২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কতটুকু এগিয়েছে মঞ্চ নাটক ॥ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন দিবস আজ

সাজু আহমেদ ॥ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের ৩৫ বছর পূর্তি আজ। বাংলাদেশের মঞ্চ নাট্যদলগুলোর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনকে বিকশিত করার প্রত্যয়ে ১৯৮০ সালের ২৯ নবেম্বর গঠিত হয়েছিল এই ফেডারেশান। কিন্ত স্বাধীনতার ১০ বছর পরে গঠিত এই সংগঠনটি বাংলাদেশের নাট্য প্রকৃতি এবং দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে কতটা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। তবে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে নাট্য আন্দোলনের গতি বাড়লেও এর উদ্দেশ্য ও লক্ষে খুব একটা এগোতে পারেনি । বিশেষ করে দেশব্যাপী মঞ্চ নাটকে প্রসার ও প্রচারে প্রত্যাশা অনুযায়ি ভূমিকা রাখতে পারেনি গ্রুপ থিয়েটার। ফেডারেশন গঠনের ৩৫ বছর অতিক্রম করলেও নাট্যচর্চা পেশাদারিত্বতো আসেইনি বরং নাট্যচর্চার গন্ডি অনেকটা কেবল ঢাকার মধ্যেই সীমাবব্ধ রয়ে গেছে। জেলা ভিত্তিক কতিপয় সংগঠন গাটের পয়সা খরচ করে নামকা ওয়াস্তে নাট্যচর্চা চালিয়ে গেলেও মফস্বলে এর ব্যাপ্তী নাই বললেও চলে। মফস্বলতো দুরের কথা জেলা শহর এমনকি খোদ ঢাকা শহরেরও দুএকটি দল ছাড়া বেশিরভাগ নাট্যদলের নাটক মঞ্চায়নে দর্শক সংকট বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নাটক মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে ছোট দলগুলো বরাবরই অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। নাটক মঞ্চায়নের জন্য একমাত্র মাধ্যম শিল্পকলা একাডেমির তিনটি হল বড় বড় দলগুলো ফেডারেশনের নেতৃত্বে প্রতি মাসেই ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ছোট দলগুলো তিন মাস চার মাস এমনকি বছরেও হল বরাদ্দ পায়না। ফেডারেশনের হস্তক্ষেপেও এমন বৈষম্য কমানো যায়নি। অথচ বাংলাদেশের নাট্যচর্চা তথা সাংষ্কৃতিক আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে আসছে ফেডারেশন। মঞ্চ সংকট, দর্শক সংকট নিরসনে কার্যকর কোন ভূমিকা চোখে পরছে না। যদিও ফেডারেশনের কর্তারা এ বিষয়টি মানতে নারাজ। নানা অভিযোগ আর সমালোচনা সত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে তারুন্য নির্ভর এ সংগঠনটির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। যদিও স্বাধীনতার ৪২ বছরেও বাংলাদেশের বাংলা নাটকের নিজস্ব আঙ্গিক পুনরুদ্ধার তথা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। এখনও বেশিরভাগ নাট্যদলই ইউরোপিয়ান তথা প্রসেনিয়াম মঞ্চেই নাটক মঞ্চায়ন করছে। অথচ বলা হচ্ছে বাংলাদেশের নাটকের মান বিশ্বমানের। যেখানে দেশের নিজস্ব নাট্য আঙ্গিককে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি সেখানে বিশ্বমানের নাটক নিয়ে গর্ব করা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটাও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে বলে মনে করেন নাট্য সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কাছে যথাযথ উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় থাকবে আনন্দ শোভাযাত্রা। টিএসসি থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হবে শোভাযাত্রা।

এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আরও উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের সাবেক চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি জেনারেল রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, সারা যাকের, ম হামিদ, দেব প্রসাদ দেবনাথ ও ঝুনা চৌধুরী। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করবেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন আকতারুজ্জামান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ৪টি নাট্যদল- নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, থিয়েটার বেইলী রোড, আরণ্যক নাট্যদল, ঢাকা থিয়েটারের নাটকের অংশ বিশেষ প্রদর্শন করবে।

ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের তিন যুগ পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচী ২৯ নবেম্বর ‘গ্রুপ থিয়েটার দিবস’ উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে।