২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাজীপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ২২ ইউ-লুপ হবে

  • যানজট ৩০ ভাগ কমবে ॥ আশা মেয়র আনিসুলের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর যানজট কমাতে গাজীপুর থেকে মহাখালী হয়ে হাতিরঝিল সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত ২২ ইউ-লুপ স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। গাজীপুরের তেলিয়াপাড়া হতে ইউ-লুপগুলো তৈরির কাজ শুরু হয়ে তা প্রয়োজনে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা পর্যন্ত করা হবে। তবে প্রয়োজনে কাওরানবাজার পর্যন্ত বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা করছে ডিএনসিসি। এতে করে রাজধানীর যানজট বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫০ কোটি টাকারও কম খরচ হবে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকার যানজট নিরসনকল্পে ইউলুপ স্থাপন প্রসঙ্গে ডিএনসিসি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র আনিসুল হক এ কথা জানান। সিগনাল ফ্রি ভেহিকেল মুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এসব ইউলুপ তৈরি করা হবে।

মেয়র বলেন, জমি প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। গাজীপুর থেকে মহাখালী হয়ে হাতিরঝিল সাতরাস্তা পর্যন্ত এই ৩০ কিলোমিটার সড়কে মোট ২২টি ইউলুপ স্থাপন করা হবে। এ জন্য বর্তমানের ৬৯টি ইউটার্ন বন্ধ করা হবে। এগুলো স্থাপিত হলে রাজধানীর বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে। এ প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তীতে বর্তমান যানজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডিএনসিসি। মেয়র বলেন, যানজট নিরসন করা আমার আওতাভুক্ত বিষয় নয় কিন্তু সরকার চায় রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে ফলে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা অবস্থান নিয়েছি। এটি ক্লিন ঢাকা ও গ্রীন ঢাকা কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত একটি পদক্ষেপ। তাছাড়া যানজট কমাতে আমরা কাওরানবাজারের দখলদার কমিয়েছি, তেজগাঁওয়ের অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরিয়েছি। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করেছি। যার সুফল নাগরিকরা ইতোমধ্যেই পাচ্ছেন।

ইউলুপের উপকারিতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, রাজধানীর বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট। একটি ১০ মিনিটের রাইটটার্ন ৩ ঘণ্টার যানজট কমাবে। ফলে কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি নাগরিকদের কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫০ কোটি টাকারও কম খরচ হবে। এটি বাস্তবায়নে ডিএনসিসির ২২টি শাখাকে কাজ করতে হবে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে সবচেয়ে বড় ইউলুপ তৈরি করা হবে এছাড়া বনানী ক্রসিংয়ে ডাবল ইউলুপ তৈরি করা হবে। ইউলুপ হচ্ছে কম সময়ে যানজট সমস্যা সমাধানের অন্যতম একটি উদ্যোগ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজট নিরসনের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ও আগ্রহ রয়েছে। এটি এখন জাতীয় দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। আমি নিজেও যানজটে পড়লে আটকে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাই কষ্ট কি বুঝি। বর্তমানে অনেকেই যানজট দেখে ভিআইপি বা ভিভিআইপি সেজে বা ভুয়া এমপি, সাংবাদিকের স্টিকার লাগিয়ে রাস্তার উল্টোদিকে চলেন। যা যানজটকে আরও বাড়িয়ে দেন। ইউলুপের মাধ্যমে সহজেই যানজট কমে আসবে। তবে পথচারীদের জন্য রাখা ফুটপাথকে ব্যবহারের জন্য জায়গা ছাড়তে হবে। নাগরিকগণকে ফুটপাথে চলতে সুযোগ না দিয়ে দখল করে রেখে চলতে না দেয়ায় বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নামছেন। ফলে যানজট আর জনজট এক হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনে ছোট ছোট যান বিশেষ করে অবৈধ রিক্সা ও ব্যাটারিচালিত গিয়ার ও ব্রেক ছাড়া রিক্সা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাজের উন্নতিকল্পে বড় নেতা ছোট নেতা বা আধুনিক নেতা না হয়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী হতে হবে। নেতা তো একমাত্র শেখ হাসিনাই। অন্য কেউ নন। তাই কর্মী হোন সবাই। তবেই যানজটের মতো সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী বলেন, যানজট আমার মূল বিষয় কিন্তু সমস্যা সমাধানে ও জনস্বার্থে সরকারের যে কোন বিভাগের জমিই হোক তা দিতে হবে। ইউলুপ নির্মাণের সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের জমি প্রদান করবে।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বিআরটি এর কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া জনস্বার্থে যে কোন নতুন পদক্ষেপে পূর্বের যে কোন উদ্যোগ বাদ দিতে বা স্থাপনা ভাঙ্গার প্রয়োজন হলে তা করতে হবে। কারণ উন্নয়ন তো মানুষের স্বার্থেই। সময়ের প্রয়োজনে নতুন করে পরিকল্পনা করা হবে। জনস্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে বা যোগাযোগের স্বার্থে ইউলুপসহ যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে দেশে ও সমাজে ভাল কথা বলার লোক বেশি আর ভাল কাজের লোক কম। তাই ভাল কথা কম বলে বেশি ভাল কাজের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

সেমিনারে তুলে ধরা হয়, এ এবং বি ২ ডিজাইনের ইউলুপ তৈরি করা হবে। এ টাইপের ইউলুপে বড় ও ছোট গাড়ি চলাচল করবে আর বি টাইপের ইউলুপে শুধুমাত্র ছোট গাড়ি চলাচল করবে। এ টাইপে ১৪৪ ফুট ও বি টাইপে ১০৮ ফুট প্রশস্ত করে তৈরি করা হবে। একটি ইউলুপ থেকে আরেকটি ইউলুপের দূরত্ব কমপক্ষে ৮০০ ফুট আর সর্বোচ্চ দূরত্ব হবে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। গড়ে যা দাঁড়ায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটারে। ২২টি ইউলুপ তৈরিতে মোট ৩৭ দশমিক ৯ বিঘা জমির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সেতু ভবনের জমি ও আরেকটি জমি ছাড়া বাকি সকল জমিই বর্তমানে খালি রয়েছে। ব্যবহৃত জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা আর বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি ১ দশমিক ৬১ বিঘা। এছাড়া সিভিল এ্যাভিয়েশনের জমি ১ দশমিক ৮৩ বিঘা। তবে নতুন করে কোনপ্রকার জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। ফলে ব্যয় অনেক কম হবে। ইউলুপ তৈরিতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরিতে কোন প্রকার বাধার তৈরি হবে না।

ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামূল হক পরিবহন প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কামরুল আহসান, বিশেষজ্ঞ ড. সালাউদ্দীন আহমেদ, নগর বিশেষজ্ঞ তানভীর নেওয়াজ প্রমুখ।