২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্ধেকের বেশি পৌরসভায় বিজয়ী হওয়া বিএনপির টার্গেট

শরীফুল ইসলাম ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ের ফসল ঘরে তুলতে নানামুখী কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে সরকারকে চাপে রেখে সুবিধা আদায় করতে ইতোমধ্যেই কিছু শর্ত দিয়েছে দলটি। এবার প্রতিটি পৌরসভায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেয়া হচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির টার্গেট ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ২৩৬টি পৌরসভার মধ্যে অর্ধেকের বেশি পৌরসভায় বিজয়। আর এর মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে চায় রাজনৈতিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি। এদিকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকা- চোখে না পড়লেও ভেতরে ভেতরে তৃণমূল পর্যায় থেকে খোঁজখবর নিয়ে বেশ আগে থেকেই পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ২৩৬টি পৌরসভার মধ্যে অধিকাংশ পৌরসভায়ই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এর মধ্যে জোটের শরিক দলগুলো ৫০টি পৌরসভায় তাদের মেয়র প্রার্থী দাবি করলেও বিএনপি চেয়ারপার্সন ১০ থেকে ১২টির বেশি দিতে চাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। তবে শরিকদের যে কটিই দেয়া হোক না কেন তা বাদ দিয়ে সবগুলো পৌরসভাতেই আজকালের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ক্ষমতা দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানকে দিয়েছেন। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও নির্বাচন কমিশনে দিয়েছেন।

জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার আগেই সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের কাজ করতে গিয়ে বিএনপি নেতারা প্রতিটি পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য নাম সংগ্রহ করেন। খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর তাকে দেখিয়ে খসড়া তালিকা ঠিক করা হয়। এতে কারাবন্দী ক’জন স্থানীয় নেতার নামও আছে। তবে নির্বাচনের আগেই তাদের মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সহায়তা চাবেন।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য যে সকল শর্ত দেন তার মধ্যে রয়েছে ভোট গ্রহণের সময় ১৫ দিন পিছিয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি ও গণগ্রেফতার বন্ধ করা, যেসব পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে সেগুলোর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা। এছাড়া ২ জানুয়ারি থেকে নতুন ভোটার তালিকায় সংযুক্ত হওয়া ৫০ লাখ ভোটারকে আসন্ন পৌর নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ দেয়া এবং সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা।

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানকে দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যয়নের ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এতে মোহাম্মদ শাহজাহানের তিনটি নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সারাদেশে বিএনপির জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থীর জন্য মোহাম্মদ শাহজাহানের প্রত্যয়নপত্র নিতে বলা হয়েছে। তিনি যাকে যে পৌরসভায় প্রত্যয়ন করবেন তিনিই বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ পাবেন।

সূত্র মতে, আগস্ট মাসে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এবার পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে নির্দেশ দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এরপর খালেদা জিয়ার এ নির্দেশনা সারাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা নেতাদের কাছেও পৌঁছে দেয়া হয়। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট কমিটি পুনর্গঠনকালেই পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ের কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রথমে বলেন, এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাবেন না তারা। এক পর্যায়ে এ অবস্থান থেকে সরে এসে তারা বলেন, পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কি না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। এরপর সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনায় পৌর নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করতে বলা হয়। কিন্তু বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয় এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এরপর ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে জোটগতভাবে নির্বাচন করার কথা বলা হয়। কিন্তু সেদিনও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয় নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না পরে জানানো হবে। আর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয় বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কিছু শর্ত মানতে হবে।

বিএনপির দেয়া শর্তগুলো নিয়ে আলাপকালে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, শর্ত পূরণ না করলেও বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাবে। কারণ, আমরা জানি সরকার ও নির্বাচন কমিশন এসব শর্ত মানবে না। তবুও যতটুকু নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রাখা যাবে ততটুকুই বিএনপি লাভবান হবে। কারণ সারাদেশে বিএনপির ভোট ব্যাংক রয়েছে। মানুষ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটদানের সুযোগ পেলে বেশিরভাগ পৌরসভাতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবে। এছাড়া নির্বাচনের আগেই এবার বিএনপি ভাল প্রার্থী বাছাই করতে সক্ষম হয়েছে।

জানা যায় খসড়া তালিকায় প্রতিটি পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য যাদের নাম রাখা হয়েছে তাদের ক্লিন ইমেজ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তবে ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অক্ষুণœ রাখতে শরিক দলগুলোকে ১০ থেকে ১২টি পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তবে শরিক দলের পক্ষ থেকে আগে খালেদা জিয়ার কাছে তাদের প্রার্থীদের নাম দিতে হবে। তিনি খোঁজখবর নিয়ে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন। তবে আইনগত জটিলতা না থাকলে শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে পারে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিকদের যে কটি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থিতা ছেড়ে দেবে তার অধিকাংশই পাবে জামায়াত। সে ক্ষেত্রে জামায়াত যেহেতু দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না তাই বিএনপি কোন এলাকায় জামায়াত সমর্থিত কোন প্রার্থীকে সমর্থন দিলে ওই প্রার্থী বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পাবে। এ জন্য ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জোটের স্থানীয় নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যে এলাকায় বিএনপি ছাড়া ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি তাদের মনোনয়ন দিতে বলা হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনায় নেতৃত্বে থাকবে বিএনপি।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির খসড়া মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মজিবুর রহমান, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, চট্টগ্রামের মীরসরাই ফকির আহমেদ, সীতাকু-ে ইউসুফ নিজামী, রাউজানে আবদুল্লাহ আল হাসান, কুমিল্লার চান্দিনায় শাহ্ মোহাম্মদ আলমগীর খান, হোমনায় আলমগীর সরকার অথবা সানাউল্লাহ সরকার, চৌদ্দগ্রামে নয়ন বাঙালি, বরুড়ায় জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, লাকসামে সুভাশ বণিক, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে এনামুল হক বাদল, কক্সবাজার সদর আজিজুর রহমান, চকরিয়ায় নূরে আলম হায়দার, লক্ষ্মীপুর সদরে শাহবুদ্দিন শাবু অথবা হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, জামালপুরের শেরপুরে ফজলুল করিম তালুকদার শাহীন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীতে চাঁন মাহমুদ, ঢাকার ধামরাইয়ে নাজমুল হাসান অভি, বগুড়া সদরে মাহবুবুর রহমান, শরীয়তপুর সদরে একেএম নাসির উদ্দিন কালু, জাজিরায় ইকবাল শিকদার, ডামুড্ডায় আলী আকবর, বরিশালের বানারীপাড়ায় মাহবুবুর রহমান মাস্টার, উজিরপুরে শহীদ হোসেন খান, বাকেরগঞ্জে মতিউর রহমান মোল্লা অথবা রাজিব আহমেদ, মেহেন্দিগঞ্জে গিয়াস উদ্দিন দীপেন, ঝালকাঠির নলসিটিতে মুজিবুর রহমান।

এছাড়া যশোরের সদরে মারুফুল ইসলাম, চৌগাছায় সেলিম রেজা, নওয়াপাড়ায় রবিউল ইসলাম, বাঘারপাড়ায় আবদুল হাই মনা, কেশবপুরে আবদুস সামাদ বিশ্বাস অথবা মশিয়ার রহমান, মনিরামপুরে এ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল, চট্টগ্রামের বারৈয়ারাহাটে জালাল আহমেদ, সিলেটের জকিগঞ্জে অধ্যাপক বদরুল হক বাদল, গোলাপগঞ্জে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন অথবা মশিকুর রহমান মহি, মৌলভীবাজার পৌরসভায় ফয়জুল করিম ময়ূন, কমলগঞ্জ পৌরসভায় আবু আহমেদ জমশেদ অথবা হাসিন আহমদ চৌধুরী, কুলাউড়া পৌরসভায় কামাল উদ্দিন জুনেদ, বড়লেখা পৌরসভায় ফখরুল ইসলাম অথবা আনোয়ারুল ইসলাম, চুনারুঘাটে নাজিম উদ্দিন সামছু, খুলনার চালনা পৌরসভায় শেখ আবদুল মান্নান, পাইকগাছায় সিরাজুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জে আবদুল মজিদ জব্বার, মংলায় মোঃ জুলফিকার আলী, সাতক্ষীরার সদর পৌরসভায় তাসকিন আহমেদ চিশতি, কলারোয়া পৌরসভায় আক্তারুল ইসলাম অথবা শফিকুল ইসলাম।

নড়াইল সদরে জুলফিকার আলী, কালিয়ায়, রংপুরের বদরগঞ্জে অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় আদম আলী, লালমনিরহাট পৌরসভায় হাফিজুর রহমান বাবলা, পাটগ্রাম পৌরসভায় মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল অথবা মোরশেদ আলম, কুড়িগ্রামে নুর ইসলাম, উলিপুর পৌরসভায় আবদুর রাজ্জাক, পঞ্চগড় পৌরসভায় তৌহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধায় এ্যাডভোকেট হামিদুল হক ছানা অথবা গাওছুল আযম ডলার, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় ফারুক আহমেদ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভায় শুকুর শেখ, নগরকান্দা পৌরসভায় আলীমুজ্জামান সেলু, রাজবাড়ী সদরে ইঞ্জিনিয়ার অর্ণব হৃসিত অথবা তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পাংশায় হাবিবুর রহমান রাজা, গোয়ালন্দে ইদ্রিস আলী অথবা আবুল কাশেম, মাদারীপুর সদরে জাহান্দার আলী জাহান অথবা মিজানুর রহমান মুরাদ, কালকিনিতে মাহাবুব হোসেন মুন্সি, শিবচরে হেমায়েত হোসেন অথবা বাকাউল করিম খান, শরীয়তপুর সদরে নাসির উদ্দিন কালু, জাজিরায় ইকবাল সিকদার, ভেদরগঞ্জে আবুল হোসেন ঢালী, নড়িয়ায় শাজাহান বেপারী, ডামুড্ডায় আলমগীর মাদবর, রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় সিরাজুল ইসলাম, নওগাঁ সদরে নাজমুল হক সানি, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আলমগীর চৌধুরী বাদশাহ, নাটোর সদরে এমদাদুল হক আল মামুন, বান্দরবান সদরে জাবেদ রেজা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নূর সাইদ, কাজীপুরে আবদুস সালাম, কিশোরগঞ্জ সদরে হাজী ইস্রাফিল, ভৈরবে হাজী মোহাম্মদ শাহীন, নরসিংদী রায়পুরায় আবদুল কুদ্দুস, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এবিএম জিলানী, রামগতিতে শাহেদ আলী পটুর নাম রয়েছে তালিকায়।

প্রসঙ্গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ও এ বছরের শুরুতে টানা ৯২ দিনব্যাপী আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে চরম বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। এ অবস্থার অবসানে নানামুখী চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি দলটি। এরপর সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিলেও আশানুরূপ সাড়া পাননি দলীয় হাইকমান্ড। ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। যাবার আগে দলের কিছু নেতাকে তিনি পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করার দায়িত্ব দিয়ে যান। লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি এ বিষয়টি নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। লন্ডন থেকে তারেক রহমানও তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের খোঁজখবর রাখেন। ভাল ফল করে রাজনৈতিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া দলটিকে গতিশীল করতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান পৌরসভা নির্বাচনের ওপর অধিক গুরুত্ব দেন। আর এ জন্যই প্রতিটি পৌরসভায় যেন ভাল প্রার্থী ঠিক করা হয় সেদিকে তীক্ষè নজর রাখেন। আর নির্বাচনে যাবার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু শর্ত দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা পৌরসভা নির্বাচনে যাব। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আমাদের নির্বাচনে যাবার সুযোগ করে দিতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থেই আমরা কটি শর্ত দিয়েছি। আমরা নির্বাচনের সময় ১৫ দিন পিছিয়ে দিতে বলেছি। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা এবং যারা নির্বাচন করতে চান তাদের মধ্যে কেউ গ্রেফতার হয়ে থাকলে তাকে মুক্তি দেয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের কথা আমরা বলে আসছি। আর তা করা হলে অধিকাংশ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে এবং সবাই বুঝতে পারবে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা দেশের সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই অংশ নিয়েছি। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও আমাদের দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। শীঘ্রই আমরা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারব। তবে সরকার ও নির্বাচনকে এ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা ভাল ফল করবে বলে আমরা আশাবাদী।

নির্বাচিত সংবাদ