ১৯০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীরা ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। এদিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন দলই নিজেদের মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঠিক করতে পারেনি। তবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে ৩০ নবেম্বরের মধ্যে প্রার্থী নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

দাউদকান্দিতে নির্বাচনী আমেজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দাউদকান্দি, ২৮ নবেম্বর ॥ পৌরসভার নির্বাচন ঘিরে দাউদকান্দিতে প্রার্থী ,সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। পাশাপাশি দলীয় প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে দাউদকান্দি পৌরসভা মেয়র প্রার্থীদের। তবে নির্বাচন কমিশন কাউন্সিলদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান না রাখায় কাউন্সিলরা দলীয় সমর্থনের আশায় নেতাদের ধারে ধারে ঘুরছে। দাউদকান্দি ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামের চায়ের দোকান, পাড়া ও মহল্লায় নির্বাচনী আমেজ বইছে। পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে মাঠে থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা অনেক বেশি হলে ও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ৩-৪ জনের বেশি নয়। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আহসান হাবীব চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক ব্যবসায়ী শাহজাহান, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন সিকদার, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহজাহান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ জামিল বাবুর ছেলে নাঈম ইউসুফ সেইন ও বর্তমান পৌর মেয়র বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী ভিপি হাজি আব্দুছ ছাত্তার।

বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি সহসভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কে এম আই খলিল, দাউদকান্দি পৌর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম সরকার ও পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী আইরিন সরকার এবং জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের নেতা জিসান উদ্দিন জিসানের নাম শোনা যাচ্ছে।