২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা, বিএনপির মোঃ শাহজাহান ও জাপার এরশাদ

  • পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রত্যয়ন করবেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতা রয়েছে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই। বিএনপির পক্ষে দলের যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহানের হাতে এ ক্ষমতা অর্পণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নের ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের হাতে রাখা হয়েছে। শনিবার সংশ্লিষ্ট এসব দলের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এসব ব্যক্তির প্রত্যয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের নিকট সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ক্ষমতাপ্রাপ্তির বাইরে দলের কোন নেতার প্রত্যয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে। জাসদের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে ইসিতে দলীয় প্রধানের চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। শনিবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে এ আবেদন জানান। তবে ইসির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।

গত ২৪ নবেম্বর তফসিল ঘোষণার দিন দলের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করতে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম, পদবি ইসিতে ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার ৫ দিনের মধ্যে দলের পক্ষ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিঠি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ও তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। ইসির ঘোষণা অনুয়ায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম পদবি জমা দেয়ার শেষদিন ছিল শনিবার। এদিনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নাম ইসির উপসচিব শামসুল আলমের কাছে জমা দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের পক্ষে শনিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এবিএম রিয়াজুল কবির কায়সার ইসি সচিবালয়ে চিঠি পৌঁছে দেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শেখ হাসিনার একটি নমুনা স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠিতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় প্রার্থী প্রত্যয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের শেখ হাসিনার প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এর বাইরে অন্য কারও প্রত্যয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

পৌর নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী ঠিক করতে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি, শহর বা পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা স্থানীয় সাংসদদের পরামর্শ নিয়ে একজন মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। ৩০ নবেম্বরের মধ্যে সভানেত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। তা থেকে স্থানীয় সরকার/পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে। দলীয় চূড়ান্ত প্রার্থী শেখ হাসিনার প্রত্যয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের চূড়ন্ত প্রার্থী ঠিক করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহানকে। এ সংক্রান্ত দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একটি চিঠির অনুলিপি শনিবার সকালে ইসি কার্যালয়ে কমিশনের উপসচিব শামসুল আলমের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সই করা চিঠিতে মোঃ শাহজাহানের একটি নমুনা স্বাক্ষর রয়েছে। আর সেটি সত্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

পরে দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল পৌর নির্বাচন কমপক্ষে ১৫ দিন পেছানোসহ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। বিএনপির প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন সহ-প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভায় মেয়র নির্বাচন হবে। তাই দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যায়ন করবেন তা শনিবারের মধ্যে জানাতে দলগুলোকে সময় বেঁধে দেয় ইসি। সময়সীমার শেষ দিন বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতাবান ব্যক্তির নাম ইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়া, যৌথ বাহিনীর নামে গণগ্রেফতার বন্ধ এবং নেতাকর্মীদের মুক্তি, নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি, ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক না বানানো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৫০ লাখ ভোটারের ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন এবং এ বিষয়ে লিখিত কপি কমিশনকে দেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম ইসি সচিবালয়ে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম পদবি সংক্রান্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের চিঠি পৌঁছে দেন। এতে জাতীয় পার্টি প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতা পার্টির চেয়ারম্যানের নিজের হাতেই রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন ২৩৬টি পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেবে। তাদের প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশের ২৩৬টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম দলীয়ভাবে পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নাম পদবি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও ইসিতে জমা দিতে শনিবার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। দলীয় প্রার্থীর দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধান জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে দলের পক্ষে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলে সে দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।